ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে ভিন্রাজ্যের পুলিশ আধিকারিকদের এনে তৃণমূলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু করেছে বিজেপি। আর সেই পুলিশ আধিকারিকেরা নিজের দায়িত্ব ভুলে রাজনৈতিক দলের নেতাদের মতো আচরণ করছেন। গত ৪৮ ঘণ্টায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা ‘বনাম’ ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের ‘কাণ্ড’ দেখে এমনই মন্তব্য করলেন কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী। বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী জানান, ভিন্রাজ্যের পুলিশ আধিকারিকেরা গিয়ে ধমকাবেন, চমকাবেন, এটা সাধারণ মানুষ কিছুতেই মেনে নেবেন না।
রাজ্যে দ্বিতীয় তথা শেষ দফায় ১৪২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে বুধবার। তার দু’দিন আগে থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তি দেখা গিয়েছে নানা জেলায়। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক বনাম শাসকদলের প্রার্থী জাহাঙ্গিরের ‘ঠান্ডা যুদ্ধ’ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের ২০১১ ব্যাচের ওই আইপিএস দায়িত্ব নিয়েই সোমবার চলে গিয়েছিলেন ফলতায়। সেখানে তৃণমূল প্রার্থীর খোঁজ নিতে গিয়ে তাঁর পরিচিতদের ‘সাবধান’ করে আসা থেকে এলাকায় ‘ঝামেলাবাজ’দের তালিকা নিয়ে টহল দেওয়া— সব কিছুতেই তাঁর ‘অতি সক্রিয়তা’ নিয়ে সরব শাসকদল। মঙ্গলবারও রুটমার্চ করতে করতে ফলতা ঘুরে গিয়েছেন তিনি। যাওয়ার সময় তাঁর কনভয় ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল প্রার্থী এবং তাঁর সঙ্গীরা।
আরও পড়ুন:
অধীরের মতে, পুলিশের এই ‘অতি সক্রিয়তা’ এবং ‘রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব’ ভোটাররা কোনও ভাবেই মানবেন না। প্রথম দফার ভোট আপাত শান্তিপূর্ণ হওয়ায় কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন অধীর। তবে মঙ্গলবার, দ্বিতীয় দফা ভোটের আগের দিন তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ অবজার্ভার এমন ব্যবহার করছেন, মনে হচ্ছে তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা। এগুলো আমরা এ রাজ্যের পুলিশকে নিয়ে দেখতে অভ্যস্ত।’’ তৃণমূল এবং বিজেপিকে নিশানা করে কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘‘এ রাজ্যে পুলিশ তো তৃণমূল পার্টিটাই করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে বাঁচিয়ে রেখেছে আইপ্যাক আর পুলিশ। এখন বিজেপিও তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। অন্য রাজ্যে তাদের আজ্ঞাবহ পুলিশ অফিসারদের বাংলায় এনেছে। কিন্তু অন্য রাজ্যের পুলিশ এসে ধমকানি-চমকানি করবেন, এটা বাংলার মানুষের কাছে গ্রহণীয় হবে না।’’