‘‘‘দেশপ্রেম দিবস’ চেয়ে মোদীকে চিঠি বিমানের’’ (১৯-১) শীর্ষক সংবাদ পড়ে হাসি রোধ করতে পারলাম না। যেন ভূতের মুখে রামনাম। বিমানবাবুরা যতই স্বীকার করুন না কেন, নেতাজি সম্পর্কে তাঁদের পূর্বের মূল্যায়ন ভুল ছিল, কিন্তু তাঁদের এই ধরনের স্বীকারোক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থেকেই যায়। গত দেড়-দু’দশক ধরে হঠাৎ নেতাজি-প্রীতি ও দেশপ্রেমে যেন তাঁদের হৃদয় একেবারে উথলে পড়েছে। দেখে মনে হয়, ‘অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ’। 

আজ নেতাজির জন্মদিনকে তাঁরা ‘দেশপ্রেম দিবস’ করতে চাইছেন, এই নেতাজিকেই কুইসলিং, তোজোর কুকুর, হিটলারের তল্পিবাহক ইত্যাদি বিশেষণে ভূষিত করার মধ্য দিয়ে মানুষের মনে নেতাজি সম্পর্কে বিদ্বেষ ছড়ানোর অপচেষ্টার শ্রেষ্ঠ কারিগর তো এঁরাই ছিলেন। পাপের প্রায়শ্চিত্ত কি অত সহজে করা সম্ভব? 

আর দেশপ্রেম? কিছু বছর আগে, ২৬ জানুয়ারি এবং ১৫ অগস্টের মতো দিনেও পাছে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হয়, তাই ওই দিনগুলিতে আগে থেকেই এঁরা দলীয় কর্মসূচি ঠিক করে রাখতেন। আগে তো জাতীয় পতাকা মানেই তাঁদের কাছে ছিল কংগ্রেসের পতাকা, আর কংগ্রেস ছিল শ্রেণিশত্রু। সুতরাং ওই পতাকা তাঁদের কাছে ঘৃণ্য, বা শত্রুর প্রতীক। এটাই ছিল তাঁদের দেশপ্রেম।

হরিনায়ারণ নন্দী

উকিলপাড়া, উত্তর দিনাজপুর

 

জানতেন না?

বিগত বেশ কয়েক বছর যাবৎ অযত্ন অনাদর অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোদালিয়ায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পৈতৃক বাসভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে ২০১৩ সালে এর সংস্কারকার্য শুরু হয়। সংস্কারের পরে এই বছর নেতাজির জন্মদিনে ভবনটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, এখানে নেতাজি বিষয়ক গবেষণাকেন্দ্র এবং প্রদর্শশালা গড়ে তোলা হবে। 

বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিবসকে ‘দেশপ্রেম দিবস’ এবং জাতীয় ছুটি ঘোষণা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি করা হয়েছে। দুটো দাবিকেই নৈতিক সমর্থন জানিয়ে বামফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের কাছে সবিনয় কিছু প্রশ্ন রাখছি। ৩৪ বছর আপনারা রাজ্যে ক্ষমতাসীন ছিলেন। নেতাজি প্রতিষ্ঠিত ফরওয়ার্ড ব্লকের চার জন পূর্ণমন্ত্রী বামফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া একই দলের ৩৪ জন বিধায়ক এবং উপাধ্যক্ষ উপরোক্ত সময়সীমায় রাজ্য বিধানসভার সদস্য ছিলেন। কোদালিয়ায় নেতাজির বাসভবনের ভগ্নদশার বিষয় কি আপনারা কেউই অবগত ছিলেন না?

সপ্তর্ষি ঘোষ

কলকাতা-৯

 

অতিথি অধ্যাপক

পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্র কলেজগুলোর প্রায় দশ থেকে বারো হাজার অতিথি অধ্যাপক আজ চরম দৈন্যের শিকার। যেখানে পূর্ণ সময়ের অধ্যাপকের সংখ্যা প্রায় ৯০০০, আংশিক সময়ের অধ্যাপকের সংখ্যা ৫২২৯, সেখানে অতিথি অধ্যাপকের সংখ্যাই ১০-১২ হাজার। পূর্ণ সময়ের অধ্যাপক ও আংশিক সময়ের অধ্যাপকদের মতো, অতিথি অধ্যাপকগণও কলেজে সমান দায়িত্ব পালন করেন। রুটিন তৈরি, নিয়মিত ক্লাস নেওয়া, প্রশ্নপত্র তৈরি, উত্তরপত্রের মূল্যায়ন, সেমিনার ইত্যাদি ছাড়াও কোনও কোনও কলেজে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন ছাড়াও কোথাও আবার টিচার ইন-চার্জের দায়িত্বেও রয়েছেন অনেকে। কিন্তু তার বিনিময়ে না আছে আমাদের কাজের স্থায়িত্ব, না আছে নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো। 

যেখানে এক জন পূর্ণ সময়ের অধ্যাপকের মাসিক বেতন ৪০,০০০-১,৪০,০০০, আংশিক সময়ের অধ্যাপকদের বেতন ১৫০০০-২০৫০০, সেখানে এক জন অতিথি অধ্যাপক পান কোথাও মাসিক ৩-৪ হাজার টাকা, কোথাও বা তাঁদের ক্লাস পিছু দেওয়া হয় ১০০-১৫০ টাকা। আবার এই সামান্য টাকাটুকুও তাঁরা প্রতি মাসে পান না, কারণ দৈনিক মজুরের মতো তাঁদের জন্য ‘নো ওয়ার্ক নো পে’ চালু, ফলে ক্লাস কমে গেলে বা পুজো, গরমের ছুটি ও শীতকালীন ছুটিতে তাঁদের মাসিক বেতন থাকে শূন্য। পশ্চিমবঙ্গের ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের কর্মীদের আর্থিক অবস্থাও এক জন অতিথি অধ্যাপকের থেকে উন্নত, এ কথা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে মেনে নিতে হয়। অথচ যোগ্যতার দিক থেকে অতিথি অধ্যাপকদের কারও ঝুলিতে রয়েছে নেট, সেট, পিএইচ ডি, আবার কেউ কেউ ইউনিভার্সিটির স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত।

অতিথি অধ্যাপকদের এই চরম দুর্দশার কথা, গত সাত বছর ধরে রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের জনপ্রিতিনিধি, রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উচ্চশিক্ষা সংসদ, উচ্চশিক্ষা উপদেষ্টা কমিটি, ডিপিআই-কে একাধিক বার জানানো সত্ত্বেও কোনও আশার আলো দেখতে না পেয়ে, অবশেষে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আমরা গত ২০১৫ সালে ২৮ ডিসেম্বর থেকে টানা ৬০ দিন অনশন কর্মসূচি চালিয়েও আজ পর্যন্ত ন্যায্য বিচার পাইনি।

ইতিমধ্যে গ্রুপ ডি, সরকারি কর্মী সমেত সিভিল ভলেন্টিয়ার, হোমগার্ড, আশা-সহ সরকারি নানা প্রকল্পের স্বেচ্ছাসেবী ও অস্থায়ী কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির কথা বলা হলেও, প্রায় দু’মাস অনশনরত অতিথি অধ্যাপক যাঁরা রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে ধরে রেখেছেন— তাঁদের প্রতি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী কি কোনও রকম আশার কথা শোনাতে পারেন না! দশ হাজার অতিথি অধ্যাপকদের জীবনযন্ত্রণার প্রতি কোনও রকম সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন না? 

বর্তমানে সিবিসিএস পদ্ধতিতে পঠনপাঠন চালু হওয়ায় কলেজগুলো আরও বেশি অতিথি শিক্ষক নির্ভর হতে বাধ্য হয়েছে। ফলস্বরূপ অতিথি শিক্ষকদের সংখ্যা যেমন ক্রমবর্ধমান, ঠিক তেমনই এই ব্যবস্থায় অতিথি শিক্ষকদের উপর কাজের বোঝার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে এঁদের জীবনযন্ত্রণা।

আমরা আশাবাদী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বাংলার সংবেদনশীল মুখ্যমন্ত্রী বিগত সরকারের আংশিক সময়ের শিক্ষকদের মধ্যে বিভেদকামী সেপ্টেম্বর ২০১০-এর কালাকানুন (G. O. No. 751-Edn(CS)-5P-46/99)-কে সংশোধন করে, আংশিক পিটিটি, চুক্তিভিত্তিক (সিডব্লিউটিটি) ও অতিথি অধ্যাপকদের (জিএল) একটি ডেজ়িগনেশন ও একই ধরনের সম্মানজনক বেতন কাঠামো প্রদান করার জন্য, অধ্যাপক অভিরূপ সরকারের নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ (৯-৩-২০১২) ও অধ্যাপক জীবন মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন উচ্চশিক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সুপারিশ (২৭-৮-২০১৩) দ্রুত কার্যকর করে, আমাদের সকলের মুখে হাসি ফোটাবেন।

গোপালচন্দ্র ঘোষ

সাধারণ সম্পাদক, ডব্লিউবিজিএলএ

 

যোগদানের বয়স

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতো বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত সব কলেজের শিক্ষক, অধ্যক্ষ, গ্রন্থাগারিক ও ল্যাবরেটরি অ্যাসিস্ট্যান্টদের অবসরের বয়স ৬২ থেকে ৬৫ বছর করল রাজ্য সরকার। এই নির্দেশিকাকে স্বাগত জানাই। সঙ্গে কলেজের অধ্যাপক পদে যোগদানের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৩৭ থেকে ৪০ বছর করার জন্য অনুরোধ করছি।

দুলাল চন্দ্র চক্রবর্তী

বালিটিকুরী, হাওড়া

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

 

ভ্রম সংশোধন

অরিন্দম চক্রবর্তীর ‘কোন বিদ্যার আরাধনা’ (পৃ ৪, ৯-২) নিবন্ধে ছান্দোগ্য উপনিষদের বিদ্বানের নাম ছাপা হয়েছে ‘সযুগ্গা বৈক্ব।’ হবে ‘সযুগ্গা রৈক্ব।’ ঋগ্বেদ থেকে উদ্ধৃত ‘বাজেভির্ বাজিনিবতী’ কথাটি হবে ‘বাজেভির্ বাজিনীবতী।’ আর বিশ্বামিত্র ‘ব্রাহ্মণত্ব ছেড়ে ক্ষত্রিয়ত্ব অর্জন করেছিলেন,’ লেখা হয়েছে। ঠিক তথ্য হল, তিনি ক্ষত্রিয়ত্ব ছেড়ে ব্রাহ্মণত্ব অর্জন করেছিলেন। এই ভুলগুলির জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।