এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। কিন্তু সেই সংখ্যার মধ্যে কত হিন্দু এবং কত মুসলিম নাম রয়েছে, সেই তথ্য নির্বাচন কমিশন প্রকাশ্যে আনেনি। ঘটনাচক্রে, গত মঙ্গলবার ওই তালিকা প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাংগঠনিক স্তরে হিসাব কষে তৃণমূল দাবি করল, যত নাম বাদ পড়েছে, তার ৬৩ শতাংশই হিন্দু! যা বিজেপির পক্ষে ‘অস্বস্তিকর’।
তৃণমূল যে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে, তার ‘সত্যতা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি বিজেপি। উল্টে তাদের প্রশ্ন, তৃণমূল এই পরিসংখ্যান হাতে পেল কী করে?
তৃণমূলের বক্তব্য, এসআইআরের একদম প্রথম পর্বে যে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল, তার মধ্যে ৪৪ লক্ষই ছিল হিন্দু নাম। সেই পর্বে মুসলিম নাম বাদ পড়েছিল প্রায় সাড়ে ১৩ লক্ষ। আবার দ্বিতীয় পর্বে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছিল প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ। এর মধ্যে ৫ লক্ষ ২৮ হাজারই হিন্দু! মুসলিম নাম বাদ পড়েছিল ১৩ হাজারের মতো। তৃতীয় অর্থাৎ সর্বশেষ পর্বে বিবেচনাধীন তালিকা থেকে প্রায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। তবে এই পর্বে হিন্দুদের তুলনায় মুসলিম নামের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। বিবেচনাধীন তালিকা থেকে মুসলিম নাম বাদ পড়েছে সাড়ে ১৭ লক্ষেরও বেশি। পক্ষান্তরে, হিন্দু নামের সংখ্যা প্রায় ৮ লক্ষ ৩৫ হাজার।
শতাংশের হিসাব কষলে দেখা যাচ্ছে, প্রথম পর্বে যে নাম বাদ পড়েছিল, তার মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ হিন্দু এবং মুসলিম প্রায় ২৩ শতাংশ। অন্য ধর্মাবলম্বীদের নাম বাদ পড়েছিল প্রায় ২ শতাংশ। দ্বিতীয় পর্বে যে নাম বাদ পড়েছিল তাতে হিন্দু নাম আরও অনেক বেশি। প্রায় ৯৭ শতাংশ। মুসলিম আড়াই শতাংশ । অন্যান্য ১ শতাংশেরও কম। তৃতীয় পর্বে, অর্থাৎ বিবেচনাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়ার হিসাব বলছে, হিন্দু নাম বাদ পড়েছে ৩১ শতাংশ। মুসলিম নাম তার দ্বিগুণেরও বেশি। ৬৫ শতাংশ, অন্যান্য ৪ শতাংশের কিছু বেশি।
অর্থাৎ, সব মিলিয়ে শতাংশের হিসাবে হিন্দু নাম বাদ পড়েছে প্রায় ৬৩ শতাংশ। মুসলিম ৩৫ শতাংশ। আনুপাতিক হিসাবে হিন্দু-মুসলিম নাম বাদ পড়ার হার ২:১।
বৃহস্পতিবার তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গা খুঁজতে গিয়ে বিজেপি সকলকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে। সেই হয়রানি থেকে বাদ যাননি গরিব হিন্দুরাও। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, ৫৭ লক্ষেরও বেশি হিন্দু নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে।’’
তৃণমূল হিসাব কষে যে পরিসংখ্যানের দাবি করছে, তার ‘সত্যতা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি বিজেপি নেতা রাজর্ষি লাহিড়ী। বরং তাঁর বক্তব্য, ‘‘নির্বাচন কমিশন তো এই তথ্য প্রকাশ্যে আনেনি। তৃণমূল তা হলে পেল কোথা থেকে? যে বিএলও-রা তৃণমূলের ঝান্ডা নিয়ে আন্দোলন করছিলেন, তাঁরাই কি তা হলে তৃণমূলের হাতে এই তথ্য তুলে দিয়েছেন?’’
প্রত্যাশিত ভাবেই সূত্রের ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলেনি তৃণমূল। অরূপ শুধু বলেছেন, ‘‘একাধিক সংস্থা এসআইআর তালিকাকে ‘ডিজিটাইজ়’ করেছে। প্রথম দু’দফায় যে নাম বাদ গিয়েছিল, তার বুথভিত্তিক হিসাব আমাদের সাংগঠনিক স্তরেও রয়েছে। এই পরিসংখ্যান পাওয়ার জন্য মহাকাশ গবেষণার দরকার হয় না।’’
প্রসঙ্গত, অনেকেই এসআইআরে নাম বাদ পড়ার মোট সংখ্যাকে সার্বিক ভাবে ‘ধর্মীয়’ ভিত্তিতে না-দেখে ‘গুণগত’ দিক থেকে দেখতে চাইছেন। তাঁদের ব্যাখ্যা, প্রথম দফায় যে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল, যার মধ্যে ৭৫ শতাংশই হিন্দু, তা স্থানান্তরিত এবং একজনের একাধিক জায়গায় থাকা নাম। আর তৃতীয় পর্বে যে নাম বাদ পড়েছে, যাতে সংখ্যালঘুরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। যাঁরা ভোটদানে ‘সক্রিয়’। তবে তৃণমূল আনুষ্ঠানিক ভাবে না-বললেও একান্ত আলোচনায় বলছে, গণহারে হিন্দুদের নাম বাদ মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় প্রভাব তৈরি করবে। যে অংশে গত তিনটি বড় ভোটে বিজেপি নিরঙ্কুশ আধিপত্য তৈরি করেছিল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম থেকে শহর, বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছোতে শুরু করেছেন কমিশনের বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। শুরু হয়ে গিয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিলিও।
- শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের আরও ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একই সঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআরের কাজ। যাঁরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার ব্যবস্থা করেছে কমিশন।
-
ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হওয়া বুথভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করে দিল নির্বাচন কমিশন, নাম দেখা যাবে কমিশনেরই ওয়েবসাইটে
-
অন্ধকারে ঢিল ছুড়বে না সুপ্রিম কোর্ট! এসআইআর মামলায় ফর্ম-৬ নিয়ে তৃণমূলের দাবি ওড়ালেন প্রধান বিচারপতি
-
ট্রাইবুনালে কাজই শুরু হয়নি, প্রবেশেও বাধা! নতুন মামলা সুপ্রিম কোর্টে, কী হচ্ছে জানতে চাইবেন প্রধান বিচারপতি কান্ত
-
ভোটার ট্রাইবুনালের কাজ শুরু! মোথাবাড়ি মাথায় রেখে কঠোর নিরাপত্তা, দফতর দর্শনে গিয়ে কী দেখল আনন্দবাজার ডট কম
-
পরিকাঠামো তৈরি, সোমবারেই ট্রাইবুনালে শুরু হয়ে যাবে শুনানি! রবিতে জোকার অফিস ঘুরে দেখে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাক্তন বিচারপতিরা