সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সম্পাদক সমীপেষু: আশ্চর্য কল বিজ্ঞানের

Invention

‘বিজ্ঞানের কলও ...’ (রবিবাসরীয় ২৮-৪) প্রবন্ধের কয়েকটা অসম্পূর্ণতা নিয়ে এই চিঠি।   

(১) গালিলেও আদৌ ‘পৃথিবীকে ব্রহ্মাণ্ডের কেন্দ্র থেকে নিঃক্ষেপ’ করেননি। এটা কোপারনিকাসের কাজ। গালিলেও সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদের সমর্থক ছিলেন, প্রতিষ্ঠাতা নন। স্বনির্মিত দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে বৃহস্পতির চারটে উপগ্রহ: আয়ো, ইউরোপা, গ্যানিমিড, ক্যালিস্টো পর্যবেক্ষণ করেছিলেন গালিলেও। সমস্ত মহাজাগতিক বস্তু যে পৃথিবীকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় না— তাঁর পর্যবেক্ষণে এটাই প্রমাণিত হয়েছিল। বৃহস্পতির উপগ্রহগুলো বৃহস্পতিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে, পৃথিবীকে কেন্দ্র করে নয়। গালিলেওর পর্যবেক্ষণ থেকে, ব্রহ্মাণ্ডের কেন্দ্রে পৃথিবী অবস্থিত কি না, এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তে আসা যায় না। তাঁর পর্যবেক্ষণ বরং কিছুটা টাইকো ব্রাহে-র মডেলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, কোপারনিকাসের সঙ্গে নয়।

(২) ‘১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ভেস্টো মেলভিন স্লিফার’ ‘বিচিত্র ব্যাপার’ লক্ষ করেননি। ১৯১২ সালে তিনি ‘বিচিত্র ব্যাপার’ লক্ষ করেন। ১৯১৩ সালে প্রকাশিত ‘দ্য রেডিয়াল ভেলোসিটি অব দ্য অ্যান্ড্রোমিডা নেবুলা’ নিবন্ধে তিনি প্রথম রেড শিফটের উল্লেখ করেন। লেখেন, "The first of the recent plates was … on September 17, 1912 …" অর্থাৎ, তাঁর পর্যবেক্ষণের শুরু ১৯১২ সালে। ওই নিবন্ধে তিনি লেখেন, "This result suggests that the nebula, in its swift flight through space, …" ১৯১৪, ১৯১৫, ১৯১৭ সালেও রেড শিফট বিষয়ে নিবন্ধ প্রকাশ করেন স্লিফার।     

(৩) স্লিফারই প্রথম রেড শিফট পর্যবেক্ষণ করেছিলেন বলে প্রবন্ধে প্রতিপন্ন হয়েছে। ১৮৯৬ সাল থেকে রেড শিফট পর্যবেক্ষণ ও গণনা শুরু করেন জেমস এডোয়ার্ড কিলার ও তাঁর অনুজপ্রতিম সহকর্মী উইলিয়াম ওয়ালেস ক্যাম্বেল। ১৯১৩ সালের উপরোক্ত নিবন্ধের প্রথম লাইনেই স্লিফার লিখেছেন, "Keeler, by his splendid researches on the nebulae, showed, among other things, that the nabulae are generally spiral in form, ..." ‘ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স’ (ইউ এস), তাঁদের দ্বাদশ সভাপতি উইলিয়াম ওয়ালেস ক্যাম্বেল স্মরণে লিখেছেন, "He spent some thirty years measuring the radial velocity of some 1,000 stars, a tedious process, thereby establishing the spatial drift of the solar system".    

(৪) ‘হাব্‌ল সূত্র’ ‘হাব্‌ল-লেমাইত্রে সূত্র’ নামে পরিচিত হওয়াকে ‘নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন লেখক। একই সূত্র দু’জনে স্বাধীন ভাবে আবিষ্কার করেছেন এবং যৌথ নামেই সূত্রের পরিচিতি, নজিরবিহীন নয়। প্রবন্ধকার বর্ণিত ‘ডপলার এফেক্ট’ স্বতন্ত্র ভাবে পরে আবিষ্কার করেন আর্মান্ড ইপোলিৎ লুই ফিজো। এই সূত্র পরে ‘ডপলার-ফিজো এফেক্ট’ নামে পরিচিতি পায় (যদিও ‘ডপলার এফেক্ট’ নামটাই জনপ্রিয়)। একই সময়কালে, নিউটন ও লিবনিৎজ় ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেন। নিউটন লিবনিৎজ়কে তাঁর তত্ত্ব চুরির (কুম্ভীলকবৃত্তি) দায়ে অভিযুক্ত করেন। পরে দু’জনেই ক্যালকুলাসের স্রষ্টার সম্মান পান। আরও দু’একটা এমন উদাহরণ আছে। তবে ভোটাভুটি করে সূত্রের নাম পাল্টানো নজিরবিহীনই বটে।      

(৫) প্রবন্ধে, লেমাইত্রের জীবনের দুটো গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ অনুপস্থিত। (ক) লেমাইত্রে ‘বিগ ব্যাং’ তত্ত্বের প্রথম প্রবক্তা। ৯ মে ১৯৩১ সালে তিনি লেখেন, "… we could conceive the beginning of the universe in the form of a unique atom, the atomic weight of which is the total mass of the universe" (যদিও রাশিয়ান পদার্থবিদ আলেক্সান্দার ফ্রিডম্যান, ১৯২২ সালে, প্রায় একই তত্ত্বের অবতারণা করেন)। 

(খ) লেমাইত্রে সম্পর্কে আইনস্টাইন অবগত ছিলেন। ১৯২৭, ’৩২, ’৩৩, ’৩৪ সালে লেমাইত্রে-আইনস্টাইন সাক্ষাৎকার ঘটে। সর্বতো ভাবে লেমাইত্রের তত্ত্বকে খারিজ করে আইনস্টাইন বলেছিলেন “পদার্থবিজ্ঞানে আপনার জঘন্য ধারণা।” 

(৬) ‘কোনও আবিষ্কারই প্রকৃত আবিষ্কর্তার নামে চিহ্নিত হয় না।’ বহুলাংশেই সত্য। পিথাগোরাসের সূত্র পিথাগোরাস আবিষ্কার করেননি। সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদের প্রথম প্রবক্তা অ্যারিস্টারকাস, কোপারনিকাস নন। গণিতের ‘ল’পিটাল সূত্র’ জোহান বারনলির আবিষ্কার... বিজ্ঞানের কল নড়ল কি? 

সহস্রলোচন শর্মা

কলকাতা-৮

গোপালচন্দ্র

এক বিস্মৃতপ্রায় বাঙালি বিজ্ঞান-সাধকের নাম গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য। তিনি ছিলেন প্রকৃতিবিজ্ঞানী, বিজ্ঞান-প্রবন্ধকার, বিজ্ঞান শিক্ষক ও বহু পত্রিকার সম্পাদক। তাঁর জন্ম ১ অগস্ট, ১৮৯৫। অবিভক্ত বাংলার শরিয়তপুর জেলার লোনসিং গ্রামে। সংসারের অভাবনীয় কষ্ট সামলেও তিনি কৃতী ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া দাম হওয়ার দরুন তাঁর কলেজের পড়াশোনা সম্পূর্ণ হয়নি।  

তিনি শিক্ষক হিসেবে ছাত্রদের কাছে তুলে ধরেছিলেন বিজ্ঞানের  প্রয়োগিক দিক। লেখক হিসেবে বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার এক নতুন দিক উন্মোচন করে গিয়েছেন। তাঁকে বলা যায় এক জন কিংবদন্তি কীটপতঙ্গ বিশারদ, তাঁর লেখা ‘বাংলার কীটপতঙ্গ’ বাংলা বিজ্ঞান সাহিত্যের এক অনবদ্য গ্রন্থ।

‘প্রবাসী’ পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর রচনা ‘পচা গাছপালার আশ্চর্য আলো বিকিরণ করবার ক্ষমতা’ পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলেন স্বয়ং জগদীশচন্দ্র বসু। গোপালচন্দ্র তার পর জগদীশচন্দ্রের সাহচর্য লাভ করে তাঁর গ্রন্থের ইলাস্ট্রেশনের কাজও করেছিলেন, তাঁর সঙ্গে প্রচুর গবেষণাপত্রও প্রকাশ করেছিলেন। ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির’-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। 

প্রথম জীবনে তিনি হাতে লেখা পত্রিকা ‘শতদল’ প্রকাশ করেছিলেন। এর পর ‘কাজের লোক’, ‘সনাতন’ ইত্যাদি পত্রিকার সম্পাদনার কাজ করে, সত্যেন্দ্রনাথ বসু প্রতিষ্ঠিত ‘বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে, দীর্ঘ দিন সেখান থেকে প্রকাশিত ‘জ্ঞান ও বিজ্ঞান’ পত্রিকা সম্পাদনার কাজ করেছিলেন। যদিও ১৯৭৭ সালে এপ্রিলে কেন্দ্রীয় সরকারের এক বিচিত্র নিয়মের ফলে তাঁকে সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়। তিনি স্নাতক নন, তাই সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হয় তাঁকে। তবুও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ‘জ্ঞান ও বিজ্ঞান’ পত্রিকার মুখ্য উপদেষ্টা পদে ছিলেন। 

তিনি প্রায় ৮০০-র মতো বিজ্ঞানের লেখা লিখেছিলেন। একাধিক নামী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গিয়েছেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান জগতে অবদানের জন্য পেয়েছেন ডি এসসি ডিগ্রি। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁর নামাঙ্কিত পুরস্কার বিজ্ঞানকে জনপ্রিয়করণের জন্য প্রদান করে আসছে।

উনি ৮ এপ্রিল, ১৯৮১ কলকাতায় পরলোকগমন করেন। আগামী ১ অগস্টে তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে স্মরণ করে আমরা যদি তাঁর কাজগুলিকে নিয়ে চর্চা করি, তাঁকে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে। 

ইন্দ্রনীল মজুমদার

কলকাতা-৪৭

ভোটে পরিবেশ

ভোট প্রচারে কোনও রাজনৈতিক নেতা বা নেত্রীর কণ্ঠে ধ্বনিত হল না পরিবেশ সচেতনতার বার্তা। নেই বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে কথা, নেই পুকুর নদী খাল খননের কথা, নেই বনভূমি রক্ষা বা বনসৃজনের কথা। এ সব কি উন্নয়নের মধ্যে পড়ে না? অথচ ভোট প্রচারের জন্য, বড় বড় পেরেকে গাছের গা বিদ্ধ করে দিব্যি দলীয় পতাকা বা পোস্টার টাঙানো হচ্ছে। প্লাস্টিকের পতাকাও ব্যবহার করা হচ্ছে যথেচ্ছ। ঘুরে ঘুরে ভোট প্রচারে তারস্বরে মাইক বাজানো আর ভোটে জেতার পর নিষিদ্ধ শব্দবাজি ফাটানোর সময় শব্দদূষণের কথাও কারও মনে থাকছে না।

দিলীপ কুমার পাত্র 

চংরা, পূর্ব মেদিনীপুর

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন