×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৬ জুলাই ২০২১ ই-পেপার

সম্পাদক সমীপেষু: দিশা কই বাজেটে?

১৫ জুলাই ২০২১ ০৫:২০

‘হাতে নগদেই আস্থা মমতার’ (৮-৭) শীর্ষক প্রতিবেদন পড়লাম। কিন্তু বাজেটে কোথাও তো কোনও নতুন নগদের দেখা পেলাম না। যেগুলো আগে ছিল সেগুলোই আছে, পরিমাণে কিছু বেড়েছে। নির্বাচনী ইস্তাহারে শাসক দলের যা ঘোষণা ছিল, তার বাইরে সাধারণ মানুষের জন্য কোথায় নগদ? আমাদের রাজ্য থেকে প্রচুর মানুষ গুজরাত, কেরল, বেঙ্গালুরু, রাজস্থান, এমনকি উত্তরপ্রদেশের নয়ডার মতো জায়গায় কাজ করতে যাচ্ছেন, তাঁদের অনেকে কাজ হারিয়ে ফিরেও আসছেন। তাঁদের জন্য কী পরিকল্পনা?

সংবাদপত্রে রাজনীতি নিয়ে প্রবন্ধ লেখা আর বাজেট নিয়ে লেখা, দুটো কিন্তু আলাদা জ্ঞান দাবি করে। রাজ্যের শিল্প এবং বাণিজ্য মহল দেখলাম বাজেট নিয়ে খুবই খুশি। কিন্তু এ প্রসঙ্গে একটা কথা বলা দরকার। রাজ্যের শিল্প এবং বাণিজ্য মহল কিন্তু বলছে না, গত কয়েক বছরে তারা বাংলায় কত বিনিয়োগ করেছে, কত লোক বেসরকারি ক্ষেত্রে নতুন চাকরি পেয়েছেন, বা কতগুলো কারখানা বন্ধ হয়েছে, ক’টা নতুন কারখানা করেছে। বিভিন্ন ‘চেম্বার অব কমার্স’-এর সদস্যরা শুধু নিজেদের ব্যবসা, আর তার লাভ কী করে বাড়বে, তাই নিয়ে ব্যস্ত। গত কয়েক বছরে কত শিক্ষিত ছেলে যে বাইরে কাজ হারিয়ে বাংলায় ফিরে এসেছেন, তার কোনও হিসাব নেই। ভবিষ্যতে এই শিক্ষিত বেকার ছেলেরা আরও কম বেতনে কাজ করতে বাধ্য হবেন। সমস্ত শাসক এবং বিরোধীর কাছে অনুরোধ, এঁদের কথা ভাবুন।

শম্ভুনাথ নন্দী

Advertisement

কলকাতা-১০৪

গুরুত্ব পায়নি

অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ী, যিনি এক জন বিধায়কও বটে, পশ্চিমবঙ্গের বাজেট বিষয়ে পাণ্ডিত্যপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন। সেখানে অবাক হলাম, উনি সিপিএমের তুলনায় তৃণমূলের বাজেট ভাল বলেছেন, এইটুকু শিরোনামে এল (‘বামফ্রন্টের চেয়ে এখন উন্নতি বেশি’, ৯-৭)। অথচ, বর্তমান সরকারের বাজেটে হাজার অসঙ্গতি, অডিট করার কথাগুলি প্রতিবেদক ছুঁয়ে গিয়েছেন, কিন্তু গুরুত্ব দেননি। এটা কি ভাল সাংবাদিকতা? বিশেষত যেখানে অধিকাংশ পাঠক খবরের ভিতরে তেমন ঢোকেন না, শিরোনাম নিয়েই মাতামাতি করেন?

শচীনন্দন দাশ

কলকাতা-১৪৬

বিলগ্নির দিশা

‘ইস্পাতের শনির দশা’ (৫-৭) প্রবন্ধে বিপ্লবকেতন শর্মা সেল-এর ‘র মেটিরিয়ালস ডিভিশন’ তুলে দেওয়ার প্রসঙ্গে লিখেছেন “রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেসরকারিকরণের দিকে যাচ্ছে কি না, গেলে সেটা কার স্বার্থে, সে প্রশ্নটা বার বার তোলা দরকার।” এই আশঙ্কা নতুন নয়, সেই ১৯৯০-এর দশকে উদারীকরণের হাত ধরে ভারতীয় অর্থনীতির যাত্রা শুরুর সময় থেকে এর শুরু। তবে তা বিশেষ গতিপ্রাপ্ত হয় পূর্ণসময়ের প্রথম এনডিএ-র (১৯৯৯-২০০৪) আমলে। ‘সরকারের কাজ দেশ শাসন ও পরিচালনা, ব্যবসা করা নয়’— এই মন্ত্রে দীক্ষিত সরকার পাবলিক সেক্টরকে ন্যূনতম মাত্রায় সীমাবদ্ধ রাখার উদ্দেশ্যে খুলল বিলগ্নিকরণ মন্ত্রক, যার দায়িত্বে থাকলেন ক্যাবিনেট মর্যাদার এক মন্ত্রী। দীর্ঘ দিন লোকসানে চলা সরকারি উদ্যোগের কর্মীদের স্বেচ্ছাবসর দেওয়ার টাকার জোগান দিতে গড়া হল জাতীয় পুনর্গঠন তহবিল। প্রায় জলের দরে বেসরকারি পুঁজির কাছে বিক্রি হয়ে গেল এয়ার ইন্ডিয়ার সেন্টুর হোটেল, এনএমডিসি-র বয়লাডিলা লৌহ আকরিক খনি ইত্যাদি লাভে-চলা সরকারি ইউনিটগুলো। একে একে বন্ধ করা হল ইস্কোর কুলটি ফাউন্ড্রি, দুর্গাপুর, হলদিয়া আর সিন্দ্রির সার কারখানা। আজ সেল-এর আরএমডি অফিস গুটিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে তৃণমূলও সরব, রাজ্যের অর্থমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত রদ করার জন্যে কেন্দ্রীয় ইস্পাতমন্ত্রীকে চিঠি লিখছেন, অথচ সেই সময়ে যে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে সরকারি উদ্যোগগুলো বেচা/ বন্ধ করা হয়েছিল, তার এক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের ক্যাবিনেট মন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর প্রতিবাদে তিনি একটা বাক্যও খরচ করেননি।

লেখক বলেছেন, সেল-এর প্রধান দফতর রাঁচীতে ছিল, তা সরানো হয় দিল্লিতে। কথাটা একটু বিশ্লেষণ দাবি করে। সেল-এর প্রধান দফতর কোনও দিনই রাঁচীতে ছিল না। সেল-এর পূর্বসূরি হিন্দুস্থান স্টিল লিমিটেড (এইচএসএল) গঠিত হয় ১৯৫৪ সালে, সদর দফতর দিল্লি। ১৯৫৬ সালে তা স্থানান্তরিত হয় কলকাতায়। সেখান থেকে সবশেষে ১৯৫৯ সালে রাঁচীতে। ১৯৭২ সালে হোল্ডিং কোম্পানি ‘সেল’ গঠিত হলে, তৎকালীন এইচএসএল-এর দুর্গাপুর, রৌরকেলা আর ভিলাই কারখানা ছাড়াও, সরকারি মালিকানায় স্বাধীন পরিচালনায় চলা বোকারো আর জাতীয়করণের পর বার্নপুর-ভিত্তিক ইস্কো কারখানাকে সেল-এর নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এর সদর দফতর প্রথম থেকেই দিল্লিতে রয়েছে। তবে আরএমডি উঠিয়ে দেওয়ায় বহু কর্মী কর্মহীন হবেন, এই আশঙ্কা অমূলক নয়। স্থায়ী কর্মীরা অন্যত্র বদলি হলেও, সিকিয়োরিটি গার্ড, ক্যান্টিন কর্মচারী, ড্রাইভার ইত্যাদি ঠিকাদার-নিযুক্ত কর্মীরা কাজ হারাবেন। আজকের ঠিকা শ্রম-সর্বস্ব শিল্পোৎপাদন ও পরিষেবা ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটা কম নয়।

বুদ্ধদেব চট্টোপাধ্যায়

কুলটি, পশ্চিম বর্ধমান

পেট্রলের দাম

মাত্র এক বছরে লিটারে ২০ টাকা বেড়ে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে পেট্রল। টক্কর চলছে ডিজ়েলের সঙ্গে। আশ্চর্য ভাবে, ২০১৮-এর অক্টোবরে যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৬১৯৬ টাকা (লিটার প্রতি ৩৮.৯৭ টাকা), সেখানে ২০২১-এর জুলাইতে কিন্তু তা নেমে এসেছে ব্যারেল প্রতি ৫৬৮২ টাকায় (লিটার প্রতি ৩৫.৭৩)! অর্থাৎ, গত তিন বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম প্রায় ৩ টাকা কমলেও ভারতে কিন্তু এক বছরেই পেট্রল, ডিজ়েলের দাম বেড়েছে প্রায় ২০ টাকা!

গোলমাল কোথায়, জানার জন্য অণুবীক্ষণের দরকার পড়ে না। পরিশোধনের খরচ ইত্যাদি মিলিয়ে ভারতে যে তেল পেট্রল পাম্পে পৌঁছয়, তার ক্রয়মূল্য ৪০.১২ টাকা, আর বাকি ৬০ টাকা (মূল দামের দেড় গুণ!) আমজনতাকে দিতে হয় সরকার ও ডিলার কমিশনের পেট ভরানোর জন্য! শুনতে অবাক লাগবে, মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৪-র নভেম্বরে যেখানে পেট্রলে আবগারি শুল্ক ও রোড সেস বাবদ দিতে হত লিটার প্রতি ৯.২০ টাকা, ২০১৭-র ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় লিটার প্রতি ২১.৪৮ টাকা এবং করোনা পরিস্থিতিতে তা লিটার প্রতি ৩২.৯০ টাকা! প্রহসন?

পশ্চিমবঙ্গে পেট্রলের উপর ভ্যাট বাবদ এখন দিতে হয় ১৩.১২ টাকা (জুলাই)। গোয়া কিংবা আন্দামানে সর্বনিম্ন (৬%) এবং মুম্বইয়ে সর্বাধিক (২৮%) হলেও কোনও ক্ষেত্রেই তা কেন্দ্রের আরোপ করা শুল্কের উপরে নয়। অতিমারির সময়েও মানুষের উপর এই বিপুল করের বোঝা চাপানোর দায় তাই কেন্দ্রীয় সরকার কোনও অজুহাতেই এড়াতে পারে না। এখনও কেন জিএসটি-র আওতাভুক্ত নয়? সরল গণিত বলে ‘বেস প্রাইস’ (৪০.১২ ধরে)-এর উপর ১২% জিএসটি বসলে আজ পেট্রলের বাজারদর হত ৪৪.৯৩ টাকা, ১৮% হারে ৪৭.৩৪ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২৮% হারেও ৫১.৩৫ টাকা! একই কথা ডিজ়েলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

স্বাধীনতার সময় পেট্রলের দাম ছিল ২৭ পয়সা/ লিটার। একই সময় এক ডলারের মূল্য ছিল ৪ টাকা ১৬ পয়সা। আজ ডলারের মূল্য বেড়েছে ১৮ গুণ। ১৯৫৮ সাল থেকে হিসাব করলে ভারতের ‘মাথাপিছু জিডিপি’ ৭০ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৪৭ ডলার (প্রায় ২৮ গুণ), আর সেখানে পেট্রল ৩৭০ গুণ! এই তীব্র বৈষম্য, জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সঙ্গে জ্বালানি তেল ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির এই আকাশপাতাল তফাত চরম ধিক্কারযোগ্য। রাজ্য সরকারগুলির মিলিত পদক্ষেপ ও প্রতিবাদই একমাত্র অবিলম্বে জিএসটি-র আওতাভুক্ত করতে পারে পেট্রল
এবং ডিজ়েলকে।

সায়ক সিংহ

কলকাতা-১১০

Advertisement