জমি মাফিয়াদের কারবার নিয়ে উত্তরবঙ্গ সফরে এসে সতর্ক করে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি গ্রেফতার করা হয়েছে হিম্মত সিংহকেও। কিন্তু তার পরেও কি শিলিগুড়িতে কমেছে জমি মাফিয়াদের দাপট? এই প্রশ্নই তুলে দিয়ে গেল শনিবার দুপুরে শিলিগুড়ি থানার বাগরাকোট, মহাবীরস্থান উড়ালপুল এলাকায় দুই গোষ্ঠীর খণ্ডযুদ্ধ। পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় বাসিন্দা থেকে রাজনৈতিক নেতাদের একাংশও স্বীকার করছেন, জমির কারবার, তোলাবাজি নিয়ে এলাকায় গোলমাল থামার নাম নেই। এ দিনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে রাজু বণিক, ভীম মোহান্ত ও সম্পদ সরকারকে।

অভিযোগ, এ দিন বাগরাকোট বাজার এবং বাসস্ট্যান্ডের কাছেরই একটি ক্লাবে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় বিজয় সরকার এবং বিপুল ঘোষ নামে দুই যুবককে। আহতদের শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আঘাত গুরুতর হওয়ায় বিজয়কে রাতে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের দেহে ধারাল অস্ত্রের আঘাত মিলেছে। এলাকা থেকে ধারাল অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

বাসিন্দাদের একাংশ জানান, এ দিন হাতিমোড় এলাকা থেকে জনাকয়েক যুবককে ওই ক্লাবঘরে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করে ক্লাবেরই কিছু সদস্য। খবর পেয়ে টিকিয়াপাড়ার দিক থেকে আক্রান্ত যুবকদের গোষ্ঠীর লোকজন এসে বাগরাকোটে হামলা চালায়। দোকানপাট এবং ক্লাবটিতে যথেচ্ছ ভাঙচুর চলে। এর পাল্টা হিসেবে আবার মহাবীরস্থানের বাজারে ভাঙচুর শুরু হয়। কালীপুজোর বাজারে গোলমালের জেরে দোকান বন্ধ করে রাখেন ব্যবসায়ীরা। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাসিন্দারা।

 এই এলাকাটি শিলিগুড়ির আদালত, পুরসভা, ট্রেজারির পাশেই। লাগোয়া কলেজপাড়াতেই থাকেন রাজ্যের মন্ত্রী গৌতম দেব। মন্ত্রী বলেন, ‘‘পুলিশকে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। তোলাবাজি, জমি দখল বরদাস্ত করা হবে না।’’ আর শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (পূর্ব) গৌরব লাল বলেন, ‘‘পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। কয়েক জনকে খোঁজা হচ্ছে।’’

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দেড়েক ধরে এলাকায় জমি কারবার, তোলাবাজি নিয়ে দু’টি গোষ্ঠীর মধ্যে গোলমাল চলছেই। একটি গোষ্ঠী বাগরাকোটের, আর এক পক্ষ টিকিয়াপাড়ার। মাস দুয়েক আগেও এলাকায় তোলাবাজি নিয়ে ব্যাপক গোলমাল হয়, গুলিও চলে। মহাবীরস্থান বাজারেও তোলাবাজির অভিযোগ ওঠে।

ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর যথাযথ ব্যবস্থা নেননি। গত বছর মে মাসে উড়ালপুলের নীচে এক গোষ্ঠীর নেতা গোপাল ঘোষ খুন হন। তার পর থেকেই গোলমাল আরও বাড়ে। এ দিনের ঘটনায় আহত বিপুল গোপালের ছেলে, বিজয় ভাগ্নে।

অভিযোগ, সংলগ্ন ওই ক্লাবের কয়েক জন সদস্য প্রতিদিন বাজার থেকে তোলা আদায় করে। অন্য গোষ্ঠীও প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে।  যদিও কাউন্সিলর তৃণমূলের নিখিল সাহানি বলেন, ‘‘এখানে রাজনৈতিক ব্যাপার নেই।’’