কিছু দিন আগের বিধ্বংসী ঝড়ের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ফণী’। এই নামকরণ করা হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। ‘ফণী’ শব্দের অর্থ ফণা তুলতে পারে এমন প্রাণী। মূলত সাপকেই ‘ফণী’র প্রতিশব্দ হিসাবে বোঝানো হয়েছে। ঝড়ের ধ্বংসাত্মক শক্তির সঙ্গে সাপের হিংস্রতার তুলনা করলে এমন নামকরণের যাথার্থ্য আছে। 

কিন্তু নামকরণের এই যথার্থতা আরও প্রশংসার দাবি রাখে এই কারণে যে, ‘সাইক্লোন’ শব্দের উৎপত্তির সঙ্গেও ‘ফণী’র যথেষ্ট মিল রয়েছে। গ্রিক শব্দ 'kyklon' থেকে ইংরেজি 'cyclone' শব্দের সৃষ্টি। 'Kyklon'-এর অর্থ সাপের মতো কুণ্ডলী পাকানো। 

অমরনাথ কর্মকার

সোনারপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

অগণতান্ত্রিক

‘ঝড়ের আকাশ, রূপালী রেখাও নজর এড়ায় না’ (২৭-৪) শীর্ষক লোকসভা নির্বাচন সংক্রান্ত আপাত-রুটিনমাফিক প্রতিবেদনে উল্লিখিত একটি উদ্ধৃতি পড়ে চমকিত হলাম। রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী রূপালী বিশ্বাসের বক্তব্য, ‘‘আমার স্বামী যত দিন ছিলেন কারও ক্ষমতা ছিল না এখানে বিজেপির পতাকা বার করার। সেই অবস্থাটা আমাকে ফেরাতে হবে।’’ প্রতিবেদকের বর্ণনায় এই প্রার্থীর ‘অতীত নিষ্কলুষ, রাজনৈতিক শত্রুহীন’ ইত্যাদি; অথচ এ তাঁর কী রকম বক্তব্য! 

বোঝাই যাচ্ছে, ওই কেন্দ্রে ইদানীং বিজেপির বাড়বাড়ন্ত দেখে তাঁর এই প্রতিক্রিয়া। কিন্তু প্রশ্নটা তো শুধু বিজেপি নিয়ে নয়। তাদের জায়গায় সিপিএম, কংগ্রেস অথবা অন্য কোনও দল হলেও যে তিনি একই মন্তব্য করতেন, তাও সহজবোধ্য। এখানেই আসল চিন্তার কথা যে, পশ্চিমবঙ্গের কোথাও কোনও বিরোধী রাজনৈতিক দলকে মাথা তুলতে না-দেওয়ার প্রচলিত তৃণমূলী মনোভাব তাদের নবাগতা এই প্রার্থীকেও ইতিমধ্যেই গ্রাস করে নিয়েছে!

গণতন্ত্র যে কোনও মানুষকে নিজের ইচ্ছা বা পছন্দ অনুযায়ী যে কোনও রাজনৈতিক দল করার অথবা না-করার অধিকার দিয়েছে। কিন্তু অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকা বার করতে না পারার অবস্থা ফিরিয়ে আনাই যদি কোনও প্রার্থীর ঘোষিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হয়; তা হলে অতীতে সেখানে কী অবস্থা ছিল এবং ভবিষ্যতে কী হতে চলেছে, তা বুঝতে খুব অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। রাজনীতির মঞ্চে নবাগতা এক জন মহিলা যদি প্রকাশ্যেই এমন বক্তব্য পেশ করতে পারেন, তা হলে আর এই রাজ্যের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের অগণতান্ত্রিক কথাবার্তায় অবাক হওয়ার কী আছে! 

তবে আশঙ্কা হয়, এই সংস্কৃতি চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতেও পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে গণতান্ত্রিক অধিকার বজায় রাখতে রীতিমতো সমস্যায় পড়তে হবে।

রাহুল ঘোষ

বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ

সৌজন্যের অভাব

বর্তমানে বিজেপি ও তৃণমূলের সুপ্রিমোদের মধ্যে কিছু সৌজন্যের আদানপ্রদানের কথা জনগণের সামনে এসেছে। এখন প্রশ্ন হল: সৌজন্য কি কেবলমাত্র রাজনৈতিক উচ্চ স্তরের নেতা-নেত্রীদের মধ্যে থাকলেই চলবে? কারণ আমরা দেখি, নিচু স্তরের কর্মীদের মধ্যে নানাবিধ বিষয়কে কেন্দ্র করে অসহিষ্ণুতা, সাধারণ মানুষের কথা না শোনা, বিপক্ষের যুক্তি না শোনা, পাল্টা যুক্তি না দিয়ে লাঠি হাতে তাঁদের শায়েস্তা করার কথা হামেশাই সামনে আসছে।

বিভিন্ন পাড়ায়-মহল্লায় গ্রামে দেখা যায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী নেতা-কর্মীদের মধ্যে, এমনকি একই রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী নিজেদের কর্মীদের মধ্যে ঝঞ্ঝাট বেধে গিয়েছে। নিজেদের মধ্যে আলাপ, গ্রামীণ উৎসব-অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকলে মিলে পরিকল্পনা, এগুলি অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

এই বিদ্বেষ বাড়ির অন্দরমহল পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে, তাই তো ভিন্ন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করার (ভোট দেওয়ার) কারণে নিজের স্ত্রীকে অ্যাসিড ঢালার ক্ষেত্রে পর্যন্ত বিবেকের তাড়না বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। 

দেবেন্দ্র প্রসাদ মহন্ত

কলকাতা-১০৬

কেন সংক্ষেপ?

আজকাল সংবাদপত্রে হামেশাই নরেন্দ্র মোদীকে ‘নমো’, রাহুল গাঁধীকে ‘রাগা’, আরও কত জনকে কত রকম সংক্ষেপে সম্বোধনের রেওয়াজ হয়েছে। তা হলে অন্য বিখ্যাত ব্যক্তিদেরও ওই ভাবে সম্বোধন করলেই তো হয়! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘মব’, চন্দ্রবাবু নাইডুকে ‘চনা’, অখিলেশ যাদবকে ‘অযা’, অমিতাভ বচ্চনকে ‘অব’, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে ‘সৌগ’ ইত্যাদি? এতে কি বাংলার সংস্কৃতির মান উজ্জ্বল হচ্ছে? কতটা সময় ও জায়গা বাঁচে এ ভাবে লিখলে?

শুভেন্দু ভট্টাচার্য

আসানসোল

আচরণবিধি 

নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় নায়েক পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন— ‘‘দশ বছর আগে বিহারে যে 

পরিস্থিতি ছিল, তা এখন এ রাজ্যে রয়েছে।... বিহারে এখন খুব কম এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করতে হয়।’’ (‘অজয়ের অপসারণ চায় তৃণমূল’, ২১-৪)। 

এক জন পর্যবেক্ষকের মূল কাজই হল অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করার জন্য যা যা করার দরকার সে ব্যাপারে কমিশনকে জানানো। দশ বছর আগের বিহার সরকারের সঙ্গে বাংলার তুলনার অর্থ হল, বর্তমান বিহার সরকারকে আইনশৃঙ্খলার দিক দিয়ে কৃতিত্ব দেওয়া। এই ধরনের মন্তব্য কি উনি করতে পারেন?

নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের তথা নেতা-নেত্রীদের যদি আচরণবিধি মেনে চলতে হয়, তবে নির্বাচনের কাজে যুক্ত সরকারি আধিকারিকরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলবেন না কেন?

রতন চক্রবর্তী

হাবরা, উত্তর ২৪ পরগনা 

কিসের প্রতীক

ভোটযুদ্ধ বোধ হয় গণতন্ত্রের ব্যাপকতম অবনতি। নেতারা নিজেরা কী করেছেন, তার চেয়ে, অন্যেরা কী করেননি তা বলতেই ব্যস্ত। আজ ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটা এই সব নেতাদের কাছে অর্থহীন, কারণ তাঁরা জোর গলায় বলছেন, আমি হিন্দুদের জন্য কাজ করেছি, মুসলিমদের জন্য কাজ করেছি, খ্রিস্টানদের জন্য কাজ করেছি। কেউ বলেন না, আমি ধর্ম নয়, মানুষের জন্য কাজ করেছি। আমার বয়স ১৭, পরের বছর ভোটার হব আমি, কিন্তু এখনই আমার মনে হচ্ছে, ভোটার কার্ড আমার কাছে প্রকৃত গণতন্ত্রের প্রতীক হবে না।

দেবজ্যোতি হালদার

কালনা, পূর্ব বর্ধমান

হাসি হাসি পোজ়

ভোটের মরসুমে কোনও হেভিওয়েট প্রার্থী যখন বিডিও/এসডিও অফিসে তাঁদের মনোনয়নপত্র পেশ করেন, তাঁদের প্রচুর সাঙ্গোপাঙ্গ, ক্যামেরাম্যান, সাংবাদিক সবাই অফিসে ঢোকেন। প্রার্থী ও সরকারি অফিসার কাগজটি ধরে ছবি তোলার জন্য এমন ভাবে পোজ় দেন, যেন কেউ বিশ্বজয় করে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে শংসাপত্র নিচ্ছেন! সংবাদমাধ্যমগুলি এই ছবি ফলাও করে ছাপে বা দেখায়। এটি সরকারি অফিসের কার্যপদ্ধতির স্বাভাবিক গাম্ভীর্য ও ছন্দের পরিপন্থী হলেও, বর্তমান গণতন্ত্রের মহিমায় বেচারি অফিসারগণ নেতাদের আবদারে হাসি হাসি মুখে পোজ় দিতে বাধ্য হন। সাধারণ জনগণ যদি এ ভাবে তাঁদের সকল আবেদন/অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অফিসারের হাতে হাতে জমা করে একটা ছবি পেতে পারেন, যথার্থই উপকার হয়।

আনন্দ বক্সী

কলকাতা-৮৪

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 

কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।