‘রাজীব-গ্রেফতার চায় সিবিআই’ শিরোনামে জয়ন্ত ঘোষালের প্রতিবেদনটি (প্রথম পৃষ্ঠা, ৬-৯) উদ্দেশ্যমূলক দুরভিসন্ধি নিয়ে লেখা হয়েছে। নিম্নলিখিত বিষয়গুলি আপনার নজরে আনা হল।
১) প্রতিবেদক গত বুধবার (৫-৯) রাত্রি ১০:০৮ মিনিটে কলকাতার নগরপালকে একটি এসএমএস পাঠান। মেসেজটি হুবহু তুলে দেওয়া হল।
''Hello sir this is Jayanta Ghosal. Editor abp delhi. CBI sources saying they want to go to court to request for arrest warrant against u so that u can come for interrogation but I think it is the asthana politics against u. I have done a story but xposed why CBI doing it. U know everything. U know me. U can react. U can give your reaction. U can call me bk for conversation of the record. Any time. Tomorrow or any day if U game. Regards sir''
উপরোক্ত মেসেজ থেকেই পরিষ্কার, প্রতিবেদনটি লেখার পর ("I have done a story") রাত দশটা বেজে আট মিনিটে একটি মেসেজ পাঠিয়ে রেখে প্রতিবেদক ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে চেয়েছেন।
২) প্রতিবেদনে একটি মামলার বিষয়ে লেখা হয়েছে, ‘‘এই পরিস্থিতিতে সিবিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত অফিসার রাকেশ আস্থানা বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক স্তরে আলোচনা সেরেছেন।’’
এই বাক্যটির দু’টি মানে দাঁড়ায়।হয় প্রতিবেদকের সূত্রটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। সে ক্ষেত্রে কুৎসামূলক দুরভিসন্ধিই প্রমাণিত হয় এবং মানহানির মামলার প্রসঙ্গ উঠে আসে। নয়তো মামলাটির গতিপথ সত্যিই রাজনৈতিক প্রভাবে নির্ধারিত হচ্ছে। যদি দ্বিতীয়টি সত্যি হয়, যদি সত্যিই একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত আইনবহির্ভূত ভাবে রাজনৈতিক স্তরে প্রভাবিত হয়, তা হলে প্রতিবেদক এই খবরের রাজনৈতিক বা সিবিআই-সূত্র প্রকাশ করুন এবং তা তদন্তকারী সংস্থা এবং আদালতকে জানান, কারণ এই মামলাটির তদন্ত হচ্ছে মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে।
৩) প্রতিবেদনটির শেষাংশে লেখা হয়েছে, নগরপাল ‘‘ভিন্ন একটি বিষয়ে আস্থানার বিরুদ্ধে মামলা লড়ছেন। কলকাতা পুলিশ সূত্রের খবর, আস্থানার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করার কথা তারাও ভাবছে।’’ স্পষ্ট জানানো হচ্ছে, নগরপাল এমন কোনও মামলা লড়ছেন না। কলকাতা পুলিশেও শ্রীআস্থানার বিরুদ্ধে কোনও মামলা নথিভুক্ত নেই। চার্জশিটের প্রশ্ন তাই অবান্তর।
প্রতিবেদক এই ভুল তথ্যগুলি কী ভাবে কোন সূত্রে পেলেন এবং সত্য যাচাই না করে কী ভাবে আপনার কাগজে সেটি ছাপা হল, সেই প্রশ্নের উত্তর দাবি করছি।
৪) সিবিআই সূত্র উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনের প্রথমাংশে কিছু বক্তব্য পেশ করা হয়েছে। সূত্র প্রকাশের দায় প্রতিবেদকের থাকে না। কিন্তু সূত্রভিত্তিক কোনও প্রতিবেদনে যাতে কোনও ব্যক্তির এবং প্রতিষ্ঠানের সামাজিক সম্মানহানি না হয়, সে দায় সংবাদমাধ্যমের থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি। এ-ও মনে করি, এই প্রতিবেদনটি জনমানসে ব্যক্তির মর্যাদাহানির দুরভিসন্ধি নিয়েই প্রকাশিত হয়েছে।
৫) কয়েক দিন আগে আনন্দবাজার পত্রিকার কয়েক জন পদস্থ আধিকারিকের বিরুদ্ধে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছিল একটি মামলার ব্যাপারে। মামলাটি অর্থের বিনিময়ে আপনার কাগজে মিথ্যে খবর প্রকাশ সংক্রান্ত। আশা করি, আজকের প্রতিবেদনের
সঙ্গে সেই আইনি নোটিসের কোনও সম্পর্ক নেই।আমরা মনে করছি, ভুল তথ্য সংবলিত প্রতিবেদনটিতে ইচ্ছাকৃত ভাবে নগরপালের সম্মানহানি ঘটানো হয়েছে।
সুপ্রতিম সরকার
যুগ্ম কমিশনার (সদর), 
কলকাতা পুলিশ 

প্রতিবেদকের উত্তর:

১। প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোচ্য বিষয়ের প্রধান প্রেক্ষিত হল, মাননীয় সুপ্রিম কোর্টে সারদা মামলায় সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কলকাতার নগরপাল রাজীব কুমারকে নোটিস পাঠালেও আজও তিনি সিবিআইয়ের মুখোমুখি হননি। সিবিআই কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। মাননীয় বিচারপতি অরুণ কুমার মিশ্র প্রয়োজনে সিবিআইকে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেন।
২। বৃহত্তর বিষয়টি মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। আইন মেনে চলা সাংবাদিক হিসাবে বিচারাধীন বিষয়ে নিজের অধিকারের সীমানা সম্পর্কে সচেতন। তাই সিবিআই সূত্রে এই প্রতিবেদক জানার চেষ্টা করেন, জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য সিবিআই কী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করছে।
৩। সিবিআই সূত্র জানায়, এ ব্যাপারে তারা আইনি পরামর্শ নিচ্ছে। রাজীব কুমার জিজ্ঞাসাবাদে রাজি হলে তা হবে কাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি। না রাজি হলে সিবিআই হাইকোর্টের (সম্ভব হলে সুপ্রিম কোর্টের) হস্তক্ষেপ দাবি করবে।
৪। ভারতীয় সংবিধানের ১৪১ ও ১৪২ ধারায় এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের প্রভূত ক্ষমতার কথা জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট যে রায় ঘোষণা করে, তা দেশের সব রাজ্যে সব আদালতে একই ভাবে প্রযোজ্য হবে। ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিয়োর’-র ৪১ নম্বর অনুচ্ছেদে বিবরণ দেওয়া হয়েছে ‘নোটিস অব অ্যাপিয়ারেন্স বিফোর পুলিশ অফিসার’ শীর্ষক বিষয় নিয়ে। আইনানুসারে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যে কোনও ব্যক্তিকে নিয়ে আসার ক্ষমতা আদালতের আছে। কিছু দিন আগে সুপ্রিম কোর্ট এ ভাবে নাগাল্যান্ডের স্পিকারকে আদালতে আসতে বাধ্য করেছিলেন। আদালত তার কোনও প্রতিনিধির মাধ্যমে এ কাজটি করে না। যে কোনও রাজ্যের পুলিশের মাধ্যমে সেই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আদালতে আনতে হয়। এটা সিবিআইয়ের আইনজীবীদের বক্তব্য।
৫। দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট-এর ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে, সিবিআই যে কোনও ব্যক্তিকে উচিত মনে করলে গ্রেফতার করতে পারে। দুর্নীতি বা অন্য ফৌজদারি অভিযোগ ছাড়াও তথ্য লোপাট, পালিয়ে যাওয়া ও জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগিতা না করার সন্দেহে সিবিআই সরাসরি কোনও ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারে। বিধায়ক, সাংসদ, পুলিশ অফিসার শুধু নয়, বহু সেনা অফিসারকেও সিবিআই ওই বিশেষ ক্ষমতাবলে অতীতে গ্রেফতার করেছে। সিবিআইয়ের একটি পৃথক ‘গ্রেফতার গাইডলাইন’ রয়েছে। সেখানে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াও গ্রেফতারির কথা বলা হয়েছে। অবশ্য সে ক্ষেত্রে ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে বিচারের জন্য হাজির করতে হবে। সিবিআই রাজীব কুমারের ক্ষেত্রে এই 
প্রতিটি বিষয় নিয়েই আলোচনা করছে। কারণ, জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগিতা না করাকে যথেষ্ট বড় আইন অমান্য বলে মনে করছে সিবিআই। অবশ্য এ ক্ষেত্রে সিবিআই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালতের মাধ্যমেই তারা এগোবে।
৬। এই প্রতিবেদক আইনের এই ব্যাখ্যার যাথার্থ্য নিয়ে মত জানায়নি। পেশাদারি কারণে সিবিআই কোন পথে ভাবছে, জনস্বার্থেই তা আগাম পাঠককে জানাবার চেষ্টা করেছে মাত্র। প্রতিবেদকের নিজস্ব কোনও মতামত রাখা হয়নি।
৭। কলকাতা পুলিশ নিজেই জানিয়েছে, সাংবাদিক তার তথ্যসূত্র জানাতে বাধ্য নয়। তাই এ নিয়ে কিছু বলার নেই। তবে এ বিষয়ে আরও কিছু জানতে পারলে সংবাদপত্রেই তা জানানোর চেষ্টা করব।
৮। পুলিশ কমিশনারকে পাঠানো এসএমএস প্রতিবেদকের নিরপেক্ষতাকেই প্রতিষ্ঠিত করেছে। রাজ্য পুলিশ তাদের হেনস্থা করছে বলে সিবিআই আদালতে অভিযোগ জানিয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনারের প্রতিক্রিয়া চাওয়া পেশাদারি সাংবাদিকতার পরিচয়।
৯। প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, রাজীব কুমার ভিন্ন একটি বিষয়ে আস্থানার বিরুদ্ধে মামলা লড়ছেন। বিষয়টি আসলে বালিগঞ্জ পুলিশ তথা রাজ্য পুলিশ বনাম সিবিআই। সাধারণ মানুষকে সহজে বোঝানোর জন্য এ ভাবে লিখেছি। আইনি পরিভাষায় এটি আস্থানা-বিরোধী মামলা নয়। এই আইনি তথা ‘টেকনিকাল’ ত্রুটি আমার।
১০। প্রতিবেদনে পুলিশ কমিশনারের মানহানি হয়েছে বলে চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে। কারও মানহানি আমার উদ্দেশ্য নয়। তা সত্ত্বেও মানহানি হয়েছে বোধ হলে দুঃখিত। সত্যের অনুসন্ধান করা সাংবাদিকের কর্তব্য, সেই কর্তব্য পালনের উদ্দেশ্যেই এই প্রতিবেদন। ‘উদ্দেশ্যমূলক দুরভিসন্ধি’র প্রশ্নই ওঠে না।

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু, 
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 
কলকাতা-৭০০০০১। 
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

ভ্রম সংশোধন

‘শিশুকন্যাকে খুনে পাকড়াও মা ও প্রেমিক’ (কলকাতা, পৃ ১৪, ৭-৯) শীর্ষক প্রতিবেদনে শ্যামপুকুর মেট্রো স্টেশন ছাপা হয়েছে। সেটি শোভাবাজার মেট্রো স্টেশনের কাছে শ্যামপুকুরে হবে। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।