খেলতে গিয়ে নির্মীয়মাণ  সেপটিক ট্যাঙ্কের জলে ডুবে মৃত্যু হল এক শিশুর। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকালে পুরুলিয়া সদর থানার বিবিরবাঁধ পাড়ায়। পুলিশ জানায়, মৃতের নাম মোহিত কুমার (৪)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সকালে মোহিত ও তার দিদি, বছর নয়েকের বর্ষা বাড়ির বাইরে একটি পাইপ ও বল নিয়ে খেলছিল। মোহিতের বাবা শুকদেব পেশায় টোটো চালক। সেই সময়ে তিনি বাড়িতে ছিলেন না। বর্ষাকে তার মা মৌসুমী খেলা থেকে ডেকে এনে দোকান থেকে কিছু জিনিস আনতে পাঠান। তাঁর দাবি, বর্ষা ফিরে এসে দেখতে পায় ভাই নেই। সেই কথা শুনে মৌসুমী ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ছেলের খোঁজ শুরু করেন। দেখতে পান, সেপটিক ট্যাঙ্কের জলে বলটি ভাসছে। কাছে গিয়ে দেখেন, মোহিত ডুবে রয়েছে। পড়শিরাই মোহিতের দেহ উদ্ধার করে পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা জানান, মোহিতের মৃত্যু হয়েছে।

মৌসুমীদের বাড়ির পাশে আবাস যোজনায় এক আত্মীয়ের বাড়ি তৈরি হচ্ছে। সেপটিক ট্যাঙ্কটি ওই বাড়িরই। সেখানে প্রায় ৬-৭ ফুট গভীর জল রয়েছে। নির্মাণ কাজের জন্য ওই জল জমা করা হয়েছে। মৌসুমী বলেন, ‘‘প্রায়ই বাড়ির বাইরে দুই ভাইবোন খেলা করত। কখনওই ওই ট্যাঙ্কের দিকে যেত না। কী যে হল আজ, সব শেষ হয়ে গেল।’’ এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন শুকদেব এবং মৌসুমী।

ফাঁদ: এখানেই পড়ে মৃত্যু মোহিতের। ছবি: সুজিত মাহাতো

গত বছরের শেষে কলকাতার বাঁশদ্রোণীতে একই ভাবে নির্মীয়মাণ বাড়ির খোলা সেপটিক ট্যাঙ্কে পড়ে মৃত্যু হয় অঙ্কিত ঘোষ (৭) এবং শুভ দুয়ারি (৫) নামে দুই শিশুর।  বাচ্চাদের খোঁজে এসে পড়শিরা সেপটিক ট্যাঙ্কে চটি ভাসতে দেখেছিলেন। তার পরে ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার হয় দেহ। ওই ট্যাঙ্কটি প্রায় ৮০ বর্গফুটের ছিল। জল ছিল ফুট ছয়েক গভীর। তবে পুরুলিয়ার ঘটনায় সেপটিক ট্যাঙ্কটি ফুট ছয়েক লম্বা এবং ফুট চারেক চওড়া।

কলকাতার ওই ঘটনার পরে খোলা সেপটিক ট্যাঙ্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। কিন্তু তার পরেও সরেজমিন গিয়ে দেখা গিয়েছিল, বাঁশদ্রোণীর বিভিন্ন এলাকায় নির্মীয়মাণ বহুতলের অধিকাংশই খোলা মুখ জল ভর্তি ট্যাঙ্ক। পুরুলিয়ার এই ঘটনা ফের নির্মাণ কাজে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। মোহিতের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।