রাজ্যের নানা প্রান্তে বিরোধী দলের প্রার্থী ও কর্মীদের উপরে হামলার অভিযোগ উঠেছে মঙ্গলবার। কোথাও আক্রান্ত বিজেপি, কোথাও কংগ্রেস। উত্তর থেকে দক্ষিণ, প্রতিটি ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত তৃণমূল অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিজেপি প্রার্থীকে প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট ১ ব্লকের পিঁফায়। বসিরহাট দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী শৌর্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তৃণমূলের লোক জন হামলা চালায়, মারধর করে। প্রতিবাদে মালঞ্চ-বসিরহাট রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখান শৌর্য। পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপে ঘণ্টাখানেক পরে বিক্ষোভ ওঠে।ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীসুরজিৎ মিত্রের দাবি, সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছেন বিজেপি প্রার্থী। সাধারণ মানুষ তাই বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত বায়েনের প্রচারে দুই মত্ত যুবক হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েক জন বিজেপি কর্মী জখম হন। পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় এ দিন দুপুরে কংগ্রেস প্রার্থী জাকির আবেদিনের প্রচারে গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ইট-পাটকেল ছোড়ায় গাড়ির ক্ষতি হয় বলে দাবি। অভিযোগ মানেনি তৃণমূল। কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী খোকন মিয়াঁ আবার তৃণমূল প্রার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। খোকন বলেন, ‘‘বিরোধীদের প্রচারে বাধা দিতেই বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে।’’ তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সম্পাদক রাকেশ চৌধুরী বলেন, ‘‘বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভে মানুষ ফুঁসছে। সেখানে খোকনের উপরে ক্ষোভ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।’’
মালদহে হরিশ্চন্দ্রপুরের মালিওর-২ অঞ্চল কংগ্রেস সভাপতির বাড়িতে চড়াও হয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। জখম নেতা আব্দুল বারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন। ফালাকাটায় বিজেপি প্রার্থীর উপরে হামলার প্রতিবাদে অবরোধ হয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রোড-শো শেষে সোমবার রাতে দুর্গাপুরের বাঁকুড়া মোড়ে বিজেপি-তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে অশান্তি বাধে। দু’টি বাড়ি ও তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চলে। দু’দলের এক জন করে কর্মী জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।পুলিশ জানিয়েছে, উভয়পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)