Advertisement
E-Paper

‘শুনেছি আগের বার আমাদের লোকেরাই হারিয়েছিল! এ বার আমি নিজে নজর রাখছি’, বুধে নন্দীগ্রামে বললেন অভিষেক

নন্দীগ্রামে যে অভিষেকের ‘বিশেষ নজর’ রয়েছে, তা গত জানুয়ারি থেকেই স্পষ্ট হচ্ছিল। নিজের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের বাইরে স্বাস্থ্য পরিষেবা শিবির সেবাশ্রয় নিয়ে গিয়েছিলেন নন্দীগ্রামে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ২০:৫৮
Abhishek Banerjee held a workers meeting in support of TMC candidate of Nandigram

নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।

গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১,৯৫৬ ভোটে হারতে হয়েছিল তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই ফলাফলের দলীয় পর্যালোচনায় উঠে এসেছিল নন্দীগ্রামের তৃণমূলের অন্দরে কোন্দলের প্রসঙ্গ। মিলেছিল অন্তর্ঘাতের ইঙ্গিতও। বুধবার নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের সমর্থনে কর্মিসভায় বলতে গিয়ে পাঁচ বছর আগের সেই অন্তর্ঘাতের প্রসঙ্গ তুলে দলের স্থানীয় নেতাদের সতর্ক করে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

পশ্চিম মেদিনীপুরে দু’টি জনসভা করে বুধবার বিকালে অভিষেক যান নন্দীগ্রামে। সেখানেই কর্মীদের নিয়ে অভ্যন্তরীণ বৈঠক করেন তৃণমূলের সেনাপতি। কর্মিসভায় ভিড় হয়েছিল চোখে পড়ার মতো। সূত্রের খবর, কর্মীদের নিয়ে সেই বৈঠকেই অভিষেক বলেছেন, তাঁকে অনেকে জানিয়েছেন, গত বার দলের লোকরাই তৃণমূলের প্রার্থীকে (মমতাকে) হারিয়ে দিয়েছিল। এ বার তিনি নিজেই যে গোড়া থেকে নন্দীগ্রামের উপর নজর রাখছেন, কর্মিসভায় তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’।

তৃণমূল নন্দীগ্রামে এ বার যে পবিত্রকে প্রার্থী করেছে, তিনি এককালে তৃণমূল করলেও ২০২০ সালে শুভেন্দু বিজেপিতে যাওয়ার কিছু দিন আগে পদ্মশিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। ছিলেন বিজেপির ব্লক সভাপতিও। তাঁর স্ত্রী বিজেপির টিকিটে জেতা পঞ্চায়েত প্রধান। যে এলাকায় শুভেন্দু গত ভোটে সব চেয়ে বেশি ‘লি়ড’ পেয়েছিলেন, পবিত্র সেই বয়াল এলাকারই নেতা। শুভেন্দুর ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেও পরিচিত ছিলেন নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে। শুধু রাজনীতি নয়। হিন্দুত্ববাদী একাধিক সংগঠনেও নেতৃত্ব দিয়েছেন পবিত্র। গত ১৭ মার্চ সকালে অভিষেকের হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা নেন পবিত্র। বিকালেই তাঁর নাম নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসাবে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষিত হয় কালীঘাট থেকে।

নন্দীগ্রামের তৃণমূলে অবিশ্বাসের বাতাবরণ যে প্রকট, তা জানেন দলের প্রথম সারির নেতারা। হলদি নদীর তীরে শাসকদলের অন্দরে একটি লব্জ চালু রয়েছে— ‘সকালে তৃণমূল, রাতে শুভেন্দু’। তৃণমূলের কোন কোন নেতার সঙ্গে শুভেন্দুর যোগাযোগ রয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে দলের ভিতরে। আবার পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের সৌজন্যে বিজেপির একটি অংশের মধ্যেও সেই বাতাবরণ তৈরি করার কাজে তৃণমূল যে এগোচ্ছিল, তা-ও গত জানুয়ারি মাসেই স্পষ্ট ছিল। যার ফলস্বরূপ পবিত্র যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তাঁকে প্রার্থীও করেছে তৃণমূল। শুভেন্দুয় নন্দীগ্রামের ভোটার হলেও তিনি সেখানে থাকেন না। সূত্রের খবর, সেই প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক সভায় বলেছেন, এ বার ঘরের ছেলেকে মাঠে নামানো হয়েছে। এই মাটিকে ‘পবিত্র’ করতে হবে।

ভয় না-পেয়ে আগামী ২৫ দিন কাজ করার বার্তা দিয়েছেন অভিষেক। সূত্রের খবর, অভিষেক বলেছেন, যদি সিবিআই নোটিস পাঠায়, তা হলে তার আইনত মোকাবিলার দায়িত্ব তিনি নেবেন। এই প্রসঙ্গেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া সুনালি বিবিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন অভিষেক। কর্মিসভায় উপস্থিত ব্লক স্তরের এক নেতার কথায়, ‘‘অভিষেক বলেছেন, আগামী ২৫ দিন দলকে দিতে। তার পরে বাকি পাঁচ বছর তিনি নন্দীগ্রামের জন্য যা যা করার করবেন।’’ বিজেপি হুমকি দিলে ভয় না-পেয়ে প্রতিরোধ গড়ার বার্তাও দিয়েছেন অভিষেক। হুঙ্কারের সুরে এ-ও বলেছেন, যারা বেশি লাফালাফি করবে, তাদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে হবে যে, ৪ মে ফলঘোষণার পরে রবীন্দ্র সঙ্গীতের সঙ্গে ডিজে-ও বাজবে।

Abhishek Banerjee Nandigram Election Campaigns West Bengal Politics
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy