কংগ্রেস আছে কংগ্রেসে। নেহরুর ধর্মনিরপেক্ষ আধুনিক রাজনীতিকেও ফেলে দিতে পারছে না। আবার বিজেপির তৈরি লোভনীয় ফ্যাসিবাদী দেশপ্রেমে মগ্ন ভোটারদেরও সুবুদ্ধির উপদেশ দিয়ে দূরে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি নিতে পারছে না। এই সে দিন, প্রিয়ঙ্কা গাঁধী এক জনসভায় বড় মুখ করে বললেন, ‘‘সঠিক প্রশ্ন করাটাই হল আসল দেশপ্রেম।’’ 

অথচ যেই স্যাম পিত্রোদা (ছবিতে) দুটো সঠিক কথা বলেছেন, তখনই কংগ্রেস অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছে। স্যাম বলেছেন: 

১) পুলওয়ামায় ঘটা সন্ত্রাসী হামলার দায় সমস্ত পাকিস্তানি নাগরিকদের উপর চাপিয়ে দেওয়াটা ঠিক নয়।

২) দেশের নাগরিক হিসাবে ওঁর জানার অধিকার আছে কত জন জঙ্গি সেনা অভিযানে মারা পড়েছে।

এতেই কংগ্রেসে গেল-গেল রব। বিজেপি ঠিক যেমন আচরণটা চায়, একেবারেই তেমন আচরণ তাদের উপহার দিয়ে দিল কংগ্রেস।

অথচ কী এমন গর্হিত মন্তব্য করছেন স্যাম? যদি পুলওয়ামার ঘটনার পর সমস্ত পাকিস্তানি নাগরিককে সন্ত্রাসবাদী বলে ধরে নিতে হয়, তবে সমঝোতা এক্সপ্রেসে বিস্ফোরণের পর সমগ্র ভারতবাসীকেই সন্ত্রাসী ভাবতে হবে নাকি? অথবা দিল্লিতে ঘটে যাওয়া নৃশংস ধর্ষণের ঘটনার পর সমস্ত দিল্লিবাসীকেই ধর্ষণকারী বা ধর্ষণ-সমর্থক বলে ভাবতে হবে?

আর সার্জিকাল স্ট্রাইকে মৃত জঙ্গির সংখ্যা নিয়ে সেনাবাহিনীর তরফে এক বারের জন্যও কোনও সংখ্যার কথা বলা হয়নি। সংখ্যার হিসাব দিয়েছেন শুধু বিজেপির নেতারা। তাঁদের কথার সত্যতা জানতে চাওয়াটা সেনাকে অসম্মান করা হল কী ভাবে? দেশ, সেনা, বিজেপি সব কি এখন সমার্থক? 

অথচ কংগ্রেস পিত্রোদার মন্তব্য থেকে এমন ভাবে মুখ লুকোচ্ছে আর দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছে, যেন উনি ভীষণ অযৌক্তিক দেশবিরোধী কোনও মন্তব্য করে ফেলেছেন। আসলে বিগত পাঁচ বছরে মোদীর সবচেয়ে বড় সাফল্য হল এটাই। তর্কপ্রিয় ভারতবাসীর যুক্তিবাদী, প্রশ্নোন্মুখ মনটাকে ধ্বংস করতে অনেকটাই সমর্থ হয়েছেন তিনি।

এখন কাকে কান নিয়ে গেল বলে হাঁক ছাড়লেই হল, সবাই কাকের পিছন ছুটতে প্রস্তুত। কানে হাত দিয়ে পরখ করাটা হল দেশদ্রোহিতা!

ইন্দ্রনীল মণ্ডল

কলকাতা-৩০

আন্তর্জাল

‘ইন্টারনেট ৩০’ (১৪-৩) নামে চিঠিতে লেখা হয়েছে: ‘‘ইন্টারনেট বা আন্তর্জালের ৩০ বছর পূর্ণ হল... এবং আশ্চর্য জিনিসের আবিষ্কর্তা টিম বার্নার্স লি।’’ টিম বার্নার্স লি আসলে গ্লোবাল হাইপারমিডিয়া ইনফর্মেশন সিস্টেম, যাকে আমরা ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব’ (ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ) বলে জানি, তার আবিষ্কারক। 

প্রথম কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ARPANET ছিল যোগাযোগ ও তথ্য আদানপ্রদানের কাজে পরস্পর সংযুক্ত বিভিন্ন কম্পিউটারের সমন্বয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রোজেক্ট এজেন্সি-র (এআরপিএ)  হয়ে জে সি আর লিকলিডার, রবার্ট টেলর ও আমেরিকার অন্য গবেষকরা ARPANET-এর বিকাশ ঘটান। ১৯৬৯-এর ২১ নভেম্বরে শুরু হওয়া ARPANET-কে প্রথমে মার্কিন সেনাবাহিনীতে নির্দেশ, নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগ সম্পর্কীয় নানা কাজে ব্যবহার করা হয়। সেই গবেষকরা সে সময় মাত্র চারটি কম্পিউটারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারতেন। আমেরিকায় অনেকটা দূরে দূরে লস অ্যাঞ্জেলেস, সান্টা বারবারা, স্ট্যানফোর্ড ও উটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল সেই কম্পিউটারগুলির অবস্থান। সেগুলি সেকেন্ডে ৫৬ হাজার বিট-এ ARPANET-এর সঙ্গে যুক্ত থাকত।

নেটওয়ার্ক যাতে ঠিকমতো কাজ করতে পারে এবং পরস্পর সংযুক্ত বিভিন্ন কম্পিউটারের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব হয়, সে জন্যে ইন্টারনাল প্রোটোকল (আইপি) ও ফাইল ট্রান্সফার প্রোটোকল (এফটিপি)-এর বিকাশের প্রয়োজন হয়। এগুলো যার ওপর বিশেষ ভাবে নির্ভরশীল সেই ‘প্যাকেট সুইচিং’ আজকের ইন্টারনেট প্রক্রিয়ার মূল অবলম্বন। প্যাকেট সুইচিংয়ের মাধ্যমে একটি নথি (ডকুমেন্ট), প্রতিচ্ছবি (ইমেজ) বা শব্দ নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ে। এ জন্য তথ্যকে ছোট ছোট ইলেকট্রনিক এনভেলপ বা বৈদ্যুতিন মোড়কে ভেঙে ফেলা হয়। প্রত্যেকটির সঙ্গে থাকে তার শনাক্তকরণ বা পরিচয় সংখ্যা। গন্তব্যস্থানে মুহূর্তের মধ্যে তারা পুনর্মিলিত হয়। এই পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে ১৯৭১ সালে আমেরিকার বিবিএন টেকনোলজিস-এর কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার রে টমলিনসন প্রথম ইলেকট্রনিক মেল বা ইমেল-এর প্রবর্তন করেন। 

তাঁর কম্পিউটারের এক ফুটেরও কম দূরত্বে থাকা অন্য একটি কম্পিউটারে তিনি 'QWERTYUIOP' বার্তাটি প্রথম পাঠান, যা আসলে কি-বোর্ডের সবচেয়ে ওপরে অলস ভাবে তাঁর আঙুল চালানোর পরিণতি। সে বছরেই '@' চিহ্নটি ব্যবহারের জন্য বিবিএন টেকনোলজিস-এ পাঠানো রে টমলিনসনের ইমেল ছিল দ্বিতীয় ARPANET বার্তা। ARPANET ব্যবহারকারীদের কাছে সেটি ছিল ওই নেটওয়ার্কের মেল পরিবহণের নতুন সক্ষমতার ঘোষণা এবং তার মধ্যে ছিল ব্যবহারকারীর ‘লগ-ইন’ নামের সঙ্গে @ জুড়ে দিয়ে কী ভাবে মেল-এর ঠিকানা লিখতে হয় তার সাংকেতিক নির্দেশ। এই কৌশল টমলিনসন নিজেই উদ্ভাবন করেন।

১৮৩০-এর দশকের শেষ দিকে আমেরিকার ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (এনএসএফ) 

পাঁচটি সুপার কম্পিউটার কেন্দ্রকে নিয়ে নিজস্ব নেটওয়ার্ক তৈরি করে অধ্যয়ন সংক্রান্ত গবেষণার কাজে উচ্চ ক্ষমতার কম্পিউটারে অধিগম্যতার (অ্যাকসেস) পথ করে দেয়। এনএসএফ নেট সবচেয়ে কাছাকাছি আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নেটওয়ার্কের সংযোগ ঘটাবার পর, ১৯৯০ সালে ARPANET অব্যবহারযোগ্য হয়ে পড়ে। 

ARPANET ও এনএফএস নেট-এর উদ্ভব শেষ পর্যন্ত ইন্টারনেট-এর জন্ম দেয়, যাকে ১৯৯৫ সালে আমেরিকার ফেডারেল ওয়ার্কিং কাউন্সিল পরস্পর সংযুক্ত সরকারি কাজে, ব্যবসায়িক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও ব্যবসায় ব্যবহার করা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের এক আন্তর্জাতিক ওয়েব বা জাল হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে।

১৯৮০ সালে প্রকাশিত বার্নার্স লি-র 'Enquire-Within-Upon-Evrything' শীর্ষক গবেষণা নিবন্ধে তিনি এমন একটি পদ্ধতির কথা বলেন, যেখানে নেটওয়ার্কে কতকগুলি arbitrary nodes বা অনিয়ন্ত্রিত গ্রন্থির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়। ১৯৯০ সালের নভেম্বরে তিনি সংযোগ সৃষ্টির সক্ষমতা-সম্পন্ন ওয়েব-ব্রাউজ়ার বা গ্রন্থি বিচরণকারী ও সম্পাদকের একটি মূল অদি রূপের কর্মপদ্ধতির পরিকল্পনা রূপায়িত করেন। পরে সেই পদ্ধতির নাম হিসেবে 'Information Mesh', 'Mine of Information' বা 'Information Mine' নামগুলো সরিয়ে তিনি 'World Wide Web' নামটি বেছে নেন।

মনোজ ঘোষ

কলকাতা-৬১

মনোবিজ্ঞান 

‘মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা’ (প্রস্তুতি, ১২-৩) নিবন্ধে মনোবিজ্ঞান ও তার ব্যবহারিক দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। যাঁরা এই নিয়ে পড়াশোনা করতে চান, তাঁদের সরকারি চাকরি পাওয়ার ব্যাপারে কিছু সংযোজন করতে চাই। ভারতীয় রেলে সায়েন্টিফিক অফিসার (সাইকোলজি) নেওয়া হয় ইউপিএসসি-র মাধ্যমে। আবার সায়েন্টিফিক সুপারভাইজ়র (সাইকোলজি) নেওয়া হয় রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে।

রেলওয়ে সেফটি ক্যাটেগরিতে রিক্রুটমেন্ট ও প্রমোশন পাওয়ার জন্য সাইকোলজিক্যাল অ্যাপ্টিটিউড টেস্ট-এ উত্তীর্ণ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। মনোবিজ্ঞানের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকা, এই সব পদের জন্য আবশ্যক।

পল্লবী চক্রবর্তী

কলকাতা-৭৮

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু, 
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 
কলকাতা-৭০০০০১। 
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।