ভোট ছিল একটি মাত্র বুথে। তাতেও উঠল নানা অভিযোগ।

লোকসভার শেষ দফার নির্বাচনের দিনেই বাঁকুড়া কেন্দ্রের শালতোড়ার ১ নম্বর বুথ ছাতারকানালি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুনর্নিবাচন হয়। গত ১২ মে, ভোটের দিন দুপুরে ওই বুথে দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ। ছুড়ে ফেলা হয় ইভিএম। যার জেরে ভোট প্রক্রিয়া মাঝ পথেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রবিবার অবশ্য ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনও রকমের সমস্যা হয়নি বলেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে জানানো হয়েছে। যদিও বিজেপির অভিযোগ, বুথে যাওয়ার পথে তাদের পোলিং এজেন্টকে হুমকি দেওয়া হয়। যার ফলে এজেন্ট আর বুথে যাননি। গ্রামে অবৈধ জমায়েত ছিল বলেও অভিযোগ বিজেপির। অন্য দিকে, সিপিএমের অভিযোগ, এ দিন নকল ইভিএম নিয়ে গ্রামের লোকজনকে প্রভাবিত করেন বহিরাগত এক তৃণমূল নেতা। 

বিজেপির শালতোড়া বিধানসভার পর্যবেক্ষক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “আমাদের পোলিং এজেন্ট বুথে আসছিলেন। তাঁকে গ্রামেই হুমকি দেওয়া হয়। এর ফলে তিনি আর বুথে যেতে পারেননি।” বিজেপির বাঁকুড়া কেন্দ্রের প্রার্থী সুভাষ সরকার বলেন, “বুথে ঝামেলার কোনও খবর পাইনি। তবে গ্রামের ভিতরে অবৈধ ভাবে জমায়েত করে ভোটারদের ভয় দেখিয়েছে তৃণমূলের লোকজন।” সিপিএমের বাঁকুড়া কেন্দ্রের প্রার্থী অমিয় পাত্র বলেন, “বাহিরাগত এক তৃণমূল নেতা ছাতারকানালির বুথের ভোটারদের নকল ইভিএম নিয়ে তৃণমূলের বোতাম টিপে ভোট দিতে বলছিলেন। ঘটনাটি প্রশাসনকে জানিয়েছি।”

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

যদিও তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শালতোড়ার বিধায়ক স্বপন বাউড়ি। তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা বিরোধীদের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূল কোথাও ভোটারদের প্রভাবিত করা বা হুমকি দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত নয়।” এ দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত ওই বুথে ৭৭ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছিল। দিনের শেষে জানা যায় ভোট পড়েছে ৭৭.৮৪ শতাংশ। 

ভোট প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নেই শেষ হয়েছে বলে দাবি করেছেন জেলার পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও। তিনি বলেন, “ভোটে কোনও রকমের গোলমাল হয়নি।” জেলায় নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) সব্যসাচী সরকার বলেন, “দিনভর পুলিশ ও প্রশাসনের কড়া নজর ছিল বুথ ও বুথের আশপাশে। বিরোধী দলগুলির কাছ থেকেও কোনও রকমের অভিযোগ পাইনি।”