আরও এক বার সম্পূর্ণ অকারণে নিজের গায়ে কালি লাগতে দিল কলকাতা পুলিশ। যে অকর্মণ্যতা এবং নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে আনলেন প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স ঊষসী সেনগুপ্ত, সে অকর্মণ্যতা ও নিষ্ক্রীয়তা সাধারণ নয়, অপরাধমূলক। কলকাতা পুলিশই শেষ পর্যন্ত সক্রিয় হল এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করল, কিন্তু উপর মহলের নির্দেশ পাওয়ার পরে। এই সক্রিয়তা শুরুতেই দেখালে কী সমস্যা হত, জানা নেই।

রাতের কলকাতায় সাঙ্ঘাতিক হেনস্থার মুখে পড়লেন প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স ঊষসী সেনগুপ্ত। অভিযোগ জানাতে থানায় গেলেন তিনি, কিন্তু তিনটে থানার মধ্যে দায় ঠেলাঠেলি শুরু হল। কোন থানার অধীনস্থ এলাকায় ঘটনাটা ঘটেছে, তা নিয়েই দায় ঠেলাঠেলি। তিনটে থানা ঘুরে অবশেষে অভিযোগ দায়ের করতে পারলেন ঊষসী, তবে পদক্ষেপ কিছু করল না কলকাতা পুলিশ। পরের দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন খ্যাতনামা মডেল। হু হু করে ভাইরাল হল সে পোস্ট। নজরে পড়ল কলকাতা পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের। নির্দেশ গেল থানায়। অভিযুক্তরা গ্রেফতারও হয়ে গেল। এত কিছু যদি সেই রাতেই করত পুলিশ, যদি ঊষসীর ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হওয়ার আগেই পদক্ষেপটা করা হত, তা হলে কোথাও কোনও সমস্যা থাকত না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তেমনটা হল না।

পুলিশ কাজ করল, উপযুক্ত কাজই করল, কিন্তু সময়মতো করল না। ঠিক এই অভিজ্ঞতাই তো কয়েক দিন আগে হয়েছিল এনআরএস হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তারদের। সময়ের কাজটা যদি সে রাতে সময়ে করত কলকাতা পুলিশ, তা হলে গোটা ভারতের চিকিৎসকদের আন্দোলনে নামতে হত না।

সম্পাদক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা আপনার ইনবক্সে পেতে চান? সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

আরও পড়ুন: রাতের কলকাতায় একদল যুবকের হাতে প্রাক্তন ‘মিস ইন্ডিয়া’র হেনস্থা, গ্রেফতার ৭​

ঊষসী সেনগুপ্তর ক্ষেত্রেও যে ধরনের নিষ্ক্রিয়তা কলকাতা পুলিশ দেখিয়েছিল, তা আরও বড় বিপর্যয় ঘটাতে পারত। রাতের কলকাতায় এক দল যুবকের হাতে হেনস্থা হওয়ার তথা শ্লীলতাহানির মুখে পড়ার অভিযোগ আনছেন এক যুবতী, কিন্তু পুলিশ অভিযোগ নিতে চাইছে না। তিনটে থানা নিজেদের মধ্যে দায় ঠেলাঠেলি করছে। অভিযোগকারিণীকে ওই রাতেই এক থানা থেকে আর এক থানায় ছুটে বেড়াতে হচ্ছে। এই দৃশ্য কল্পনা করলেই শিউরে উঠতে হয়। যে বিপদের সম্মুখীন ঊষসী হয়েছিলেন, তা আরও বড় রূপ নিয়ে নিতে পারত পুলিশের এই আচরণের কারণে। ঊষসী সেনগুপ্ত যথার্থ প্রশ্ন তুলেছেন যে, তিনি প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া বলে তাঁর ফেসবুক পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হল এবং কলকাতা পুলিশের শীর্ষকর্তারা বিষয়টি জেনে সক্রিয় হতে পারলেন। সাধারণ কারও ক্ষেত্রে এমনটা ঘটলে কী হত? তাঁর পোস্ট কি আদৌ ভাইরাল হত? আর যদি ভাইরাল না হত, তা হলে কি কলকাতা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা আদৌ জানতে পারতেন? আর যদি জানতে না পারতেন, তা হলে থানা কি আদৌ সক্রিয় হত?

আরও পড়ুন: ফেসবুকে ঊষসীর প্রশ্ন, আপনারা কি এমন ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন?

আরও পড়ুন: ঊষসী নিগ্রহের ঘটনায় সাসপেন্ড এক পুলিশ অফিসার, শো-কজ দু’জনকে

এই ঘটনায় যে কালি কলকাতা পুলিশের গায়ে লাগল, তা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে চাইলে তা করতে যে কলকাতা পুলিশের খুব একটা সময় লাগে না, উপর মহলের নির্দেশ থানায় পৌঁছতেই যতটা সক্রিয়তার সঙ্গে কাজ করল পুলিশ, ঘটনার রাতেই তো তেমনটা করা উচিত ছিল। এনআরএস হাসপাতালের ঘটনার পরেও কেন শিক্ষা হচ্ছে না পুলিশ কর্মীদের, কেন এই অপরাধমূলক নিষ্ক্রীয়তার প্রবণতা কাটছে না, তা দুর্বোধ্য।