সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সম্পাদক সমীপেষু: অসামান্য হেমন্ত

Hemantra Mukherjee

‘বিশ্বজনীন হেমন্ত’ (৩-৬) চিঠিটির সূত্রে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় কী অসামান্য মানুষ ছিলেন, তার একটি নমুনা আমি তুলে ধরতে চাই। অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার একটি গ্রামের স্কুলে আমি তখন ১৯৬৪ বা ১৯৬৫-তে নবম বা দশম শ্রেণিতে পড়ি। স্কুলের নাম সবং সারদাময়ী উচ্চ বিদ্যালয়। আমরা টিন ও টালির চালের এই স্কুলের মধ্যেই কোনও মতে কয়েকটি ঘরে অনেকে থাকি। একে আমরা বলি ‘বোর্ডিং’। 

আমাদের স্কুলে এক জন, জীবনের অনেক বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে, প্রায় ২২/২৩ বছর বয়সে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হল, জীবন নতুন ভাবে শুরু করার জন্য। নাম কালীপদ বেরা, আমরা ডাকতাম কালীদা। সে ছিল আমাদের স্কুলের সব অনুষ্ঠানের বাঁধাধরা সঙ্গীতশিল্পী। অপূর্ব গানের গলা ছিল। 

এক দিন আমাদের প্রধানশিক্ষক খবর দিলেন, কালীদার বম্বে থেকে চিঠি এসেছে। জানা গেল, চিঠির লেখক সঙ্গীতশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। কালীদা কোন একটা পত্রিকা থেকে হেমন্তের ঠিকানা জোগাড় করে, তাঁকে চিঠি লিখেছিল, তাঁর বাড়িতে কাজের লোক হিসেবে থেকে গান শিখতে চেয়ে। জানিয়েছিল তার দারিদ্রের কথা। 

হেমন্ত উত্তরে তাকে মন দিয়ে লেখাপড়া করতে বলেছেন। লিখেছেন, তোমাকে মানি অর্ডার মারফত সামান্য কিছু পাঠালাম, গ্রহণ করো। আমরা জানলাম উনি যে পরিমাণ টাকা পাঠিয়েছেন, তা এই দরিদ্র ছাত্রের সারা বছরের খরচ। সঙ্গে কালীদার অনুরোধে নিজের সই করা একটি ছবিও পাঠিয়েছেন। 

আমরা এই ঘটনায় অভিভূত ছিলামই। কিন্তু আরও অভিভূত হলাম, যখন পরের বছর একই সময়ে, হেমন্ত সমান পরিমাণ আর্থিক সাহায্য কালীদাকে আবার পাঠালেন, সঙ্গে তাঁর লেখা একটা চিঠিও।

শক্তিপদ পাত্র

দক্ষিণ সিঙ্গাতলা, মালদা

 

অসমে হেমন্ত

১৯৬৮ সাল। অসমে তখন সবে ‘বঙ্গাল খেদা’ আন্দোলন শুরু হয়েছে। সেই সময়ে অসমের বঙ্গ সংস্কৃতি সম্মেলনের উদ্যোগে গুয়াহাটিতে একটি অনুষ্ঠানে হেমন্তবাবুকে গান গাইবার আমন্ত্রণ জানানো হল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত তবু উনি আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন। 

গুয়াহাটিতে ফ্যান্সি মার্কেটের কাছে একটি মাঠে জলসা হবে। হেমন্তবাবু ওঁর চিরাচরিত পোশাক ধুতি, শার্ট পরে গান গাইতে উঠলেন। দর্শকদের মধ্যে বাঙালি, অসমিয়া ছাড়াও বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ ছিলেন। অসমিয়া দর্শকরা চিৎকার করতে লাগলেন,  তৎকালীন সুপারহিট সিনেমা ‘নাগিন’-এর গান দিয়ে শুরু করতে হবে। 

হেমন্তবাবু দর্শকদের নমস্কার জানিয়ে হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান ধরলেন ‘ও আমার দেশের মাটি, তোমার পরে ঠেকাই মাথা’। চার পাশে তখন অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। গান শেষ হওয়ার পর, সব শ্রোতা কয়েক মিনিট ধরে করতালি দিয়ে ওঁকে অভিনন্দন জানান। পরের দিন নামী সংবাদপত্র ‘আসাম ট্রিবিউন’ বিরাট করে এই সংবাদ প্রকাশ করে।

শোভনলাল বকসি

কলকাতা-৪৫

 

চড়াচড়ি

লকডাউনে রেল কর্তৃপক্ষ তাঁদের কর্মচারীদের জন্য ইএমইউ ট্রেন চালালেন। এই ট্রেনে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের চড়ার অনুমতি নেই। অথচ রাজ্য সরকারের পরিবহণ বিভাগের লঞ্চে, ফেয়ারলি প্লেস বা কয়লাঘাটে রেলের অফিসের কর্মীরা যাতায়াত করলেন (যদিও টিকিট কেটে)। শহরতলির রাজ্য সরকারি কর্মীরা কী ভাবে অফিসে যাবেন?

পার্থ সারথি রায়

রসুলপুর, পূর্ব বর্ধমান

 

কোমাগাটামারু

স্নেহাশিস সুর তাঁর ‘বুকের পাঁজর পুড়িয়ে দিলে’ (১-৬) প্রবন্ধে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে কবিগুরুর যোগদান এবং জালিয়ানওয়ালা বাগের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নাইটহুড ত্যাগের কথা লিখেছেন।

জালিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকাণ্ডের কয়েক বছর আগে, ১৯১৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলার মাটি বজবজে একটি নৃশংস হত্যালীলা চালিয়েছিল তৎকালীন ব্রিটিশ প্রশাসন। ‘কোমাগাটামারু’ নামক এক জাহাজকে কেন্দ্র করে, কানাডা ফেরত একদল নিরীহ শিখ যাত্রীর সঙ্গে ইংরেজ সৈন্যদের এক আকস্মিক খণ্ড-সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে ব্রিটিশ সৈন্যদের নির্মম গুলিতে অসহায় ভাবে মারা পড়েন বহু শিখ যাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছিল তৎকালীন বজবজের পুরাতন রেল স্টেশনের পাশে। সমগ্র দেশ জুড়ে, এমনকি ইংল্যান্ডেও ‘কোমাগাটামারু’ ঘটনার পর রীতিমতো সাড়া পড়ে যায়।

এই ঘটনার কথা জানতে পেরে রবীন্দ্রনাথ ভীষণ মর্মাহত হয়েছিলেন। জোড়াসাঁকোর এক ঘরোয়া আসরে দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজের কাছে দুঃখ করে বলেছিলেন, “কোমাগাটামারু থেকে যারা পালিয়েছে, সরকারি নীতি হল, তাদের ‘ক্রমাগত মারো’— এ অসহ্য!” অ্যান্ড্রুজকে তিনি বলেন, ‘‘এর প্রতিকার চাই। যা করতে হবে বললে, আমিও নিশ্চয়ই করব।” (তথ্যসূত্র: রবীন্দ্রনাথ ও বিপ্লবীসমাজ,  চিন্মোহন সেহানবীশ; পৃ ৩০-৩১)।

১৯১৬-য় অামেরিকা ভ্রমণের সময় কবিগুরু কানাডা যাওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন, ‘কোমাগাটামারু’ ঘটনার প্রতিবাদেই।

ভারতের ইতিহাসে এ ঘটনাটি জালিয়ানওয়ালা বাগের ঘটনার সমতুল মর্যাদা পায়নি। তবে রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতো ইতিহাসবিদ বলে গিয়েছেন, "Perhaps when all the facts are known, the Budge Budge massacre would be placed in the same category as that of Jallianwala Bagh."

রঞ্জন পরামানিক

বজবজ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

 

রামানন্দ

‘বুকের পাঁজর পুড়িয়ে দিলে’ লেখাটিতে রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের নাম না দেখে অবাক হলাম। যাঁদের সঙ্গে কবি পরামর্শ করেছিলেন, তাঁদের এক জন ছিলেন রামানন্দ। তিনিই কবির চিঠি তাঁর দুটি পত্রিকায় (‘প্রবাসী’ ও ‘মডার্ন রিভিউ’) ছাপেন।

অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

অধ্যাপক, রামানন্দ কলেজ

 

অহিংসা

‘বুকের পাঁজর পুড়িয়ে দিলে’ নিবন্ধে লেখা হয়েছে, ‘‘৫ এপ্রিল গাঁধী গুরুদেবের সমর্থন চেয়ে একটি চিঠি দেন। ১২ এপ্রিল রবীন্দ্রনাথ তার উত্তরে সত্যাগ্রহের সমর্থনে চিঠি লেখেন।’’ রবীন্দ্রনাথ ১৬ এপ্রিল ১৯১৯ সালে গাঁধীকে লেখা একটি খোলা চিঠিতে, গাঁধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই সত্যাগ্রহ আন্দোলনের বিরোধিতা করেন। কবি লেখেন, "I know your teaching is to fight against evil by the help of the good. But such a fight is for the heroes and not for men led by impulses of the moment." গাঁধীজি এই সত্যাগ্রহ আন্দোলন ১৮ এপ্রিল প্রত্যাহার করেন এবং বলেন এটা ছিল ‘হিমালয়প্রমাণ ভুল’। অমলেশ ত্রিপাঠী তাঁর ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস’ গ্রন্থে লিখেছেন, এই সত্যাগ্রহ প্রত্যাহার করে গাঁধীজি রবীন্দ্রনাথের মতামতকে কার্যত স্বীকার করে নিয়েছিলেন। 

১৯২২ সালে রবীন্দ্রনাথ গুজরাতের এক লেখককে খোলা চিঠিতে জানান, অহিংসা মন্ত্রকে এ ভাবে রাজনীতিতে প্রয়োগ করা বিপজ্জনক; মানুষের মনকে প্রস্তুত না করে এ ভাবে আন্দোলন শুরু করা, আর রণশিক্ষা না দিয়ে যুদ্ধে সৈন্য পাঠানো এক‌ই। চিঠিতে কবি লেখেন, ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্রোধকে উত্তেজিত করে, তার পর অহিংসা মন্ত্রে সেই ক্রোধকে দমন করা যায় না। ১৯২২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কবির এই চিঠি প্রকাশিত হয়। তার তিন দিন পরেই, ৬ ফেব্রুয়ারি চৌরিচৌরা-য় জনতা হিংসাত্মক আন্দোলনে লিপ্ত হয়। সত্যি হয় কবির আশঙ্কা। 

সুদীপ বসু

মেদিনীপুর শহর, পশ্চিম মেদিনীপুর

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন