সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সম্পাদক সমীপেষু: আহারে, অনাহারে

Letter to the editor: Having food and being starved

 বিকাশ ভবনের কাছে এক দিকে রাজ্য সরকারের ‘আহারে বাংলা’, অন্য দিকে পার্শ্ব শিক্ষকদের ‘অনাহারে বাংলা’। দুই-ই বাংলার খুবই পরিচিত চিত্র। কখনও খাদ্যমেলা, কখনও রসগোল্লা উৎসব, কখনও ইলিশ উৎসব, আবার পাশাপাশিই কখনও চিকিৎসকদের অনশন, প্রাইমারি শিক্ষকদের অনশন, কখনও পার্শ্ব শিক্ষকদের অনশন। বাংলা যেন উপবাসের উদাসীন রাজ্য। বাংলা যেন খাদ্যোৎসবের উদ্দাম রাজ্য। 

‘আহারে বাংলা’ চলছে চলুক, লোকের রসনা তৃপ্ত হোক। কিন্তু যাঁরা বোধহীন ভাবে বলছেন ‘শিক্ষকেরা যেখানে-সেখানে বসে পড়ছেন’, তাঁদের অপার অমূল্য মানবিক প্রয়াসে, যথাশীঘ্র শিক্ষকদের ও অন্য আন্দোলনকারীদের উপবাস ভাঙুক, এ ভাবে আন্দোলন করার প্রয়োজনীয়তা ভাঙুক।

মলয় দত্ত

কলকাতা-৬

আরও তিন জন

 ‘বঙ্গকৌতুক’ (১১-১১) ক্রোড়পত্রে রসসাহিত্যিকের তালিকায় তিনটি নাম যোগ করতে চাই। 

প্রথম জন হিমানীশ গোস্বামী, ২০১২ সালে প্রয়াত হন। তাঁর লেখার সঙ্গে অনেকেই অল্পবিস্তর পরিচিত। 

দ্বিতীয় জন অমূল্যকুমার দাশগুপ্ত (১৯১১-১৯৭৩)। আনন্দবাজার পত্রিকা ও শনিবারের চিঠি-র সহকারী সম্পাদক ছিলেন, লিখতেন ‘সম্বুদ্ধ’ ছদ্মনামে। কয়েক বছর আগে ‘সম্বুদ্ধ রচনাবলী’ও প্রকাশিত হয়েছে।

তৃতীয় জন কুমারেশ ঘোষ (১৯১৩-১৯৯৫)। শুধুমাত্র হাসির লেখা নিয়ে ‘যষ্টি মধু’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা দীর্ঘ দিন সম্পাদনা করেছেন। প্রথাগত সূচিপত্রের বদলে এই পত্রিকায় লেখা থাকত ‘এ মাসের ফর্দ’, ‘এই সংখ্যার ফর্দ’ বা শারদ সংখ্যায় ‘পুজোর ফর্দ’ ইত্যাদি। রৌপ্য বা স্বর্ণ নয়, ‘যষ্টি মধু’-র একটি ‘সীসক জয়ন্তী’ সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল— বৈশাখ, ১৩৬৩ সংখ্যা। প্রতি বছর একটি করে প্যারডি সংখ্যা প্রকাশিত হত। ১৩৬৫ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ কুমারেশ ঘোষের সম্পাদনায় ৯৫ জন কবির কবিতা নিয়ে প্রকাশিত হয় ‘সমকালীন শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গকবিতা’। 

বিকাশ চক্রবর্তী

দিঘড়া, উত্তর ২৪ পরগনা

 

রসিক বিদ্যাসাগর

 ‘বঙ্গ কৌতুক’-এ রসিক বিদ্যাসাগর উপেক্ষিত থাকলেন। তাঁর কঠোর সমালোচক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এক বার বিদ্যাসাগরকে বলেছিলেন, আপনার ‘‘চটি বেঁকে গিয়ে ক্রমে মাথায় উঠবে মনে হচ্ছে।’’ জবাবে বিদ্যাসাগর বলেন, ‘‘চট্ট পুরাতন হলে বঙ্কিম (বাঁকা) হয়।’’ শ্রীরামকৃষ্ণ বিদ্যাসাগরের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাদুড়বাগানের বাড়িতে এসে বলেছিলেন, ‘‘আজ সাগরে মিললাম। এত দিন খাল, বিল, হ্রদ, নদী দেখেছি, এই বার সাগর দেখছি।’’ বিদ্যাসাগর বলেছিলেন, ‘‘এসে যখন পড়েছেন আর তো উপায় নেই। তবে নোনা জল খানিকটা নিয়ে যান। এ সাগরে নোনা জল ছাড়া কিছুই পাবেন না।’’ 

অতনু মিত্র

অরবিন্দ নগর, পশ্চিম মেদিনীপুর

 

কেদারনাথ

রসসাহিত্যিক কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৬৩-১৯৪৯) বাংলার রসিকসমাজে ‘দাদামশাই’ হিসেবে সমাদৃত। ধারাবাহিক ভাবে লিখতে শুরু করেছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সে। কিন্তু বয়স অবিরাম রসস্ফূর্তিতে বাধা হয়নি। বরং তাঁর ‘কোষ্ঠীর ফলাফল’ (১৯২৯), ‘ভাদুড়ী মশাই’ (১৯৩১) উপন্যাসগুলিতে, বা ‘আমরা কি ও কে’ (১৯২৭), ‘কবলুতি’ (১৯২৮) কিংবা ‘কাশীর কিঞ্চিৎ’ (১৯১৫), ‘উড়ো খৈ’ (১৯৩৪) কবিতা সঙ্কলনে, রসের নির্বাধ স্রোত বাঙালির চমৎকার লেগেছে। ‘চীনযাত্রী’(১৯২৫)-র মতো রমণীয় ভ্রমণকাহিনিরও স্রষ্টা তিনি। 

লেখায় হাসি আর কারুণ্যকে অদ্ভুত নৈপুণ্যে মিশিয়ে দিতেন এই সাহিত্যিক। নিম্নমধ্যবিত্তের টানাটানির দিনযাপনকেই রসরচনার মূল বিষয় করেছিলেন। স্বভাবভীরু বাঙালিকে কটাক্ষ করে লিখেছিলেন, “বাঙ্গালী যে ‘ছায়া-ঢাকা কোকি-ডাকা’ দেশে মায়ার শরীর লইয়া জন্মায়, আর চণ্ডীমন্ডপের চৌকাঠ ছাড়িতে বেদনায় নিশ্বাস ফেলে, সে-কথাটা অস্বীকার করা কঠিন।” মজা করে নিজের উপন্যাসের নাম দিয়েছিলেন ‘আই হ্যাজ’ (১৯৩৫)। 

কেদারনাথ আত্মবীক্ষার সুরেই বলেছেন “অভিজ্ঞতা— সংসারে কাঁথার মতো কাজ করে…। মুড়ি দেওয়াও চলে—বড়ি দেওয়াও চলে! আমার যে নূতন মার্কিনের বালাপোষ, আপস করতে চায় না। বাঁদিক সামলাতে ডানদিক খসে, সদাই অসামাল! মধ্যবিত্তের দশাই ওই।” 

‘যদি’ আর ‘কিন্তু’ এই দুই শব্দকে ঢাল করে ধূর্তেরা গা বাঁচায়; তাকে ব্যঙ্গ করে তিনি লেখেন, “BUT আর if— ওই দুটো কথাই তো Thief বানায়… ও দুটোই প্যাঁচোয়াদের বাঁচোয়ার সিঁদকাটি।” 

ধর্ম আর সমাজরক্ষার নামে অর্থহীন বাগাড়ম্বরকে শাণিত শ্লেষে বিঁধে বলেন: “ধর্ম্ম আর সমাজরক্ষার—সহস্র প্রস্তাব,— / বহুত মন্তব্য দেখি,— নাহিক’ অভাব।/ কণ্ঠে আর কাগজেতে, দেখতে তাদের পাই,/ কেবল মাত্র কার্যক্ষেত্রে—সাক্ষাৎটা নাই।” 

রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রায় সমবয়সি এই সাহিত্যিকের চরিত্রসৃষ্টির গুণমুগ্ধ ছিলেন। পরশুরাম লিখেছেন: “বাংলায় হাস্যরসের বহু রচয়িতা পূর্বেও ছিলেন পরেও হয়েছেন। কেদারনাথের আবির্ভাবে সকলেই বুঝলেন যে, হাস্যের সহিত শান্ত ও করুণ রসের মিলনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ নেই; ইংরাজীতে যাকে বলে milk of human kindness, সেই করুণার ক্ষীরধারাই তাঁর রচনাকে বিশিষ্টতা দিয়েছে।” 

অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়

উত্তরপাড়া, হুগলি

 

ইন্দ্রনাথ

 ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৪৯-১৯১১)। ‘পঞ্চানন্দ’ বা ‘পাঁচু ঠাকুর’ ছদ্মনামে বেশ কিছু রসরচনা উপহার দিয়েছেন। সেই সময়ের অন্ধ বিলাতিয়ানা নিয়ে তীব্র বিদ্রুপ করেছেন। এ ছাড়াও ব্রাহ্মদের নিয়ে তাঁর বিদ্রুপ-কটাক্ষ উপভোগ্য। বঙ্কিমচন্দ্রের ভাষায়, ‘‘বাঙলার জীবন ও সাহিত্যাকাশে তিনি ‘হেলির ধূমকেতু’।’’ ‘কল্পতরু’, ‘ভারত উদ্ধার’, ‘ক্ষুদিরাম’ প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা। ‘পঞ্চানন্দ’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন।

স্মরণ আচার্য

কল্যাণী, নদিয়া

 

দীপ্তেন্দ্রকুমার

 ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আত্মপ্রকাশ করে ‘অচলপত্র’— ‘‘বড়দের পড়বার এবং ছেলেদের দুধ গরম করবার একমাত্র মাসিক’’। প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক দীপ্তেন্দ্রকুমার সান্যাল। তাঁর তখন ২৪ বছর বয়েস। মারা গেলেন মাত্র ৪২ বছরে। তখন ‘অচলপত্র’ চলছে সাপ্তাহিক আকারে। স্বাধীনতা-উত্তর আশাহত মানুষের প্রত্যাঘাতের মনোবাসনা তিনি পূর্ণ করেছিলেন ভাষার মোচড়ে, ক্ষুরধার ‘pun’ দিয়ে। ‘‘নো ইউজ় পেপার মানেই তো নিউজ়পেপার’’ বলার ক্ষমতা ক’জন রাখেন? রসিকতা করার দুর্বার প্রবণতা ও আশ্চর্য ক্ষমতা তাঁর লেখাকে অন্য মাত্রা দিয়েছিল। তাঁর বিদ্রুপের কশাঘাতের জন্য কখনও কখনও বিপদে পড়তে হয়েছে তাঁকে। গ্রাহ্য করেননি। কোনও দিন আপসও করেননি। সরকারি রোষে কাগজ বন্ধ হয়েছে, পরে আবার শুরু করেছেন। সোজা কথা সব সময় সোজা করে বলেছেন, ‘নীলকণ্ঠ’ ছদ্মনামে অনেক অপ্রিয় সত্য প্রকাশ করেছেন। ‘বসুন্ধরা বীরভোগ্যা নয়, তদ্বিরভোগ্যা’-র মতো তাঁর লেখার বহু অংশ তখন লোকের মুখে মুখে ফিরত। 

অধীপ ঘোষ

কলকাতা-৮ 

 

মীরাক্কেল

 ‘বঙ্গ কৌতুক’-এ ‘মীরাক্কেল’ অনুষ্ঠানটির উল্লেখ নেই? বাংলায় প্রচারিত একটি রঙ্গব্যঙ্গের রিয়েলিটি শো প্রায় এক দশক ধরে শুধু বাংলা নয়, পৃথিবীর তাবৎ বাঙালির (ইউরোপ, আমেরিকাতেও সমাদৃত) মনোরঞ্জন করে এল, আর বাংলা হাস্যরসের দীর্ঘিকায় তার দু’চার গণ্ডূষ অবদানও স্বীকার করা হল না? না কি, রসেরও ‘আমরা-ওরা’ আছে?

শুভাশিস সেন

রাজবাটী, পূর্ব বর্ধমান

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন