বিজেপি-সহ বিরোধীরা যখন প্রায়ই তৃণমূল নেতাদের ফুলেফেঁপে ওঠা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তখন শনিবার সাঁইথিয়ার সভা থেকে সেখানকার বিজেপি প্রার্থীর সম্পত্তিবৃদ্ধি নিয়ে তোপ দাগলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বলেন, ‘‘বিজেপি প্রার্থীর পরিবার চায়ের দোকানের সঙ্গে যুক্ত। কোথা থেকে তাঁর ১৭টি ডাম্পার হল? ঘোষিত সম্পদ ৩ কোটি টাকা হল? সেটা বোঝালে ভাল হত।’’ সাঁইথিয়া কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে লড়ছেন কৃষ্ণকান্ত সাহা। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিদায়ী বিধায়ক নীলাবতী সাহা।
দু’দিন আগেই বীরভূমের সিউড়িতে সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবাররের সভা থেকে মোদীর তোলা প্রশ্নেরও জবাব দেন অভিষেক। পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্রীয় সরকার গত পাঁচ বছরে কী কাজ করেছে, তার খতিয়ান দিক বিজেপি। তৃণমূল তাদের রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করেছে। হিন্দুত্বের কথা বললেও কী ভাবে এসআইআর-এর পরে প্রায় ৫৮ লক্ষ হিন্দুর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেল সেই প্রশ্নও তুলেছেন অভিষেক।
বীরভূমের আগে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে সভা করেন অভিষেক। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর। ময়দানে রয়েছে সিপিএম, কংগ্রেস এবং আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিম-ও। সব বিরোধীদের এক বন্ধনীতে ফেলে আক্রমণ শানান তৃণমূলের ‘সেনাপতি’। তাঁর কথায়, “কংগ্রেসের পচা আলু, সিপিএমের পচা পেঁয়াজ, আর মিম, ডিম, জুপের পচা উচ্ছে, পচা বেগুন মিলিয়ে জগাখিচুড়ি করার চেষ্টা করছে। সেই জগাখিচুড়ি খেলে পেটখারাপ করবে”
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের ২২টি আসনের মধ্যে ২০টি আসন জিতেছিল তৃণমূল। কিন্তু সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই জেলায় এ বারের নির্বাচনে ভোট ভাগের বিভিন্ন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তৃণমূল সেটাই রুখতে চাইছে। ইতিমধ্যে হুমায়ুনের একটি গোপন ক্যামেরা অভিযানও প্রকাশ্যে এসেছে। যার অব্যবহিত পরেই হুমায়ুনের দলের সঙ্গে ওয়েইসির দল জোট ভাঙার কথা ঘোষণা করেছে। আবার ময়দানে সর্বশক্তি দিয়ে নেমেছে কংগ্রেস এবং সিপিএম-ও। একই পরিস্থিতি পার্শ্ববর্তী জেলা মালদহেও। ফলে গঙ্গা ভাঙনের কবলে থাকা দুই জেলায় ভোটের ভাঙন ঠেকাতে মরিয়া তৃণমূল। রেজিনগর ও সাঁইথিয়ার সভার পরে পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে রোড শো করেন অভিষেক।