Advertisement
০১ মার্চ ২০২৪

সম্পাদক সমীপেষু: উড়ালপুল ও জীবন

বছর তিনেক আগে ভেঙে পড়েছিল পোস্তার নির্মীয়মাণ উড়ালপুলের একাংশ। এই নিয়ে বহু লেখালিখি হয়েছে। ২৮-৩-১৯ তারিখের খবর অনুযায়ী এখন পর্যন্ত পুলিশ চূড়ান্ত চার্জশিট আদালতে জমা দিতেই পারেনি।

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০১৯ ২৩:২০
Share: Save:

বছর তিনেক আগে ভেঙে পড়েছিল পোস্তার নির্মীয়মাণ উড়ালপুলের একাংশ। এই নিয়ে বহু লেখালিখি হয়েছে। ২৮-৩-১৯ তারিখের খবর অনুযায়ী এখন পর্যন্ত পুলিশ চূড়ান্ত চার্জশিট আদালতে জমা দিতেই পারেনি। এখনও ওই ঘটনার বিচারপর্ব শুরুই হয়নি। ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য। রাজ্য সরকার খড়্গপুর আইআইটিকে উড়ালপুলটি ভেঙে পড়ার কারণ সম্বন্ধে রিপোর্ট তৈরি করতে বলেছিল। আইআইটি ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করেছে। রিপোর্টে উড়ালপুলের নকশার গলদ, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে উড়ালপুর তৈরি ও ত্রুটিপূর্ণ কার্যপদ্ধতিকে দায়ী করা হয়েছে। ওই পুলটিকে ভেঙে ফেলার পক্ষেই মত দিয়েছিলেন তাঁরা।

ইতিমধ্যে পুলটি তৈরি করতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচা হয়েছে, এবং সেটি ভেঙে ফেলতে গেলে ১০০ কোটি টাকার মতো খরচা হবে। প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী ১৬ জন অভিযুক্তকে ধরা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে তারা সকলেই এখন জামিনে মুক্ত।

আমি দীর্ঘ দিন নিউ ইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার ছিলাম। ওখানে আমার তত্ত্বাবধানে নিউ ইয়র্কের কুইন্স-এ একটি ব্রিজ তৈরি করার সময় ব্রিজ সংলগ্ন একটি বাড়িতে ফাটল দেখা গিয়েছিল। বাড়ির মালিক ডিপার্টমেন্ট এবং কন্ট্রাকটারকে একসঙ্গে অভিযুক্ত করেছিলেন। আমাকে এবং আমার ডিপার্টমেন্টের উচ্চপদস্থ অফিসারদের কোর্টে যেতে হয়েছিল। তিন মাসের মধ্যে কোর্টের বাইরে এই মামলার নিষ্পত্তি হয়েছিল। কোনও মৃত্যু না হওয়া সত্ত্বেও বাড়ির মালিক যে ক্ষতিপূরণ পেয়েছিলেন সেটা ভারতে বসে কেউ কল্পনাও করতে পারবেন না। মৃত্যু হলে ঠিকাদার বা আমাদের দু’এক জনকে জেলে যেতে হত।

তাই ভাবছিলাম, দেশে দেশে মানুষের জীবনের দামের পার্থক্য কতখানি হতে পারে!

অলোক সরকার

কলকাতা-৭৫

অটোর দৌরাত্ম্য

আমরা দীর্ঘদিন ধরেই অটোচালকদের দৌরাত্ম্যের শিকার। বারুইপুর থেকে গড়িয়া/গড়িয়া থেকে বারুইপুরগামী রুটের কোনও অটো সকাল ৮:৩০ থেকে ১১:০০ পর্যন্ত গড়িয়া যায় না। সরাসরি যায় না, কাটা রুটে চলাচল করে— বারুইপুর থেকে হরিনাভি, হরিনাভি থেকে রাজপুর, রাজপুর থেকে নরেন্দ্রপুর/কামালগাজি, নরেন্দ্রপুর থেকে গড়িয়া পর্যন্ত। বিকেল সাড়ে চারটের পর থেকে আবার সেই একই অবস্থা। ফলে অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষের খুব অসুবিধা হয়। মাননীয় পরিবহণ মন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ, এই বিষয়টি সম্পর্কে যথাযথ ব্যবস্থা করলে এই এলাকার সকল মানুষ উপকৃত হবেন।

প্রিয়দর্শিনী সেনগুপ্ত

কলকাতা-১৪৮

অপরিসর পথ

দমদম স্টেশন সারফেস রেল, মেট্রো রেল ও চক্র রেলের মিলনস্থল হিসাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। বহু বয়স্ক যাত্রী এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু স্টেশনে ঢোকার অপরিসর জায়গাতে সব্জি, ফলের দোকান, ফাস্টফুডের দোকান বসার ফলে যাতায়াতের প্রচণ্ড অসুবিধা হয়। সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা মাথায় না রেখে কাদের স্বার্থ চরিতার্থ হয় এই সব দোকানগুলির থেকে? অবিলম্বে এই সমস্ত দোকান তুলে দিয়ে রেল যাত্রীদের যাতায়াতের পথ সুগম করলে মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হয়।

বিবেকানন্দ সরকার

কলকাতা-৭৪

বাসরুট

আমি রাজারহাট থানার অন্তর্গত রাজারহাট নাইপুকরের বাসিন্দা। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের আবেদন, রাজারহাট থেকে ধর্মতলা বা হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত অথবা সল্টলেক পর্যন্ত (ভায়া বাগুইআটি, উল্টোডাঙা) সরকারি বাসরুট চালু করা হোক। হাড়োয়া থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত একটি সিটিসি বাস চলাচল করে ঠিকই, কিন্তু তা সংখ্যায় খুবই কম।

মীর মোহাম্মদ সামিম

রাজারহাট, উত্তর ২৪ পরগনা

তারের বোঝা

কলকাতার রাজপথের ফুটপাতে বিভিন্ন জায়গায় অসংখ্য তার ঝুলে আছে। কোনও জায়গায় ফুটপাতে তারগুলি বা তারের বোঝা মানুষের মুখে লাগছে, কোথাও বা তারের বোঝা পায়ে পর্যন্ত লাগছে। আলিপুর, ধর্মতলা, গড়িয়াহাট, কলেজ স্ট্রিট, শিয়ালদহ, দমদম ইত্যাদি জায়গায় তারগুলি এই ভাবে ঝুলে থাকার চিত্র দেখতে পাই। এর ফলে স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের এবং প্রত্যহ কর্মস্থলে যাতায়াতকারী যাত্রিসাধারণের

খুবই অসুবিধা হয়। আবার কলকাতা অঞ্চলে ঝড়ে তারগুলি বা তারের বোঝা ক্রমশ আরও নীচে নেমে গিয়েছে, যা ছাত্রছাত্রীদের ও সাধারণ মানুষজনের চলার পথে অন্তরায় হয়ে উঠছে। যে কোনও সময় বিপদও হতে পারে।

শিব প্রসাদ জানা

নামখানা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

নিষিদ্ধ হোক

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ‘বাসন্তী বাজার মেন রোড’ সরাসরি বাসন্তী হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত। বাসন্তী বাজারের প্রবেশদ্বার থেকে একটা ছোট ৮ ফুট চওড়া ও ৩০০ মিটার লম্বা বাইপাস রাস্তা (মাদার টেরিজ়া সরণি) বাসন্তী বাজার মেন রোডের পাশেই হাইওয়ের সঙ্গে মিশেছে। এই মাদার টেরিজ়া সরণির পাশে আছে ক্যাথলিক কবরস্থান, দু’টি নার্সিংহোম, স্কুল, ছাত্রী-আবাস। সর্বদা থাকে শবযাত্রী, রোগী, ছাত্রছাত্রীর ভিড়। মাদার টেরিজ়ার সুপারিশে পিডব্লিউডি এই রাস্তায় ইট বিছিয়ে দেয়। ব্রিজ পয়েন্টে ক্যাথলিক চার্চের সামনে যখন রাজনৈতিক-ধর্মীয় সমাবেশ হয় তখন এই ছোট্ট বাইপাস, মেন রোড হয়ে যায়। এখন বাজার মেনরোড মেরামত হয়েছে। এই বাইপাস দিয়ে গাড়ি যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু না, পূর্ববৎ প্রচণ্ড গতিতে মোটরবাইক চলছে। দুর্ঘটনা নিত্যসঙ্গী। গত ৮ এপ্রিল দুই অল্পবয়স্ক মোটরবাইকে ভয়ঙ্কর বেগে চলাকালীন ব্রেক মেরে ৫০ ফুট ঘষে গিয়ে, পড়ে আহত হয়ে পাশের নার্সিংহোমে ভর্তি হল। অথচ এই রাস্তা পুরো বন্ধ হলেও বহিরাগত কারও সামান্যতম ক্ষতি নেই। আবেদন: এখনই এই বাইপাসে মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ হোক।

প্রভুদান হালদার

বাসন্তী, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

ভূগর্ভস্থ পথ

হাওড়া স্টেশনের ৮ ও ৯ প্ল্যাটফর্মের দিক থেকে লঞ্চ ঘাট যাওয়ার সাবওয়ে/ ভূগর্ভস্থ পথের সবটাই প্রায় নোংরায় ভর্তি। দুর্গন্ধে হাঁটা যায় না। পুরো টানেলটাই নেশাখোর, ভবঘুরেদের নিরাপদ আড্ডাস্থল। প্রকাশ্যে চলে ডেনড্রাইট, গাঁজার নেশা। এদের দাপটে কিছু নিত্যযাত্রী ছাড়া অন্যান্যরা যাতায়াত করতে ভরসা পান না। সিঁড়ি সমেত রাস্তায় তারা যত্রতত্র মল, অন্যান্য নোংরা ইচ্ছাকৃত ফেলে রাখে। রেল পুলিশ নির্বিকার। তাদের উত্তর “নেশাখোরদের সরানো কঠিন, ধরে আনলে যদি লকআপে কিছু হয় কে দায়িত্ব নেবে?’’ এই ভবঘুরেদের দাপট প্ল্যাটফর্ম চত্বরেও বেড়েছে। নোংরা মেখে, নোংরা ঝোলা সমেত ভিড়ের সময় ঢুকে পড়া, ধাক্কা দেওয়া বা চলাচলের রাস্তাতেই শুয়ে থাকা রোজের বিরক্তিকর ব্যাপার। এর কি সত্যি কোনও সুরাহা নেই?

অরিত্র মুখোপাধ্যায়

শ্রীরামপুর, হুগলি

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু,
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,
কলকাতা-৭০০০০১।
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

ভ্রম সংশোধন

‘উত্তপ্ত চোপড়ায় গুলিবিদ্ধ কিশোর’ (পৃ ৫, ২০-৪) শীর্ষক সংবাদে কিছু সংস্করণে ভুল করে চোপড়া রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বলে লেখা হয়েছে। চোপড়া দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement

Share this article

CLOSE