দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে প্রার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে চর্চায় এক আইপিএস অফিসার— অজয়পাল শর্মা। উত্তরপ্রদেশের ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’-কে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক করেছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়িতে গিয়ে তাঁর হুমকি, হুঁশিয়ারির ভিডিয়ো ভাইরাল। তার মাঝেই আইপিএস অফিসারকে খোঁচা দিয়ে সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো পোস্ট করলেন মহুয়া মৈত্র। কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদের খোঁচা, ‘‘আশা করি, আপনার পুলিশি দক্ষতা আপনার নাচের দক্ষতার চেয়ে ভাল...।’’
ওই ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, চটুল হিন্দি গানে নাচছেন স্বল্পবসনা নর্তকীরা। কয়েক জন যুবকের মনোরঞ্জন করছেন তাঁরা (ভিডিয়োর সত্যাসত্য বিচার করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। নর্তকীদের সঙ্গে দৃশ্যমান যুবকটি আদিত্যনাথের রাজ্যের ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ বলে দাবি করেছেন মহুয়া। এক্স হ্যান্ডলে আইপিএস অফিসারকে উদ্ধৃত (মেনশন) করে তিনি লিখেছেন, ‘‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি বাবুয়া— ফ্যান্টাকপ স্টাইলে তোমাকে আনন্দ করতে দেখে ভাল লাগছে। থাকো ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল, বাংলা সর্বক্ষণ তৃণমূল।’’
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিয়োর একটি দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত।
২৯ এপ্রিল, বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট। তার দু’দিন আগে সোমবার ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গিরের বাড়িতে হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ। নেতৃত্বে ছিলেন অজয়। তার পরেই পুলিশ পর্যবেক্ষকের এক্তিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। অজয়ের যে ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে (যদিও ওই ভিডিয়োটিরও সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম), সেখানে উপস্থিত মানুষদের উদ্দেশে তাঁকে হুঁশিয়ারি দিতে শোনা যায়। তৃণমূলের দাবি, ভিডিয়োটি ফলতার তৃণমূল প্রার্থীর বাড়ির কাছেই। সেখানে তৃণমূল প্রার্থীর পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশেও বার্তা দিতে দেখা গিয়েছে। অন্য দিকে, জাহাঙ্গির বলেছেন, উত্তরপ্রদেশের পুলিশ আধিকারিক ‘সিংহম’ হলে তাঁরাও এক এক জন ‘পুষ্পা’। নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণে কেউ মাথা নত করবেন না।
উল্লেখ্য, সুষ্ঠু ভোট করাতে নতুন করে যে ১১ জন পুলিশ পর্যবেক্ষকের তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন, তাতে প্রথম নাম ছিল অজয়ের। ২০১১ সালের উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের এই আইপিএস লুধিয়ানার ভূমিপুত্র। পটিয়ালার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে তিনি ডেন্টাল সার্জারি বা বিডিএস পাশ করেন। তবে ডাক্তারিকে পেশা না করে বেছে নেন পুলিশের উর্দি। বর্তমানে প্রয়াগরাজের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি।
এখন তৃণমূলের দাবি, কমিশন কি মনে করছে যে, ভোটে এমন কিছু ঘটবে যার জন্য ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’-কে আনতে হবে? না কি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ? ফলতায় অজয়ের ভূমিকা দেখে সমাজমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল। তাদের দাবি, ওই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ রয়েছে। তার পাল্টা বিজেপির অমিত মালবীয় এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘‘বার্তা পরিষ্কার: বহাল থাকবে আইনের শাসন, চলবে না হুমকি, অভিষেক-ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে তাই সময় নষ্ট নয়।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত