আগামী ২৮ মে বোর্ড গড়া হবে পুরুলিয়া জেলার তিনটি পুরসভার। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, পুরুলিয়া, রঘুনাথপুর ও ঝালদা পুরসভার বোর্ড গড়ার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

পুরুলিয়া ও রঘুনাথপুরে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা পেয়েছে তৃণমূল। অন্য দিকে, ঝালদায় এ বার একক ভাবে ক্ষমতায় এসেছে কংগ্রেস। পুরুলিয়া পুরসভায় কে পি সিংহদেওকে পুরপ্রধান হিসেবে খাড়া করে এ বার ভোটে লড়েছিল তৃণমূল। গত ১১ মে জেলায় এসে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে বাঁকুড়া রওনা দেওয়ার আগে কে পি সিংহদেও-ই যে পুরপ্রধান পদে বসতে চলেছেন, সেই ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী। তবে, শপথের দিন পুরুলিয়ায় পুরপ্রধান পদে প্রার্থী দেবে কংগ্রেস। দলের জেলা সহ-সভাপতি রথীন্দ্রনাথ মাহাতো বলেন, ‘‘কংগ্রেস পুরপ্রধান পদে লড়বে। কে প্রার্থী হবেন, তা আমরা শপথের আগের দিন জানিয়ে দেব।’’

পুরপ্রধান হতে গেলে ২৩ আসনের এই পুরসভায় অন্তত ১২ জনের সমর্থন প্রয়োজন। কংগ্রেসের কাউন্সিলর সংখ্যা ৬। নির্দলের এক ও সিপিএমের এক জন কংগ্রেসকে সমর্থন করলেও আরও চার জনের সমর্থন প্রয়োজন। আর তৃণমূলের কাউন্সিলর একক ভাবে ১৪ জন। তৃণমূল সমর্থিত এক নির্দল-সহ মোট ১৫।  রথীন্দ্রনাথবাবু বলেন, ‘‘কেউ তো আমাদের ভোট দিতেও পারেন! দেখাই যাক না। শিলিগুড়িতেও সংখ্যা গরিষ্ঠতা না পেয়ে তৃণমূল মেয়র পদের নির্বাচনে লড়েছে।’’ তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, তাঁদের কাউন্সিলরেরা চেয়ারম্যান পদে কে পি সিংহদেওকেই ভোট দেবেন। পুরুলিয়ায় পুরপ্রধানের পদে কে বসছেন, তা পরিষ্কার হয়ে গেলেও উপ-পুরপ্রধান পদ নিয়ে টানাপড়েন অব্যাহত। যে কয়েক জন দাবিদার, তাঁরা নিজের মতো করে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন। তাঁদের লক্ষ্য উপ-পুরপ্রধান পদ না পেলেও অন্তত চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল যাতে হতে পারেন। যদিও এ নিয়েও দলের নির্বাচিত কাউন্সিলরদের একাংশের মধ্যে (বিশেষ করে নতুনদের মধ্যে) দাবি রয়েছে যে, চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলে নতুন মুখ নিয়ে আসার। জেলা তৃণমূল সভাপতি শান্তিরাম মাহাতো বলেন, ‘‘আমরা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেই ঠিক করব, কে উপপুরপ্রধান হবেন। আর কারা চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলের সদস্য হবেন।’’

ঝালদায় এ বার কংগ্রেসের দুই প্রাক্তন পুরপ্রধান জয়ী হয়েছেন। একজন প্রদীপ কর্মকার, অন্য জন মধুসূদন কয়াল। প্রদীপবাবু পুরভোটের কিছুদিন আগে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরেছেন। মধুসূদনবাবুও তৃণমূলে ছিলেন। পুরপ্রধান পদে দাবিদার এই দু’জন নাকি অন্য কেউ। জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো বলেছেন, ‘‘আমরা যোগ্য লোককেই দায়িত্ব দেব। কেন না ঝালদা এ বার একক ভাবে আমাদের হাতে ক্ষমতা দিয়েছে। শপথের আগে কে পুরপ্রধান হচ্ছেন, তা জানিয়ে দেওয়া হবে।’’