গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১,৯৫৬ ভোটে হারতে হয়েছিল তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই ফলাফলের দলীয় পর্যালোচনায় উঠে এসেছিল নন্দীগ্রামের তৃণমূলের অন্দরে কোন্দলের প্রসঙ্গ। মিলেছিল অন্তর্ঘাতের ইঙ্গিতও। বুধবার নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের সমর্থনে কর্মিসভায় বলতে গিয়ে পাঁচ বছর আগের সেই অন্তর্ঘাতের প্রসঙ্গ তুলে দলের স্থানীয় নেতাদের সতর্ক করে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
পশ্চিম মেদিনীপুরে দু’টি জনসভা করে বুধবার বিকালে অভিষেক যান নন্দীগ্রামে। সেখানেই কর্মীদের নিয়ে অভ্যন্তরীণ বৈঠক করেন তৃণমূলের সেনাপতি। কর্মিসভায় ভিড় হয়েছিল চোখে পড়ার মতো। সূত্রের খবর, কর্মীদের নিয়ে সেই বৈঠকেই অভিষেক বলেছেন, তাঁকে অনেকে জানিয়েছেন, গত বার দলের লোকরাই তৃণমূলের প্রার্থীকে (মমতাকে) হারিয়ে দিয়েছিল। এ বার তিনি নিজেই যে গোড়া থেকে নন্দীগ্রামের উপর নজর রাখছেন, কর্মিসভায় তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’।
তৃণমূল নন্দীগ্রামে এ বার যে পবিত্রকে প্রার্থী করেছে, তিনি এককালে তৃণমূল করলেও ২০২০ সালে শুভেন্দু বিজেপিতে যাওয়ার কিছু দিন আগে পদ্মশিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। ছিলেন বিজেপির ব্লক সভাপতিও। তাঁর স্ত্রী বিজেপির টিকিটে জেতা পঞ্চায়েত প্রধান। যে এলাকায় শুভেন্দু গত ভোটে সব চেয়ে বেশি ‘লিড’ পেয়েছিলেন, পবিত্র সেই বয়াল এলাকারই নেতা। শুভেন্দুর ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেও পরিচিত ছিলেন নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে। শুধু রাজনীতি নয়। হিন্দুত্ববাদী একাধিক সংগঠনেও নেতৃত্ব দিয়েছেন পবিত্র। গত ১৭ মার্চ সকালে অভিষেকের হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা নেন পবিত্র। বিকালেই তাঁর নাম নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসাবে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষিত হয় কালীঘাট থেকে।
নন্দীগ্রামের তৃণমূলে অবিশ্বাসের বাতাবরণ যে প্রকট, তা জানেন দলের প্রথম সারির নেতারা। হলদি নদীর তীরে শাসকদলের অন্দরে একটি লব্জ চালু রয়েছে— ‘সকালে তৃণমূল, রাতে শুভেন্দু’। তৃণমূলের কোন কোন নেতার সঙ্গে শুভেন্দুর যোগাযোগ রয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে দলের ভিতরে। আবার পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের সৌজন্যে বিজেপির একটি অংশের মধ্যেও সেই বাতাবরণ তৈরি করার কাজে তৃণমূল যে এগোচ্ছিল, তা-ও গত জানুয়ারি মাসেই স্পষ্ট ছিল। যার ফলস্বরূপ পবিত্র যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তাঁকে প্রার্থীও করেছে তৃণমূল। শুভেন্দু নন্দীগ্রামের ভোটার হলেও তিনি সেখানে থাকেন না। সূত্রের খবর, সেই প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক সভায় বলেছেন, এ বার ঘরের ছেলেকে মাঠে নামানো হয়েছে। এই মাটিকে ‘পবিত্র’ করতে হবে।
আরও পড়ুন:
ভয় না-পেয়ে আগামী ২৫ দিন কাজ করার বার্তা দিয়েছেন অভিষেক। সূত্রের খবর, অভিষেক বলেছেন, যদি সিবিআই নোটিস পাঠায়, তা হলে তার আইনত মোকাবিলার দায়িত্ব তিনি নেবেন। এই প্রসঙ্গেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া সুনালি বিবিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন অভিষেক। কর্মিসভায় উপস্থিত ব্লক স্তরের এক নেতার কথায়, ‘‘অভিষেক বলেছেন, আগামী ২৫ দিন দলকে দিতে। তার পরে বাকি পাঁচ বছর তিনি নন্দীগ্রামের জন্য যা যা করার করবেন।’’ বিজেপি হুমকি দিলে ভয় না-পেয়ে প্রতিরোধ গড়ার বার্তাও দিয়েছেন অভিষেক। হুঙ্কারের সুরে এ-ও বলেছেন, যারা বেশি লাফালাফি করবে, তাদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে হবে যে, ৪ মে ফলঘোষণার পরে রবীন্দ্র সঙ্গীতের সঙ্গে ডিজে-ও বাজবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত