তৃণমূল কার্যালয়ে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রবিবার উত্তেজনা ছড়ায় পাত্রসায়রের নারায়ণপুরে। তৃণমূলের দাবি, নারায়ণপুর পঞ্চায়েতের রাধাবাজার এলাকায় তাদের কার্যালয়ে শনিবার গভীর রাতে হামলা চালিয়েছে বিজেপির লোকজন। অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপির পাল্টা দাবি, তৃণমূলের ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের’ জেরেই ওই ঘটনা ঘটেছে।

তৃণমূলের অভিযোগ, তাদের কার্যালয়ে হামলা চালায় বিজেপির ‘মদতপুষ্ট’ দুষ্কৃতীরা। ভাঙচুর করা হয় আসবাবপত্র। অনেক কাগজপত্রও নষ্ট করে। পাত্রসায়রের ব্লক যুব তৃণমূলের সভাপতি সুব্রত দত্তের অভিযোগ, ‘‘পূর্বপরিকল্পিত ভাবে কয়েকজন বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতী আমাদের নারায়ণপুরের কার্যালয় ভাঙচুর করে। আইনি পথে এর মোকাবিলা করব।’’ 

রবিবার সন্ধ্যায় পুলিশের কাছে আশিস মিদ্যা নামে এক তৃণমূল কর্মী ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযুক্ত হিসাবে বিজেপি বা কোনও ব্যক্তির নামের উল্লেখ সেই অভিযোগপত্রে নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ। যদিও তৃণমূলের পাত্রসায়র ব্লক সভাপতি পার্থপ্রতিম সিংহের দাবি, ‘‘আমরা বিজেপির বিরুদ্ধেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।’’

নারায়ণপুরের বিজেপি অঞ্চল সভাপতি দেবু দিগারের মন্তব্য, ‘‘আমাদের কাছে খবর আছে, নারায়ণপুর অঞ্চলের এক তৃণমূল নেতাকে শনিবার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে নারায়ণপুরে তৃণমূলের দুটো গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। একটি গোষ্ঠী নিজেদের দলের কার্যালয়ে ভাঙচুর করে বিজেপির উপরে দোষ চাপিয়েছে।’’ বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একাংশের দাবি, তৃণমূলের যে কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠছে, সেটি বেশ কয়েক মাস ধরে বন্ধ ছিল। পাত্রসায়র ২ মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি তমাল গুঁইয়ের বক্তব্য ‘‘এখানে তৃণমূল এখন কোণঠাসা। তাদের দলের কার্যালয়ও বন্ধ থাকে। আমরা কেন বন্ধ তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর চালাতে যাব?’’ 

পার্থপ্রতিমবাবুর পাল্টা দাবি, ‘‘দলে কোনও কোন্দল নেই। কাউকে দল থেকে বার করে দেওয়া হয়নি। দোষ ঢাকতে কোন্দলের তত্ত্ব হাজির করছে বিজেপি।’’