বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর মৃত্যু দিবসে যথাযোগ্য মযার্দায় এই বীর শহিদকে স্মরণ করা হল  দুই জেলার নানা জায়গায়। মঙ্গলবার অনুষ্ঠান হয় পুরুলিয়ার সাঁওতালডিহি ও রঘুনাথপুরে। মঙ্গলবার সাঁওতালডিহির কামারগোড়া গ্রামে স্বাধীনতা সংগ্রামের এই কিশোর শহিদের আবক্ষ মূর্তি স্থাপিত হয়েছে। স্থানীয় ‘ক্ষুদিরাম স্মৃতি রক্ষা কমিটি’র উদ্যোগে এলাকাবাসীর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এই মূর্তি স্থাপিত হয়েছে গ্রামের মোড়ে। মূর্তিটির আবরণ উন্মোচন করেছেন জয়নগরের প্রাক্তন সাংসদ, এসইউসি নেতা তরুণ মণ্ডল। এ ছাড়াও, দিনভর হয়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠান। নিজের বক্তব্যে তরুণবাবু স্বাধীনতা সংগ্রামে ক্ষুদিরামের অবদানের বিষয় আলোচনা করেন। পাশাপাশি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার এই বীর শহীদদের স্মৃতি মানুষের মন থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা শুরু করেছে বলেও অভিযোগ করেন। এ দিন সকালে রঘুনাথপুরে পুরসভার সামনে ক্ষুদিরাম পার্কে রঘুনাথপুর শহর ক্ষুদিরাম স্মৃতি রক্ষা কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠান হয়েছে। এ দিন পুরুলিয়া শহরের সাহেববাঁধ রোডে জেলা কংগ্রেস কাযার্লয়ের সামনে ক্ষুদিরামের মূর্তিতে মালা দেন কংগ্রেস কর্মীরা ও বিভিন্ন মানুষজন। উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ও বর্তমান কাউন্সিলর তারকেশ চট্টোপাধ্যায় ও বিভাসরঞ্জন দাস। এ দিন ঝালদা অচ্ছ্রুরাম স্মৃতি কলেজেও ছাত্র ব্লকের কলেজ ইউনিটের পক্ষ থেকে এই দিনটি পালন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের জেলা সম্পাদক মুকেশ দাস।

এ দিনই ক্ষুদিরামের স্মৃতি বিজড়িত বারিকুলের ছেঁদাপাথর গ্রামে একটি স্মরণ সভার আয়োজন করল শহিদ ক্ষুদিরাম স্মৃতি কমিটি। মঙ্গলবার এই সভায় উপস্থিত ছিলেন যুব তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি শিবাজী বন্দ্যপাধ্যায়, রানিবাঁধ ব্লকের যুব সভাপতি চিত্ত মাহাতো-সহ অনেকে। মাওবাদী প্রভাবতি এই অঞ্চলে এসে নিজের বক্তৃতায় শিবাজীবাবু বলেন, “বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রশ্রয় না দিয়ে রাষ্ট্রের কাজে যোগ দিন। তবেই শহিদ ক্ষুদিরামকে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।’’ অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে বেশ কিছু আদিবাসী মহিলাকে মশারি ও শাড়ি দেওয়া হয়।