ও দিকে খেলার জেল্লা, এ দিকে একাকী কেল্লা  

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও রিকি পন্টিংয়ের নজরদারিতে রাজধানীর ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে দিল্লির আইপিএল টিমের গা ঘামানো চলে। ম্যাচ থাকলে স্টেডিয়াম জুড়ে যানজট। কিন্তু আইপিএল-এর আলো ঝলমলে দুনিয়ার ঠিক পাশেই গা ছমছমে ফিরোজা শাহ কোটলা ফোর্ট। মানুষের বিশ্বাস, সেখানে জিনেদের বাস। প্রতি বৃহস্পতিবার বিশ্বাসীরা কেল্লার দেওয়ালের সামনে জড়ো হয়ে নিজেদের সমস্যার কথা বলেন। কেউ দেওয়ালে চিঠি ছেড়ে যান। রেখে যান গোলাপের পাপড়ি, ফুল, পয়সা। বিশ্বাস, জিনরা সেই সমস্যা শুনে সমাধান করবে। ইদের দিন নামাজ পড়তে আসেন শত শত মানুষ। মহম্মদ বিন তুঘলকের পরে ১৩৫৪ সালে গদিতে বসেছিলেন ফিরোজ শাহ তুঘলক। এই কেল্লা ও তাকে ঘিরে ফিরোজাবাদ শহর তৈরি করেছিলেন তিনি। পুরনো শহর তুঘলকাবাদে জলসঙ্কট দেখা দিয়েছিল। তাই যমুনার ধারে তৈরি হয়েছিল নতুন কেল্লা।

প্রার্থনা: ফিরোজ শাহ কোটলা দুর্গের মসজিদে ইদের নামাজের ছবি

 

নেপথ্যে

দু’জনে একই সময়ে দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজে পড়তেন। রাহুল গাঁধীর সঙ্গে তখন থেকেই বন্ধুত্ব কংগ্রেস নেত্রী মার্গারেট আলভার ছেলে নিখিলের। সেই নিখিলই এখন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধীর ফেসবুক-টুইটারের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের দেখভাল করছেন। লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রচার-মন্ত্র ‘অব হোগা ন্যায়’ থেকে শুরু করে নির্বাচনী প্রচারের গান তৈরির পিছনেও নিখিলের মস্তিষ্ক। নিজে অবশ্য প্রচারের আলোয় আসতে নারাজ। পর্দার আড়ালে থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন।

 

রাজ-গ্রন্থ

বর্তমান মন্ত্রকটি হাই প্রোফাইল। পোড়-খাওয়া নেতা তিনি নিজেও। উত্তরপ্রদেশের মানচিত্র হাতের তালুর মতো চেনা। কিন্তু নিজের ব্যক্তিত্বকে নিচু তারে বেঁধে রাখতেই পছন্দ করেন কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা রাজনাথ সিংহ। যতই প্ররোচনা থাক, তাঁর কণ্ঠে বাড়তি উত্তেজনার আঁচ পাওয়া দুষ্কর। রাজনাথ সিংহের প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনের বহু অজানা কাহিনি নিয়ে লেখা বই প্রকাশিত হতে চলেছে। ৩৪৪ পৃষ্ঠার এই জীবনীধর্মী গ্রন্থটি লিখেছেন সিনে-ইতিহাসবিদ তথা লেখক গৌতম চিন্তামণি। দেশ জোড়া ভোটের উত্তেজনার শেষ পর্বে বইটি প্রকাশিত হবে। 

 

কৌশল?

ছেলে ব্রিজেন্দ্র সিংহকে দল হরিয়ানার হিসার কেন্দ্র থেকে টিকিট দিতে চলেছে, খবর পেয়েই তড়িঘড়ি সাংবাদিক সম্মেলন ডেকেছিলেন পিতা চৌধরি বীরেন্দ্র সিংহ। কেন্দ্রীয় ইস্পাতমন্ত্রী চৌধরি বীরেন্দ্র সিংহ সে দিন ঘটা করে এও জানিয়েছিলেন, মন্ত্রিত্ব এবং রাজ্যসভার পদ তিনি ছেড়ে দিতে চলেছেন। কারণ, কংগ্রেসের পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করছে তাঁর দল। তিনি নিজে বিজেপির সেনানী হিসাবে সেই পরিবারতন্ত্রকে সমর্থন করতে পারেন না। ছেলে যে হেতু লড়ছে, তিনি তাই নৈতিক কারণে পদত্যাগ করবেন। এই ঘোষণার পরে কেটে গিয়েছে কিছু দিন। প্রার্থী হিসাবে প্রচারও শুরু করে দিয়েছেন ব্রিজেন্দ্র। পদত্যাগের নামগন্ধও নেই ইস্পাত মন্ত্রকে। দিল্লির রাজনীতিতে ফিসফাস, তা হলে কি পদত্যাগের ঘোষণা নেহাতই নির্বাচনী হাওয়া গরম করার কৌশল ছিল?

 

মাছের টানে

উৎসব: ইন্ডিয়া গেটের সামনে

তাপমাত্রা চল্লি‌শ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। কড়াইয়ে আগুনের হলকা। গরম তেলে মশলা মাখানো পমফ্রেট ভাজা হচ্ছে। কিন্তু সেটা কার প্লেটে কার পাতে আগে পড়বে, তা নিয়ে উত্তপ্ত কথা কাটাকাটির পরে দুই অতিথির হাতাহাতি লেগে যাওয়ার উপক্রম। ইন্ডিয়া গেটের সামনে রাজপথের পার্কে মৎস্য উৎসবে এমন নানা ছবি। মোদী জমানায় মৎস্য দফতর খুলেছে। তার সঙ্গে ন্যাশনাল ফিশারিজ় ডেভেলপমেন্ট বোর্ড হাত মিলিয়ে গত সপ্তাহের শেষে তিন দিনের মৎস্য উৎসব হয়ে গেল। গরমের চোটে সন্ধ্যা পর্যন্ত শুনশান। রুই, ইলিশ মশলা মেখে রান্নার জন্য তৈরি। চিংড়ি মাছের হায়দরাবাদি বিরিয়ানি, মাছের সালামি, কাবাব রান্নার প্রস্তুতিও শেষ। সারা দিন মাছি তাড়ানোর পরে, সন্ধ্যা নামতেই লম্বা লাইন। রাত ৯টার মধ্যে সব ফাঁকা। 

তিন দিনের মেলায় জাত-ধর্ম নির্বিশেষে মাছে মন দিল রাজধানী। দেখা মিলল বিভিন্ন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতদেরও।