‘‘ভোট-বাজারে ‘ইয়েতির ছাপ’ সেনার পোস্টে’’ (১-৫) শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে বাংলা সাহিত্যে ইয়েতির প্রসঙ্গে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘টেনিদা’ এবং সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কাকাবাবু’র কথা এসেছে। আরও কয়েক জনের কথা বলি।

বাঙালির অতিপ্রিয় ঘনাদাও ইয়েতি দেখেছিলেন। শুধু দেখেনইনি, ইয়েতিরই কারণে তিনি এভারেস্টের মাথায় ‘টুপি’ও পরিয়েছিলেন! 

প্রেমেন্দ্র মিত্র ‘টুপি’ গল্পে লিখেছিলেন, মোহান্ত সেজে তিব্বতের থিয়াংবোচি মঠ থেকে একটি প্রাচীন তিব্বতি পুঁথি নিয়ে উধাও হয়ে যান ৭২ নম্বর বনমালী নস্কর লেনের ঘনশ্যাম দাস ওরফে ঘনাদা। সেখানেই হিমালয়ের এক গুহায় ইয়েতির দেখা পান তিনি।

চিতার চামড়া গায়ে জড়ানো আর মাথায় ইগলের পালক-ওয়ালা সেই সভ্য ইয়েতিরা ঘনাদার সঙ্গীর উল্লাস শুনেই এক দৌড়ে হাওয়া! 

পরের দিন আবার তারা হানা দেওয়ায় ঘনাদা ল্যাসো ছুড়ে ইয়েতি পাকড়ালেন! কিন্তু ঘনাদাকে নিয়েই দৌড়ে ইয়েতি সোজা এভারেস্টের চূড়ায়! আর সেই সময়েই টুক করে নিজের মাথার টুপি ঘনাদা পরিয়েছিলেন এভারেস্টের মাথায়! যে হেতু হিলারি এবং তেনজিংয়ের এভারেস্ট অভিযানের আগেই ‘টুপি’ গল্প লিখেছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র, তাই বলাই যায় সবার প্রথম এভারেস্ট জয় করে মাথায় টুপি পর্যন্ত পরিয়েছিলেন ঘনাদা।

শেষ পর্যন্ত যে ইয়েতিকে ঘনাদা কলকাতায় আনতে পারেননি, সেই দুঃখ বোধ হয় বাঙালির কোনও দিনও যাবে না! আসলে ঘনাদার ল্যাসোর দড়ি ছিঁড়ে যাওয়াতেই এই বিপত্তি ঘটেছিল। অবশ্য ঘনাদা সম্পর্কে টেনিদা তো কপালে হাত ঠুকে বলেইছিলেন, ‘‘ঘনাদা!! তিনি তো মহাপুরুষ। ইয়েতি কেন তার দাদামশাইয়ের সঙ্গেও তিনি চা-বিস্কুট খেতে পারেন।’’

সেনার টুইট নিয়ে নেটিজ়েনরা অনেকে জিজ্ঞাসা করছেন, ইয়েতিটি পুংলিঙ্গ না কি স্ত্রীলিঙ্গ? স্ত্রী ইয়েতির দর্শন কিন্তু পেয়েছিলেন গৌরকিশোর ঘোষ সৃষ্ট গুলসম্রাট ব্রজরাজ কারফর্মা, মানে ব্রজদা! এবং এভারেস্টের আশেপাশে সেই নারী-ইয়েতি বরফের ওপর ঠ্যাং নাচিয়ে নাচিয়ে গান গাইছিল। কী ভাষায় সেই গান? তা একমাত্র ব্রজদাই বুঝতে পেরেছিলেন। সেটি ছিল তাঁর অতিপ্রিয় বঙ্কাদা (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) রচিত ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের কিংবদন্তি সংলাপ: ‘‘পথিক তুমি কি পথ হারাইয়াছ?’’

তবে ব্রজদারও বক্তব্য ছিল, ১৮৫২ সালে হাইজাম্প মেরে তিনিই প্রথম এভারেস্ট ডিঙিয়েছিলেন!

এ ছাড়াও, ‘শুকতারা’ পত্রিকায় প্রকাশিত সব্যসাচীর ‘টারজ়ান’-এরও হিমালয়ে ইয়েতির সঙ্গে মোলাকাত হয়েছিল। তারা আবার এক সময়ে টারজ়ানকে নিজেদের জাতভাই মনে করে ‘ইয়েটি ইয়েটি’ বলে চিৎকার করে উল্লাস প্রকাশও করেছিল।

আবার, কমিকসের অতিমানব গার্থ-এর এক অভিযানে তো প্রমাণ হয়েই গিয়েছিল যে, আসলে ইয়েতিরা এই পৃথিবীর প্রাণীই নয়! তারা সকলেই ভিনগ্রহী!

শঙ্খশুভ্র চট্টোপাধ্যায়

কলকাতা-৭৮

 

ঠকে যাবেন

নানা চ্যানেলে সন্ধ্যায় প্রচারিত সিরিয়াল সুযোগের অভাবে হয়তো দেখতে পান না। পরের দিন দুপুরে সেই সিরিয়ালের পুনরায় সম্প্রচার দেখতে যাবেন না। ডাহা ঠকে যাবেন। চ্যানেল কর্তৃপক্ষ পুরো সিরিয়াল না দেখিয়ে হঠাৎ বদলে দেবেন মাঝপথে। তবে একটা উপায় আছে। ভ্যাবলা হয়ে না, ঝটপটা ফোন কিনে, পছন্দের সিরিয়াল পছন্দের সময়ে আপসে দেখে নিতে পারবেন।

সুদর্শন মুখোটী

শ্রীরামপুর, হুগলি

 

অবদান

ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ— সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে এখন সমালোচনায় মুখর অনেকেই। পরকীয়া বা অবৈধ সম্পর্কের বাড়বাড়ন্ত এটার জন্যই হচ্ছে বলে দাবিও করেন অনেকেই। তবে এক জন রেলের নিত্যযাত্রী হিসেবে দেখতে পাই, সকাল ন’টাতেই স্টেশনে অসংখ্য হাসিমুখ, যাঁরা ফোনে গল্প বা ঝড়ের গতিতে মেসেজে ব্যস্ত। মারাত্মক রকম টেনশনের যুগে হাসিখুশি থাকাটা বেজায় শক্ত। বিবাহিত জীবনে নাকি পুরুষ-নারী নির্বিশেষে শান্তির খুব অভাব। সেখানে সকাল সকাল বিবাহিত ব্যক্তিরা বেশ হাসি হাসি মুখে অফিস যাচ্ছেন, এটাও কিন্তু ফেসবুকের আর আনলিমিটেড কলিংয়ের অবদান।

অরূপরতন আইচ

কোন্নগর, হুগলি

 

পাঁচে পাঁচ

কাগজে দেখছি, আমাদের অধিকাংশ সাংসদ লোকসভায় গিয়ে পাঁচ বছরে পাঁচটি বির্তকেও অংশ নেন না, ন্যূনতম পাঁচটি প্রশ্নও পেশ করতে পারেন না! তাঁরা আমাদের কোন উন্নতির পথে নিয়ে যাবেন?

সম্পর্ক মণ্ডল

কাটোয়া

 

কিসের ঝুঁকি? 

‘‘ঝুঁকি হয়ে যাবে’’ শীর্ষক চিঠিতে (১৬-৪) লেখক লিখেছেন, শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের ভোটকর্মী হিসেবে নিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ।

সবিনয়ে জানাই, এই রাজ্যের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় প্রতিটি জেলাতেই বুথে বুথে সুষ্ঠু নিরাপত্তার জন্য প্রচুর সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক হোমগার্ড (অস্থায়ী) নিয়োগ করা হয় মাধ্যমিক উত্তীর্ণ বেকার যুবকদের মধ্যে থেকেই। বিগত চারটি পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করার সময় দেখেছি, এই সব স্বেচ্ছাসেবক হোমগার্ডরা, বুথে সব সময়ই অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কেউই সরকারি ভোটকর্মীদের ফেলে পালিয়ে যাননি।

তুষার ভট্টাচার্য

কাশিমবাজার, মুর্শিদাবাদ 

 

সত্য চৌধুরী 

‘শুরুর গান’ (কলকাতার কড়চা, ২২-৪) শীর্ষক প্রতিবেদনে গায়ক সুরকার অভিনেতা সত্য চৌধুরী সম্পর্কে লেখা হয়েছে। কিছু সংযোজন করি। আধুনিক, ছায়াছবির গানের পাশাপাশি তিনি একাধিক নজরুলগীতি গেয়েছিলেন। যেমন, ‘যাসনে মা ফিরে’, ‘জাগো অন‌শন বন্দি’, ‘তোমার আঁখির মতো’, ‘ভারত আজিও ভোলেনি’, ‘ভাই হয়ে ভাই চিনবি’, ‘বল নাহি ভয়, নাহি ভয়’ ইত্যাদি। তিনি নজরুলের গানের কথায় সুরারোপও করেছিলেন। যেটি হল ‘হে প্রবল দর্পহারী’।

হীরালাল শীল

কলকাতা-১২

 

বিদেশি লিগ

কিছু দিন আগে অবধি আনন্দবাজারের দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় টেলিভিশনের সময়সূচিতে বিভিন্ন বিদেশি ফুটবল লিগের সময় ও কোন চ্যানেলে তা দেখা যাবে, লেখা থাকত। এখন বন্ধ হয়ে গিয়েছে কেন? 

স্বপন ভট্টাচার্য

শ্রীপল্লি, চন্দননগর

 

নো হর্ন

কলকাতা বিমানবন্দরের দরজার ঠিক বাইরে, প্রচুর মানুষ অপেক্ষারত থাকেন অ্যারাইভাল লাউঞ্জ থেকে বার হওয়ার সময় তাঁদের আত্মীয় বা বন্ধু যাত্রীদের রিসিভ করার জন্য। তা ছাড়া এখানে অনেক ফাস্ট ফুড সেন্টার, সেই জন্যেও ভিড় থাকে। এখান দিয়ে অনেক গাড়িও যায়, অবধারিত ভাবেই তাদের হর্ন বাজাতে হয় বার বার। এই হর্নের শব্দ দু’দিক ঘেরা অর্ধবৃত্তাকার জায়গায় প্রতিধ্বনিত হয়ে, অনেক ক্ষণ ধরে অনুরণিত হয়ে, আরও বিকট আকার ধারণ করে। বিমানবন্দরের এই জায়গাটিকে ‘নো-হর্ন জ়োন’ ঘোষণা করা হোক।

কৈলাসপতি মণ্ডল

কলকাতা-৫২

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু, 
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।