Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৯ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

সম্পাদক সমীপেষু: ধূসর ছকের বিপদ

১৬ জানুয়ারি ২০১৯ ০১:২১

অভিনেতা অমল পালেকর (ছবিতে) ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতার প্রেক্ষিতে সাদা-কালোর চেনা ছকের বাইরে ধূসর পরিসরের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন (‘ক্ষমতার কণ্ঠস্বর’, সম্পাদকীয়, ২৮-১২)। তাঁর মতে এই পরিসরেই যথার্থ প্রজ্ঞার বিকাশ ঘটতে পারে। কিন্তু যথার্থ প্রজ্ঞার বিচার হবে কোন নিরিখে? ভিন্নমতের প্রতি সহিষ্ণুতা বা বহুস্বর বহুমতকে নিয়ে চলতে পারাই কি যথার্থ প্রজ্ঞার শেষ কথা? পরমতসহিষ্ণুতা নিঃসন্দেহে প্রয়োজন, বিশেষত আজকের রাজনৈতিক আবহে। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলে চিনতে পারা, বলতে পারার ক্ষমতাও কিন্তু সমান জরুরি। শরৎচন্দ্রের ‘শেষ প্রশ্ন’ উপন্যাসে স্বাধীনতাসংগ্রামী রাজেন্দ্র বলেছিল, “সর্বপ্রকার মতকেই শ্রদ্ধা করতে পারে কে জানেন? যার নিজের কোনও মতের বালাই নেই।” বিরুদ্ধ মতের কণ্ঠরোধ না করে, নানা মতের আদানপ্রদানের অনুকূল পরিবেশ রক্ষা করেও একটি মতকে সমর্থন করা যায়, জীবনে প্রয়োগ করা যায়। ইতিহাস বলে, নানা মতের পরিসর থেকে বিজ্ঞানসম্মত রাস্তা খুঁজে নেওয়ার নামই মুক্ত সমাজ গড়ার সংগ্রাম।

অমল পালেকরের দেওয়া ধূসর পরিসরের উদাহরণগুলোই দেখা যাক। যিনি বা যাঁরা আজ উগ্র হিন্দুত্বের এই ভয়ঙ্কর রূপ দেখেও সংখ্যালঘুর প্রতি হিংস্র পরিবেশ সম্পর্কেই একমত নন, শুধুমাত্র অভিনেতা হিসাবে নাসিরুদ্দিন শাহকে সম্মান করতে পারলেও সেই অসচেতন অবস্থান থেকে তাঁরা নাসিরুদ্দিনের বিরুদ্ধে কটূক্তির প্রতিবাদে সরব হতে পারবেন কি? টি এম কৃষ্ণ জিশু এবং আল্লার গান গাইবেন এটা অপছন্দ করার অবচেতনে লুকিয়ে আছে ধর্মীয় সঙ্কীর্ণতা, যা তাঁদের প্রতিবাদকে দুর্বল করবে, কোনও না কোনও ভাবে সাম্প্রদায়িকতার হাত শক্ত করবে। ‘পদ্মাবত’-এর মতো একটি ইতিহাসনির্ভর চলচ্চিত্রে নিন্দনীয় ইতিহাসভ্রান্তি ঘটেছে মনে করার পরেও তাকে শিল্পকর্ম হিসাবে সম্মান দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তাও প্রশ্নযোগ্য বিষয়। অর্থাৎ ধূসর পরিসর বা তৃতীয় স্বর যা-ই বলি না কেন, তার সদর্থক ভূমিকা খুব স্পষ্ট নয়।

উগ্রতা বা অসহিষ্ণুতার কার্যকর প্রতিবাদ একমাত্র তখনই সম্ভব, যখন এক জন এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পিছনে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ছকটিকে চিনতে পারছেন, তার বিরুদ্ধে লড়বার সঠিক পথটি খুঁজে পাচ্ছেন। এটা পেতে হলে সাদা কালোর দ্বন্দ্বে নামতেই হবে, সুনির্দিষ্ট মতের ভিত্তিতে সত্যের পক্ষে ক্রিয়াশীল হতে হবে। বৈজ্ঞানিক মননের এই বিপন্ন সময়ে বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহার কথাটি মনে রাখা জরুরি— মুক্ত চিন্তা ভাল, কিন্তু তার চেয়েও ভাল সঠিক চিন্তা।

Advertisement

সঙ্ঘমিত্রা চট্টোপাধ্যায়

কলকাতা-৭৭

দায়িত্ব নেই?

‘বিষের ঔষধ’ (৮-১) শীর্ষক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ‘‘গণতন্ত্রে সরকারের ভূমিকা অভিভাবকের নহে। কর্তব্য-অকর্তব্য স্থির করিবার অধিকার নাগরিকের, তাহার ফলের দায়িত্বও তাহার।’’ তা হলে কোনও কর্মের ফল যদি সাধারণ মানুষের পক্ষে ক্ষতিকর হয়, তবে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারের কোনও দায়িত্ব থাকবে না? এ ক্ষেত্রে সরকার অভিভাবকের ভূমিকা নিতে পারবে না? তা হলে আর চোলাই আটকানো কেন? চোলাই খেয়ে আমজনতা মরে মরুক; সেটা যারা চোলাই খেয়েছে তাদের দায়িত্ব। তা তো বলছে না সরকার। বরং চোলাই খেয়ে কেউ মরলে তার পরিবারকে দু’লক্ষ টাকা দিচ্ছে। তা হলে চোলাই আটকানোর পরিকল্পনা কি কেবল সরকারি মদ ব্যবসাকে তেজি রাখার কৌশল?

সম্পাদকীয়তে বিহার, গুজরাত, নাগাল্যান্ড প্রভৃতি রাজ্যের মদ বিক্রয় নিষিদ্ধ করাকে কটাক্ষ করা হয়েছে। অথচ ঘটনা হল, বিহার সরকার মদ নিষিদ্ধ করার ফলে সেখানে ব্যক্তি এবং সমাজ জীবনে অনেক সুফল মিলেছে। নিষিদ্ধ হওয়ার চার বছর পর বিহার সরকারের মহিলা বিকাশ নিগমের অধীনস্থ জেন্ডার রিসার্চ সেন্টারের সমীক্ষা বলছে, রাজ্যে যেখানে ৫৪ শতাংশ পরিবারে মহিলা এবং শিশুরা গার্হস্থ্য হিংসার শিকার ছিলেন, তা কমে এখন ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সংসারে অশান্তি বেশ কিছুটা কমেছে। এর আগে ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের রিপোর্টও দেখিয়েছে, মদ নিষিদ্ধ হওয়ার পর বিহারে ৫৫ শতাংশ পথ দুর্ঘটনা, ২৪ শতাংশ হত্যা, ১৬ শতাংশ লুট ও ৩৭ শতাংশ মারামারির ঘটনা কমেছে। এই অভিজ্ঞতার পর তামিলনাড়ু সরকারও জনমতের চাপে মদের উপর লাগাম টানতে বাধ্য হয়েছে। এ রাজ্যের সরকারের কি এ ব্যাপারে কোনও দায়িত্ব নেই?

এখানে বেআইনি এবং আইনি মদের কথা বলা হয়েছে। যেন চোলাই মদ ক্ষতিকারক হলেও, সরকারি মদ তেমন ক্ষতিকারক নয়। অথচ যে কোনও মদই শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই মাদকদ্রব্যের মোড়কে স্বাস্থ্যহানির সতর্কতা জানাতে আইন জারি হয়েছে। মদ সরকারি বা বেসরকারি যা-ই হোক, এ শুধু যে পান করে তার ও তার পরিবারের ক্ষতি করে না, গোটা সমাজের পরিবেশকে দূষিত করে। অসামাজিক কাজ, ঝগড়াঝাঁটি, খুন, মেয়েদের প্রতি অত্যাচার করতে প্ররোচিত করে। বহু পথ দুর্ঘটনায় মদ একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মদ স্নায়ুর উপর ক্রিয়া করে মানুষের বোধশক্তি, সংযম, ন্যায়নীতিবোধ অকেজো করে দেয়। যে কারণে ইংরেজ শাসিত ভারতবর্ষে ইংরেজরা মদের প্রসার ঘটিয়েছিল; আর যার বিরোধিতায় নেমেছিলেন এ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা।

এ হেন ক্ষতিকারক মাদকদ্রব্যকে বর্জন না করতে বলে, কোনও সামাজিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ব সম্পন্ন মানুষ, সরকারি বিপণির মদ খেতে বলতে পারেন না। অথচ সরকারি মদতেই এ রাজ্যে মদের এত রমরমা। এই আইনি মদকেও বেআইনি করা দরকার। আইন প্রণয়ন করে সরকার। মনে রাখা দরকার, জনগণের জন্য আইন, আইনের জন্য জনগণ নয়। যা ন্যায়সঙ্গত তাই আইনসঙ্গত হওয়া উচিত। এ হল আইনের বুনিয়াদি কথা, ‘জুরিস্প্রুডেন্স’-এর কথা।

গৌরীশঙ্কর দাস

সাঁজোয়াল, খড়্গপুর

পেনশনে এটিএম

রাজ্যের অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেলের নির্দেশক্রমে, পেনশন প্রাপকেরা আর এটিএম কার্ড ব্যবহার করে পেনশনের টাকা তুলতে পারবেন না (‘কার্ডে পেনশন নয়’, ৮-১)। ব্যাঙ্কে সবচেয়ে ভিড়ের দিনগুলিতে তাঁদের লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা তুলতে হবে। জীবনের অপরাহ্ণে পৌঁছে তাঁরা বিজ্ঞান-প্রযুক্তির সুফল থেকে বঞ্চিত হবেন। অল্পসংখ্যক দুষ্কৃতকারী পেনশন প্রাপকের মৃত্যুর পরে অসদুপায় অবলম্বন করে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেয়। তাঁদের অপরাধের জন্য শাস্তি পেতে হবে অশক্ত বৃদ্ধদের।

অপরাধীদের শনাক্ত করে প্রশাসনের সহায়তায় তাদের বিরুদ্ধে আইনসঙ্গত ব্যবস্থা করার চেয়ে, অনেক সহজ বয়স্ক নাগরিকের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁরা সংগঠিত হয়ে প্রতিবাদ করতে পারবেন না। এ যেন মাথাব্যথার উৎস খুঁজে না পেয়ে, মাথা কেটে ফেলার বিধান।

এটিএম ব্যবহারের চল হওয়ার আগেও পেনশনের টাকা তোলার ক্ষেত্রে তঞ্চকতা হত। পেনশন প্রাপক টাকা তোলার মতো অবস্থায় নেই, আগে থেকে তাঁকে দিয়ে সই করিয়ে রাখা চেক হাজির করে টাকা তুলে নেওয়ার মতো ঘটনা বিরল হলেও ঘটে। এটিএম কার্ড ব্যবহার বন্ধ করলেও নানা ধরনের জোচ্চুরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকেই। সে জন্য ধারাবাহিক সতর্ক দৃষ্টি রাখা খুব জরুরি। বছরে এক বার, বা কোনও পেনশনের ক্ষেত্রে দু’বার লাইফ সার্টিফিকেট দাখিল করার কারণে কয়েক মাসের মধ্যেই জালিয়াতি ধরা পড়ার কথা। অসাধুতা রুখতে পেনশন প্রাপকের অসুবিধা না ঘটিয়ে অন্য নজরদারির কথা কর্তৃপক্ষ ভাবতেই পারেন। কিন্তু পেনশন তুলতে প্রতি মাসে চেক হাতে করে লাইনে দাঁড়াতেই হবে— এ এক ধরনের জুলুম। বয়স্কদের সই অনেক ক্ষেত্রে মেলে না। সেটাই স্বাভাবিক। তাই পেনশন প্রাপক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে অবশ্যই এটিএম কার্ড ব্যবহার করতে দিন। অন্যায্য ফরমান প্রত্যাহার করুন।

বিশ্বনাথ পাকড়াশি

শ্রীরামপুর-৩, হুগলি

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,

কলকাতা-৭০০০০১।

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

আরও পড়ুন

Advertisement