বিষধর সাপে ছোবল মারা এক কিশোরীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ওঝার কাছে। সেই খবর জানতে পেরে তড়িঘড়ি তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করালেন সিআরপি জওয়ানেরা। ঘটনাটি পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের গুড়পানা গ্রামের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বেলায় বাড়ির কাছেই গরু চরাতে গিয়েছিল নীলিমা মুর্মু (১২) নামে কুইলাপাল হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। দুপুরের খাবার খেতে বাড়ি ফেরার পথে তার ডান পায়ের গোড়ালিতে ছোবল দেয় কোনও বিষধর সাপ।

বুধবার কিশোরীর বাবা সুকুমার মুর্মু বলেন, ‘‘আমি বাড়িতে ছিলাম না। খবর পেয়ে ছুটে আসি। কী করব ভেবে উঠতে পারছিলাম না। তাই চাকাডোবার এক ওঝার কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম মেয়েকে। সেখান থেকে তাকে বাড়ি নিয়ে আসি।’’

 দুপুর গড়িয়ে গেলেও ক্ষতস্থানে জ্বালা কমেনি নীলিমার। ওই সময় গুড়পানার সিআরপি ক্যাম্পে খবর যায়, সাপে কাটা এক ছাত্রীকে ওঝার কাছে নিয়ে গিয়েছিল তার পরিবার। শুনেই গাড়ি নিয়ে নীলিমার বাড়িতে আসেন ক্যাম্পের কয়েকজন জওয়ান। তারা ওই কিশোরীকে বান্দোয়ান ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। ওই ক্যাম্পের অ্যসিস্ট্যান্ট কমান্ডান্ট অমিতকুমার গুপ্ত বলেন, ‘‘খবর পেয়েই ক্যাম্পের একটি গাড়িতে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল ওই কিশোরীকে। এটা আমাদের কর্তব্য।’’

ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আধিকারিক কাজিরাম মুর্মু বলেন, ‘‘প্রথমে মেয়েটির পরিবার তাকে এক ওঝার কাছে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে কাজ না হওয়ায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। লক্ষণ দেখে বোঝা যাচ্ছে, মেয়েটিকে বিষধর সাপে কামড়েছে। অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। তাই তাকে বাইরে পাঠানো হয়েছে।’’     

সুকুমারবাবু জানান, অনেক সাপে কাটা রোগী ওই ওঝার চিকিৎসায় ভাল হয়ে উঠেছে বলে তিনি শুনেছিলেন। তাই মেয়েকে ওঝার কাছে নিয়ে যান। স্কুলের হস্টেলেই থাকে নিলিমা। দিন কয়েক আগে পুজোর ছুটিতে সে বাড়ি এসেছে।