দিন কয়েক আগেই জয়চণ্ডী পাহাড়ে শেষ হয়েছে পর্যটন উৎসব। পর্যটকদের আসাযাওয়া অবশ্য এখনও অব্যাহত। স্বভাবতই জয়চণ্ডী পাহাড় জুড়ে এখন আর্বজনার স্তূপ। সেই কারণে পাহাড় পরিচ্ছন্ন রাখতে এবার সাফাই অভিযানে নামল মহকুমা প্রশাসন ও পুলিশ। 

রবিবার, ছুটির সকালে জয়চণ্ডী পাহাড়ে জমা আর্বজনা সাফাই করতে নেমেছিলেন রঘুনাথপুরের মহকুমাশাসক আকাঙ্খা ভাস্কর, এসডিপিও সত্যব্রত চক্রবর্তী-সহ অন্যান্য পুলিশকর্মীরা। চিলেন পুরসভার সাফাইকর্মী, স্থানীয় কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরাও। সকলে একত্রে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাফাই করলেন। প্রশাসনের বিভিন্ন কর্তাব্যক্তিকে সাফাই অভিযানে নামতে দেখে এদিনের কর্মকাণ্ডে সামিল হতে দেখা গেল পিকনিক করতে আসা লোকজনদেরও। সব মিলিয়ে গোটা দিনে অন্তত কুড়ি ট্রাক্টর আর্বজনা সাফাই হয়েছে পাহাড়ে।

নতুন বছরের প্রথম রবিবার হওয়ায় এদিন জয়চণ্ডী পাহাড়ে খুব ভিড় হয়েছিল। পুলিশের মতে, অন্তত হাজার দু’য়েক মানুষ এদিন পাহাড়ে বেড়াতে এসেছিলেন। এসডিপিও সত্যব্রতবাবু জানান, পর্যটকদের সামনে সাফাই অভিযানে নেমে তাঁরা আসলে একটা বার্তা দিতে চেয়েছিলেন। এদিন যে পর্যটকেরা থার্মোকলের থালা, বাটি, প্লাস্টিকের গ্লাস পাহাড়ে এনেছিলেন, তাঁদের কাছ থেকে সেই সমস্ত জিনিস নিয়ে পরিবর্তে শালপাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ প্রশাসন। পাশাপাশি, গাড়ি থামিয়ে থার্মোকল এবং সাউন্ড বক্স নিয়ে পাহাড়ে ওঠা আটকেছে পুলিশ। চলতি পর্যটনের মরসুমে এই ব্যবস্থা চলবে বলেই জানিয়েছে পুলিশ। এদিন বহু মানুষ পাহাড়ে পিকনিক করতে এলেও সাউন্ড বক্সের আওয়াজ কোথাও থেকে শোনা যায়নি। 

জেলার সমস্ত পর্যটনস্থলগুলিতে প্লাস্টিক, থার্মোকল মুক্ত করতে চাইছে জেলা প্রশাসন। সাউন্ড বক্স বাজানোর উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বেশিরভাগ পিকনিক স্পটগুলিতেই  দেদার থার্মোকল, প্লাস্টিক ইত্যাদির ব্যবহার চলছে। বাজছে সাউন্ড বক্স। তার মধ্যে অন্যতম জয়চণ্ডী পাহাড়। পুরসভা প্লাস্টিক, থার্মোকল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বোর্ড লাগালেও সংখ্যায় তা অত্যন্ত কম। ফলে সচেতনতা প্রচারের কাজটাই ভালভাবে হচ্ছে না বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়েরা।

পাহাড়ে যে আর্বজনার স্তূপ জমেছে, সেই বিষয়টি মেনে নিয়েছেন মহকুমাশাসক আকাঙ্খা দেবী। এদিন তিনি বলেন, ‘‘জয়চণ্ডী পাহাড়ে পর্যটন উৎসব শেষ হওয়ার পরেই দেখা গিয়েছে পাহাড় জুড়ে আর্বজনার স্তূপ। মাঝে পুরসভা ও পঞ্চায়েত সাফাই করেছিল বটে, কিন্তু সবটা সাফাই হয়নি। তাই আজ সকলে মিলে সাফাই অভিযান করেলেন।”

এদিন পাহাড়ে গিয়ে দেখা গেল, পর্যটন উৎসবের মাঠের একপাশে পুরসভার কর্মী ও বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের নিয়ে আর্বজনা সাফাই করছেন এসডিও এবং এসডিপিও। পুরসভার জঞ্জাল বহন করা গাড়িতে সেগুলিতে তুলে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। 

আকাঙ্খাদেবীর সঙ্গেই সাফাই করছিলেন পিকনিক করতে আসা রঘুনাথপুর শহরের রিয়া রায়। তিনি জানান, মহকুমাশাসক নিজেই আর্বজনা সাফাই করছেন দেখে তিনিও হাত লাগিয়েছেন সাফাই অভিযানে। পাহাড় পরিচ্ছন্ন করার এহেন প্রশাসনিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পিকনিক করতে আসা আদ্রার বাসিন্দা শিবনাথ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতার বেহালার বাসিন্দা সঞ্জিত রায়, পশ্চিম বর্ধমানের চিত্তরঞ্জনের বাসিন্দা উৎপল গঙ্গোপাধ্যায়েরা। 

তবে তাঁরা জানাচ্ছেন, পাহাড়ে থার্মোকল, প্লাস্টিক ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বোর্ড আরও কয়েকটি লাগালে লোকজন আরও বেশি সচেতন হবেন। পাশাপাশি, পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় আরো বেশি সংখ্যক ডাস্টবিনের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তাঁরা মনে করেন। তবে একদিন সাফাই অভিযান চালিয়ে পাহাড়কে পুরোপুরি থার্মোকল, প্লাস্টিক মুক্ত করা সম্ভব নয় সেটাও জানাচ্ছেন অনেকেই।