×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৪ মে ২০২১ ই-পেপার

সম্পাদক সমীপেষু: দেবতার জন্ম

২১ এপ্রিল ২০১৮ ০০:০৭

শিবরামের গল্পে আমরা রাস্তার ধারের পাথরকে দেবতা হয়ে উঠতে দেখেছি। অতীতে সিনেমার সন্তোষীমাতাও বাঙালির দেবতা হয়ে উঠেছেন, দেখেছি আমরা। দেখেছি, বহু শিক্ষিত মেয়েও শুক্রবারে সন্তোষীদেবীর উপবাস করছে, অম্লজাতীয় খাবার বর্জন করছে। আমাদের এই অঞ্চলে সর্বজনীন সন্তোষীপুজোও সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বছর পঁচিশ। সম্প্রতি রাজ্যে একটি রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে রামনবমী তিথিতে ধুমধাম করে রামের পুজো ও অস্ত্রমিছিল হতেও দেখা গিয়েছে। পয়লা বৈশাখ এই অঞ্চলে দেখা গেল ভারতমাতার বারোয়ারি পুজোও। রীতিমতো মণ্ডপ বেঁধে, মাইক বাজিয়ে, খিচুড়ি বিলিয়ে সে এক জমাটি কাণ্ড। ভারতমাতার মূর্তির প্রকল্পনা ও পূজার প্রচলন করেছে রামভক্ত রাজনৈতিক দলটিই। পূজার্চনা সম্পর্কে ব্যক্তিগত উত্সাহ না-থাকলেও, একটি প্রশ্ন মনে উঁকি দিচ্ছে যে, সন্তোষী বা ভারতমাতার মতো অর্বাচীন দেবতাদের পূজামন্ত্রটি কী, কে বা কারা সে সবের রচয়িতা!

ঊর্মিলা দাশগুপ্ত রিজেন্ট পার্ক, উত্তর ২৪ পরগনা

Advertisement

বালিখাল

এলাকার একটা বড় অংশের নোংরা জল বালিখালের মাধ্যমে গঙ্গাতে গিয়ে মেশে। বালিখাল বরাবর কিছুটা স্টেশনের দিকে এগোলেই চিত্রটা আরও পরিষ্কার। পাশেই বালি জুট মিল। তার পাশেই খালকে কেন্দ্র করে টুকরো টুকরো জনবসতি। সেখানকার মানুষ নির্বিচারে বালিখালের নোংরা জল ব্যবহার করছেন। জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘‘আমাদের কিছু হয় না।’’ খাওয়া বাদ দিয়ে সমস্ত রকম কাজেই এই জল তাঁদের ভরসা। চোখের সামনে আশপাশের নোংরা জল অবাধে মিশছে খালের সঙ্গে। পাশেই কয়েকটা খাটাল। কিছু মানুষ বললেন, টিউবওয়েলের ব্যবস্থা আছে। পাশেই অসংখ্য ইটভাটার কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সেই জলে আয়রনের পরিমাণ এতটাই বেশি, তা ব্যবহার করা যায় না। এ ছাড়া গরম পড়লে, জলের স্তর নেমে যায়, বেশির ভাগ টিউবওয়েলই অকেজো হয়ে পড়ে। এই জলে স্নান করলেই চুলকানি হয়, অথবা কারও কোনও চর্মরোগ থাকলে তা আবার প্রকট হয়ে ওঠে। লিটার প্রতি পাঁচ টাকা দিয়ে খাবার জল কিনে খেতে হয় যাঁদের, দিনের অন্য ব্যবহারের জল নিয়ে তাঁদের বিলাসিতা পোষায় না, তাও ওঁদের কথায় স্পষ্ট। প্রচণ্ড দুর্গন্ধ বের হওয়া বালিখাল বরাবর রাস্তাটা মেশে ডানকুনি কোল কমপ্লেক্স এবং মাদার ডেয়ারি-তে। এই অবাধে বেরোনো দুর্গন্ধের দায় ঠিক কতটা কার, বোঝা মুশকিল। তবু আশা ২০১২ থেকে শুরু হওয়া ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টকে নিয়ে। তা বালিখালের পুরো ছবিটাকে হয়তো বদলাবে না, কিন্তু মানুষের জলের কষ্ট যদি কিছুটা মেটাতে পারে।

সায়ন্তী কর, সৌরদীপ কর বেলুড়, হাওড়া

হিসেবটা কী

কোনও নার্সিং হোমে, প্যাকেজ অনুযায়ী রোগী যত দামি বেড বা রুমে থাকেন, ডাক্তারের ফি থেকে শুরু করে অন্যান্য পরিষেবার খরচও (যেমন, সহকারী সার্জন/অ্যানাস্থেসিস্টের ফি, ডাক্তারের কনসাল্টেশন ফি, ওটি রুম চার্জ, ইনভেস্টিগেশন চার্জ, এমনকী ডায়েটিশিয়ানের ফি) সেই ভাবে বেড়ে যায়! আমার প্রশ্ন: রোগীর বেড/রুমের খরচ কম বা বেশি হতেই পারে, কিন্তু তার সঙ্গে অন্যান্য মেডিক্যাল পরিষেবার খরচের কী সম্পর্ক? তা হলে কি যাঁরা দামি বেড বা রুমে থাকেন তাঁরা যে মানের চিকিৎসাগত পরিষেবা পান, তা কমদামি বেড বা রুমের রোগীদের তুলনায় ভাল? ডাক্তাররা সেই হিসেবে চিকিৎসা করেন? ডায়েটিশিয়ান আর্থিক স্টেটাস বিচার করে ডায়েট ঠিক করেন?

সমর গঙ্গোপাধ্যায় কলকাতা-৪৮

বিমানবন্দর

দীপক মিত্রের চিঠির (‘পরীক্ষার প্রশ্ন’, ১৪-৪) উত্তরে বলি— ইন্দিরা গাঁধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে বৃহত্তম বিমানবন্দর বলা হয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সমস্ত বইয়ে। যার কারণ কিছু তথ্য বিশ্লেষণ করলেই জানা যাবে। বাংলায় যা বৃহত্তম এবং দীর্ঘতম তা ইংরেজিতে biggest and largest, ঠিক এইখানেই দ্বন্দ্ব বাধে। প্রশ্নটিতে বৃহত্তম বা biggest আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কথা জানতে চাওয়া হয়েছে। সেটা, বিমানবন্দর কত স্থান জুড়ে আছে, তা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। দীর্ঘতম বললে অবশ্যই রাজীব গাঁধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (৫৪৯৫ একর) হত, ইন্দিরা গাঁধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (৫১০৬ একর) নয়। আবার অভিধান অনুযায়ী biggest অর্থে ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ও বোঝায়, সে ক্ষেত্রেও ইন্দিরা গাঁধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এগিয়ে। এখানে ৬২টি বিমানসংস্থার ১২৮টি গন্তব্যের বিমান ওড়ে ও নামে। যার মধ্যে ৫১টি বিদেশি বিমান সংস্থা। টার্মিনাল ৩৪০ মিলিয়ন যাত্রীর ধারণক্ষমতাসম্পন্ন। তিনটি রানওয়ে বিশিষ্ট ভারতের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। একমাত্র সোলার প্ল্যান্ট বিশিষ্ট বিমানবন্দরও। তাই ইন্দিরা গাঁধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উত্তর ঠিক।

সোমশুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রানিগঞ্জ, পশ্চিম বর্ধমান

বঞ্চিত শিবদাস

‘পল কাকার কুটির’ (রবিবাসরীয়, ৮-৪) নিবন্ধে লেখক ‘বিস্তীর্ণ দু’পারে’ গানটি প্রসঙ্গে লিখেছেন: ‘ওল ম্যান রিভার’ মাথায় রেখেই এই গান রচনা করেছিলেন ভূপেন হাজরিকা। কিন্তু ক্যালকাটা ইয়ুথ কয়্যার-এর জন্য ‍এই গান রচনা করেন শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, যা গেয়েছিলেন রুমা গুহঠাকুরতা ও সহশিল্পীবৃন্দ। অবশ্য সুর করেছিলেন ভূপেন হাজরিকা, যা তিনি পরে আবার নিজে গেয়েছিলেন। অসমিয়া ও হিন্দি ভার্সনেও তিনি গানটি রেকর্ড করেন। লেখক আরও লিখেছেন, ‘আমি এক যাযাবর’, ‘গঙ্গা আমার মা পদ্মা আমার মা’, ‘মানুষ মানুষের জন্য’, ‘হে দোলা’, ‘আজ জীবন খুঁজে পাবি’ ইত্যাদি ভূপেন হাজরিকার গান লোকের মুখে মুখে ফিরত। এই অসাধারণ গানগুলি সুর দিয়েছেন এবং গেয়েছেন ভূপেন হাজরিকা। কিন্তু হৃদয় থেকে উঠে আসা কথা দিয়ে যিনি এগুলি রচনা করেছেন, তিনি শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। গীতিকার হিসেবে তাঁকে তাঁর প্রাপ্য সম্মানটুকু কেউ দেন না। ভূপেন হাজরিকাও দেননি। বাংলাদেশের মুক্তি আন্দোলনের সমর্থনে শিবদাস ‘গঙ্গা আমার মা পদ্মা আমার মা’ লেখেন। সুর দিয়ে গানটি গান ভূপেন হাজরিকা। কিন্তু এই গানটি অনুবাদ করে অসমিয়া ভার্সনে গীতিকার হিসেবে নিজের নাম লিখে দেন ভূপেন। মূল রচনাকার হিসেবে শিবদাসের কোনও উল্লেখ করলেন না। আগে এ রকম ব্যাপার সহ্য করলেও, এই ঘটনার পরে শিবদাস অত্যন্ত ক্ষুণ্ণ হন। নিজে একটি সাক্ষাৎকার ছাড়া কোথাও এ কথা প্রকাশ করেননি। ‘ভারতবর্ষ সূর্যের এক নাম’, ‘ভারত আমার ভারতবর্ষ’, ‘সবার হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ চেতনাতে নজরুল’, ‘মায়াবতী মেঘে এল তন্দ্রা’, ‘একখানা মেঘ ভেসে এল’, ‘ভাল করে তুমি চেয়ে দেখো’, ‘এ কেমন রঙ্গ জাদু’, ‘কত রাজপথ জনপথ ঘুরেছি’, ‘তোমার আমার ঠিকানা’, ‘যেমন শ্রীরাধা কাঁদে’ ইত্যাদি গানের গীতিকার কি নাম উল্লেখের মর্যাদাটুকু পেতে পারেন না?

রামরঞ্জন দেবনাথ ই-মেল মারফত

ভ্রম সংশোধন

‘বঙ্গে ধর্ষণ প্রচুর, শাস্তির হার তলানিতে’ (১৮-৪) খবরে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে ২০১৫ এবং ২০১৬ দু’বছরে ধর্ষণের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় স্থানে, এবং ২০১৫ সালে পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে ৩৩,৩১৮টি, ২০১৬ সালে ৩২,৫১৩টি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি সামগ্রিক ভাবে নারী নির্যাতনের পরিসংখ্যান, শুধুমাত্র ধর্ষণের নয়। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়

Advertisement