দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময় রাস্তার হাম্পে উঠে বেসামাল হয়ে পড়ল বাস। তার জেরে বাসের ভিতরে বসে থাকা তৃণমূল কর্মীরা একে অন্যের উপরে ছিটকে গিয়ে চোট পেলেন। বুধবার দুপুরে বিষ্ণুপুর শহরে ঢোকার মুখে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। কয়েক জন মহিলা-সহ আহত হন ছ’জন। তাঁদের মধ্যে এক জনের আঘাত গুরুতর। 

এ দিন দুপুরে ওন্দার স্টেডিয়ামে যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় যোগ দিতে বাসে চড়ে যাচ্ছিলেন বাঁকাদহ এলাকার তৃণমূল কর্মীরা। আহতদের বাড়ি বাঁকাদহের হেতাগোড়া গ্রামে। দুর্ঘটনার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে। নিয়ে যাওয়া হয় বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে। 

ওই বাসে ছিলেন তৃণমূল কর্মী সুলতান আলি খান বলেন, “আমরাও অভিষেকের সভায় যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলাম। রাস্তায় হাম্পটি সম্ভবন বাসচালক দেখতে পাননি। বাসটি দ্রুত গতিতে যাচ্ছিল। হাম্পে বাসের চাকা পড়তেই যাত্রীরা একে অন্যের উপরে ছিটকে পড়েন।’’ 

তিনি জানান, বাসের পিছনের দিকে ছিলেন দেবাশিস আচার্য নামের এক দলীয় কর্মী। তিনি ছিটকে গিয়ে বাসের বাসের ছাদে ধাক্কা মারেন। সে জন্য তিনি মাথা ও ঘাড়ে গুরুতর চোট পেয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।’’ 

বাসের পাশাপাশি মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন তৃণমূল কর্মী প্রবীর কিস্কু। তিনি বলেন, ‘‘বাকি পাঁচ জনের আঘাত তুলনামূলক কম। তাঁদের কারও জিভ কেটে গিয়েছে, কারও পাঁজরে আঘাত লেগেছে, কারও হাঁটুতে আবার কারও ঘাড়ে আঘাত লেগেছে।’’ 

বিষ্ণুপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তৃণমূল নেতা দেবনাথ বাউরি বলেন, “বাসটিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত যাত্রী ছিল না। তবে, চালক সতর্ক হলে দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। বিষ্ণুপুরে দলীয় কর্মীরা আহতদের দেখাশোনা করছেন।’’ 

পরে হেতাশোলের বাকি তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে বাসটি সভার উদ্দেশ্যে ওন্দায় রওনা দেয়।