‘গুরু’কে মঞ্চ থেকেই শ্রদ্ধা বেঙ্কাইয়ার

মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজনের সঙ্গে দুই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ ও এইচ ডি দেবগৌড়া। রাজ্যসভার নেতা হিসেবে অরুণ জেটলি, বিরোধী দলের উপনেতা আনন্দ শর্মা। গত রবিবার বিজ্ঞান ভবনে উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নায়ডুর বইপ্রকাশ অনুষ্ঠানের মঞ্চে জায়গা হয়নি প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণীর। তবে বেঙ্কাইয়া রবিশঙ্কর প্রসাদকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তিনি যেন দর্শকাসনে আডবাণীর সঙ্গে বসেন। উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে বেঙ্কাইয়ার এক বছর পূর্তিতে তৈরি বিশেষ তথ্যচিত্র দেখানো হল। সেখানেও আডবাণীকে নিজের ‘গুরু’ বলে সম্বোধন করলেন বেঙ্কাইয়া। বক্তৃতার সময় অন্য কেউ আডবাণীর নাম বললেন না। আর বেঙ্কাইয়া শুধু যে আডবাণীর নামই উল্লেখ করলেন তা নয়, বললেন, ‘‘আমি সব সময় আডবাণীজির একটা কথা মনে রাখি। উনি আমাকে বলেছিলেন, তোমার আচরণ তোমার মতাদর্শের থেকেও জরুরি।’’ প্রায় এক ঘণ্টার অনুষ্ঠানের শেষে আর একটি বিষয় কারও নজর এড়াল না। প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পরেই বেঙ্কাইয়া এগিয়ে গিয়ে আডবাণীর সঙ্গে আলাদা করে কথা বললেন।

সম্পর্ক: বেঙ্কাইয়া নায়ডু ও লালকৃষ্ণ আডবাণী

 

এ বার দীপা?

বিজ্ঞান ভবনে বেঙ্কাইয়া নায়ডুর বইপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বেঙ্কাইয়া-কন্যা দীপা বেঙ্কটকে সক্রিয় দেখা গেল। তিনিই প্রধানমন্ত্রীকে উত্তরীয় পরিয়ে বাবার হয়ে সম্মান জানালেন। দীপা রাজনীতিতে নেই। তাঁর নিজের ব্যবসা রয়েছে। বেঙ্কাইয়া আগেই বলে দিয়েছেন, তিনি আর সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন না। অনুষ্ঠানের পর চা-পানের সময় অনেকেই দীপার কাছে জানতে চাইলেন, ২০১৯-এ কি আপনি ভোটে লড়বেন? বেঙ্কাইয়ার স্ত্রী উষাও সেখানে ছিলেন। ইঙ্গিত অবশ্য মিলল অনুষ্ঠানের মধ্যেই। স্পিকার সুমিত্রা মহাজন বক্তৃতার সময় বেঙ্কাইয়ার জীবনে মেয়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করলেন। সঙ্গে সঙ্গে দীপা উঠে দাঁড়িয়ে সবাইকে প্রণাম জানাতেই হাততালিতে ফেটে পড়ল বিজ্ঞান ভবন।

 

কী কথা তাহার

দিল্লির ইন্দিরা গাঁধী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অটলবিহারী বাজপেয়ীর স্মরণসভায় প্রথম পৌঁছেছিলেন গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শঙ্কর সিংহ বাঘেলা। যিনি এক সময় বিজেপিতে ছিলেন, আবার কংগ্রেসেও। বাঘেলা ভেবেছিলেন, এত জন ভিআইপি আসবেন, নিশ্চয়ই ট্রাফিক জ্যাম হয়ে যাবে। যখন স্টেডিয়ামে গিয়ে পৌঁছন, তখন সেখানে প্রায় কেউই ছিলেন না। একটু পরে আসেন তৃণমূলের নেতা সুখেন্দুশেখর রায় ও দীনেশ ত্রিবেদী। দীনেশই গিয়ে বাঘেলার পাশে বসে গুজরাতিতে কথা বলতে শুরু করেন। একা পড়ে যান সুখেন্দু। কী কথা হল বাঘেলার সঙ্গে দীনেশের? দু’জনেই নাকি বাজপেয়ীর স্মৃতিকে এতখানি গুরুত্ব দেওয়ার জন্য নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করছিলেন। মোদী নিজেও দীনেশকে পছন্দ করেন। তাঁদের পুরনো সম্পর্ক। বাঘেলা তাঁর নিজের দল ছেড়ে বিজেপি-তে এখনও যোগ না দিলেও তাঁর ব্যবসায়ী ছেলে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

 

স্বাগত সবাই

প্রার্থনাস্থল: বিবি ফতিমার দরগা 

শবরীমালার মন্দিরে মেয়েরা প্রবেশাধিকার চান। বছর কয়েক আগে মুম্বইয়ের হাজি আলি দরগাতেও মহিলাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে লড়াই বেঁধেছিল। রাজধানীর হজরত নিজামুদ্দিন আউলিয়ার দরগাতেও মহিলাদের প্রবেশের অনুমতি নেই। সে দিক থেকে ব্যতিক্রম দিল্লির বিবি ফতিমার দরগা। দিল্লির কাকানগরে সরকারি বাংলোর মাঝখানে, খান মার্কেটের ভিড় থেকে মিনিট দশেক দূরের এই দরগায় আশ্চর্য রকম নীরবতা। মহিলারা আসতে পারেন এই দরগায়। ইতিহাস বলে, ত্রয়োদশ শতাব্দীর সুফি সাধিকা বিবি ফতিমাকে সুফি সাধক বাবা ফরিদ তাঁর নিজের বোন বলে মানতেন। হজরত নিজামুদ্দিনও আসতেন বিবি ফতিমার এই সমাধিতে।

 

মোদীর ধমক

বিহারের নেতা অশ্বিনী চৌবে কেন্দ্রের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, উল্টোপাল্টা মন্তব্যের জন্য বিখ্যাত। ১৫ অগস্ট রাষ্ট্রপতি ভবনে অনুষ্ঠানে অশ্বিনী স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা, রামকৃপাল যাদবের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ঢুকতে সকলে তাঁকে নমস্কার জানাতেই তিনি ধমক দিয়ে অশ্বিনীকে বলেন, ‘‘হমলোগ ইতনা মেহনত সে অচ্ছা কাম কর রহে হ্যায় অউর আপ খরাব কর রহে হ্যায়!’’ সংসদ অধিবেশনের শেষ দিনে অশ্বিনী প্রকাশ্যে কংগ্রেসের প্রদীপ ভট্টাচার্যের সঙ্গে ঝগড়া বাঁধিয়ে বলেছিলেন, সব বাঙালির পাকিস্তান চলে যাওয়া উচিত। মোদীর ধমকের পরেও কাজ হয়নি, রাহুল গাঁধীকে ‘নর্দমার কীট’ বলে ফের বিতর্কে অশ্বিনী। প্রধানমন্ত্রীর ভয়ে পরে ব্যাখ্যা: আমি ওই ভাবে বলতে চাইনি!