সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র সম্প্রতি বিশাল এক জনসভায় বক্তৃতায় বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের পায়ের তলা থেকে মাটি সরতে শুরু করেছে। সত্যি কি রাজ্যে সে-রকম কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার ভিত্তিতে এমন কথা বলা যায়? বামফ্রন্টের শাসন চলেছে ৩৪ বছর। মমতার সরকার তো এখনও দশ বছর পার করেনি! এরই মধ্যে দল বা সরকার সংকটগ্রস্ত হবে কেন? এটা তো কেরল রাজ্য নয় যে ভোটদাতারা পাঁচ বছরের মেয়াদ পেরোলেই সরকার বদলে দেওয়ার জন্য তৎপর হবেন।

তা ছাড়া এই মুহূর্তে মমতা সরকার তুমুল জনপ্রিয়। এবিপি নিউজ-লোকনীতি সিএসডিএস-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষায় জানা গেল, গত আট-ন’মাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। প্রশ্ন উঠতে পারে, এ ধরনের সমীক্ষা থেকে স্থির কোনও মন্তব্যে উপনীত হওয়া কি যুক্তিযুক্ত? সে ক্ষেত্রে ব্যক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অন্তর্দৃষ্টি এবং তাঁর সরকারের সাফল্য নিয়ে কয়েকটি কথা বলা দরকার। বর্তমান সরকারের রাজনীতি হল পপুলিজম-এর রাজনীতি। দান-খয়রাতির রাজনীতিতে মগ্ন থেকে সরকার জনপ্রিয়তার ভিতকে শক্ত করতে চায় এবং সে লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী এ যাবৎ সফল। উন্নয়ন বলতে যদি আর্থিক বিকাশ বোঝায়, সে নিরিখে এ রাজ্যের অগ্রগতি যথেষ্ট নয়। কর্মসংস্থানের সুযোগও কম। কিন্তু উন্নয়ন বলতে যদি উড়ালপুল কিংবা রাস্তাঘাটের উন্নতি বোঝায়, সে ক্ষেত্রে সরকারকে সার্টিফিকেট দিতেই হবে। কিছু কিছু কর্মসংস্থানের সুযোগ যে ঘটেনি, তা নয়। তফসিলি জাতি জনজাতির প্রায় ৩০ হাজার মহিলাকে ট্রেনিং দিয়ে উপার্জনের ব্যবস্থা করেছে সরকার। একশো দিনের কাজের প্রকল্পে অন্ধ্র, রাজস্থানকে পিছনে ফেলে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। সর্বোপরি, উন্নয়নের লক্ষ্যে জেলায় জেলায় মুখ্যমন্ত্রীর ছুটে যাওয়া কিংবা রাজ্য জুড়ে বছরভর উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী তামাম রাজ্যবাসীর মধ্যে এক ধরনের উৎসবকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক মেজাজ এবং সর্বজনীনতার বোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। কেউ ঠাট্টা করে বলতে পারেন, এ সংস্কৃতি উটকো মেজাজের, তেমন পরিশীলিত নয়। এ সমালোচনার পরেও বলতে হয়, বেশির ভাগ মানুষ এতেই মজে আছেন। শুধুমাত্র কন্যাশ্রী প্রকল্প নয়, সরকারি সুযোগসুবিধা সম্বল করে আপাতসচ্ছলতা অর্জনের একটা তাগিদও গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে বর্তমান সরকার।

প্রশ্ন হল, এই সরকারের beneficiary কে বা কারা? তারা কোন শ্রেণিভুক্ত? এ তো আর শ্রমিক-কৃষকের সরকার নয়। এ তো আর বাম সরকার নয় যে ভূমি-সংস্কার, পঞ্চায়েতি-রাজের মাধ্যমে গরিবদের ক্ষমতাবান করতে চায়। নেতামন্ত্রীদের মধ্যেও সেই বন্দ্যোপাধ্যায়, চট্টোপাধ্যায়দের দাপট। শ্রেণি-দৃষ্টিভঙ্গির চালু ব্যাখ্যায় এ সরকারের চরিত্র বোঝা সহজ নয়। সমাজতত্ত্বের গবেষকদের কেউ কেউ in groups-out groups’এর যে তত্ত্ব হাজির করেছেন, তার মাধ্যমে কিছুটা আন্দাজ করা যেতে পারে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ— নিচুতলার কৃষক থেকে শিক্ষক, ডাক্তারকে নিয়ে গঠিত হয় এই in-group গোষ্ঠী। সরকারের কাছের লোক হিসেবে এরা পরিচিত এবং এরা হল সুবিধাভোগীদের দল। আর out-group হল সরকারবিরোধী গোষ্ঠী, যারা সরকারি সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকে। ক্ষমতাবদলের সময় তারা আগেকার in-group’কে হটিয়ে, নতুন সরকারের সুবিধাভোগী গোষ্ঠী বা নতুন in-group হয়ে ওঠে। কাজেই বর্তমান সরকারের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হলে বিরোধী দল বা জোটকে এ সময়ের out-group’এর সমর্থন পেতে হবে।

মমতা সরকারের দুর্বল দিকও আছে। সরকার বিপুল ঋণভারে জর্জরিত। গোষ্ঠীকোন্দল, তোলাবাজির সংস্কৃতিতে সরকার এবং দলকে ঘন ঘন জেরবার হতে হচ্ছে, হবেও। আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত কোনও কোনও নেতা বা মন্ত্রীর হাজতবাসের ঘটনায় সরকারের ইমেজ কিছুটা হলেও কালিমালিপ্ত হয়েছে। তা সত্ত্বেও টিএমসি দল কিংবা সরকারের এ মুহূর্তে তেমন কোনও সংকট নেই।

তা ছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক চেতনা, চলাফেরার ভঙ্গি কিংবা কথা বলার মেজাজ এবং ভাষায় এমন আকর্ষণীয় কিছু উপাদান আছে, যা অনেকের মন ছুঁয়ে যায়। কংগ্রেসি কালচারে কিছুটা বামপন্থী কায়দাকৌশল জুড়ে তিনি রাজনীতির এক নিজস্ব ভাষ্য নির্মাণ করেছেন। জঙ্গলমহলে সাময়িক হলেও শান্তি ফিরেছে, পাহাড়ের রাজনীতিও তাঁর দখলে। আপসধর্মী ধর্মনিরপেক্ষতা সত্ত্বেও তিনিই রাজ্যের প্রধান বিজেপি-বিরোধী শক্তি।

কাজেই গঠনমূলক সমালোচনা ছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর দল বা সরকারকে বোঝা যাবে না, ধাক্কা দেওয়াও সহজ নয়। তবে বিপদ হল, নির্দিষ্ট সময়ের পর অনুদানের রাজনীতিতে ভর করে আর এগনো যাবে না। কিন্তু সে আর এক প্রসঙ্গ।

শিবাশিস দত্ত  কলকাতা-৮৪

 

চণ্ডীর তির্যক

‘তির্যকের চণ্ডী প্রয়াত’ (১৯-১) শীর্ষক সংবাদে চণ্ডী লাহিড়ীর ক্যালিগ্রাফিতে দক্ষতার উল্লেখ রয়েছে। তাঁর কার্টুনের ক্যাপশনও হত দারুণ। বহু দিন আগের একটি কার্টুনের কথা মনে আছে। টাকাহাসি নামের এক জাপানি ভদ্রলোকের ব্যাগটি খোয়া যায় কলকাতার ট্র্যাফিকে। সেটি উদ্ধার হওয়ার খবর পেয়ে চণ্ডী কার্টুন এঁকে ক্যাপশন দেন, ‘টাকাহাসির মুখে হাসি’। সম্পাদক জানতেন পাঠকের কাছে চণ্ডীর তির্যকের কতখানি মূল্য। তাই, যে-দিন কোনও কারণে কার্টুন বেরোত না, নির্দিষ্ট জায়গাটিতে লেখা থাকত, ‘চণ্ডী ছুটিতে’।

সঞ্জিত পাঠক  নরেন্দ্রপুর

 

আরও দুই

পণ্ডিত নেহরুর মৃত্যুর কয়েক দিন পরে ‘তির্যক’-এ দেখেছিলাম, একটি জনসভায় জওহরলাল বক্তৃতা দিচ্ছেন এবং এক জন বহু দূরে একটি গাছের নীচে বসে তা শুনছেন। লোকটির গৃহিণী এক মহিলাকে বলছেন, ‘নেহরুর সঙ্গে ওঁর এই একটিই ছবি আমার কাছে রয়েছে’। জাদুসম্রাট পি সি সরকার (সিনিয়র) যখন বিদেশে মারা গেলেন, তার পরের দিন ‘তির্যক’-এ জাদুকরের ছবি, নীচে ক্যাপশন: ‘যাদুকরের শেষ খেলা, যাদুসম্রাট নিজেই অদৃশ্য’।

শান্তভানু সেন  শান্তিনিকেতন

 

খেলার কথা

‘হার্দিকের সঙ্গে তুলনা চান না কপিল’ (১৮-১) প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ১৯৭৬-এ পোর্ট অব স্পেন টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে ৪০৪-৪ তুলে টেস্ট জেতে বেদীর দল। এই প্রসঙ্গে জানাই, ওই খেলায় ৪০৩ রান তাড়া করে, ৪ উইকেটে ৪০৬ রান তুলে জেতে ভারত। ‘পিচ নিয়ে আইসিসি-র রায় দেখতে চান হোল্ডিং’ (১৭-১) প্রতিবেদনে লেখা, পোর্ট অব স্পেন টেস্টে ভারত যত রান তাড়া করে জিতেছিল, তার চেয়ে বেশি রান চতুর্থ ইনিংসে তাড়া করে আর মাত্র দুটি দলই টেস্ট জিতেছে। ১৯৪৮-এ লিড্স-এ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া (৪০৪) এবং ২০০২-০৩ মরশুমে সেন্ট জন্‌স অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৪১৮)। কিন্তু ২০০৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর পার্থ-এ, দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ উইকেটে ৪১৪ রান করে অস্ট্রেলিয়াকে হারায় এবং চতুর্থ ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বাধিক রান তাড়া করে জেতার নিদর্শন তৈরি করে।

সজলকান্তি ঘোষ  বারুইপুর

 

বাসের জানলা

বাস নয়ানজুলি বা খালে-বিলে পড়ে গিয়ে বহু দুর্ঘটনা ঘটছে। বাসের জানলাগুলি আজকাল হয় বেশ ছোট, প্রাইভেট বাসগুলোর জানলায় মাঝখানে একটি লোহার পাত লাগিয়ে পরিসর আরও কমানো হয়। জানলা বড় হলে, হয়তো কিছু দুর্ঘটনাগ্রস্ত মানুষ বাসের জানলা দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারবেন।

শিবপ্রসাদ মজুমদার   কলকাতা-১৯

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়