লোকসভা ভোটের আগে শিলান্যাসই সার। সাত মাসেও শুরু হয়নি রাস্তার কাজ। ক্ষোভ জমছে আড়শায়।

আড়শা ব্লকের নয়ামোড় থেকে রাঙামাটি গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৩কিলোমিটার ঢালাই রাস্তা পিচের করা হবে। সে জন্য জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ হয়েছে ৪৪ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। গত ৫ মার্চ একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাস্তাটির শিলান্যাস করেন জয়পুরের বিধায়ক শক্তিপদ মাহাতো। কিন্তু, ওই পর্যন্তই। তার পরে রাস্তা তৈরির জন্য একটা পাথরও পড়েনি বলে অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের। শক্তিপদবাবু এই ব্যাপারে বলেন, ‘‘কাজ শুরু না হওয়ার বিষয়টি জানা নেই। কি জন্য এমন হয়েছে, খোঁজ নিয়ে দেখব।’’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ৩ কিলোমিটারের ওই রাস্তাটি প্রথমে ছিল কাঁচা। ২০১৩-১৪ আর্থিক বছরে জেলা পরিষদের বরাদ্দ করা টাকায় ধাপে ধাপে ঢালাই করা হয়েছিল। কিন্তু কিছু দিন পরেই জায়গায় জায়গায় খন্দ তৈরি হয়। এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘সামান্য বৃষ্টি হলেই খন্দে জল জমে পথ চলা দায় হয়ে পড়ত।’’ স্থানীয় বাসিন্দা রাঙামাটি গ্রামের সুবল লায়েক, নিতবরণ মাহাতোদের বক্তব্য, ‘‘অবিলম্বে রাস্তার কাজ শুরু হওয়া দরকার। দূরত্ব কম হলেও এই রাস্তার গুরুত্ব কম নয়।’’

ওই রাস্তা দিয়ে শুধু রাঙামাটি নয়, লাগোয়া পাটটাড় বা আসারামডির মতো বেশ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত রয়েছে। এ ছাড়াও ব্লক এলাকার অন্য গ্রামের বাসিন্দারা বিভিন্ন দরকারে ওই রাস্তা দিয়ে কংসাবতী পেরিয়ে কাহান গ্রাম দিয়ে চাষমোড়ে যান। বা যান ঝাড়খণ্ডের কোনও শহরে। বেহাল রাস্তা নিয়ে সমস্যায় পড়ছেন তাঁরাও। রাঙামাটি হাইস্কুলের পড়ুয়া অনন্ত শেঠ, জবা কুমারদের কথায়, ‘‘একটু বৃষ্টি পড়লেই খুব সমস্যা হয় পথ চলতে। রাস্তাটা পাকা হলে খুবই ভাল হয়।’’ রাস্তার কাজ শুরু না হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে বিডিও (আড়শা) অমিতকুমার গায়েন বলেন, ‘‘যত দূর জানি, বরাদ্দে পরিবর্তনের জন্য ওই রাস্তা তৈরির কাজে দেরি হচ্ছে।’’ বিষয়টি কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন বিডিও।