E-Paper

বাগানে ফুটে উঠুক রূপকথার জগৎ

ক্ষুদ্রাকৃতি বাগান, যেখানে ছোট গাছপালার পাশাপাশি থাকে ছোট আকারের ঘর-বাড়ি-দুর্গ

ঐশী চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ০৭:১২

আঁকাবাঁকা পাথুরে পথের ধারে ছোট একটা গাছ। তার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে একটি নদী। নদীর ও পারে রয়েছে একটি ছোট্ট, সুন্দর দুর্গ। আর দুর্গের পিছন থেকে উঁকি দিচ্ছে একটি পরি!

না, এ কোনও রূপকথার গল্পের দৃশ্যের বিবরণ নয়। এ দৃশ্য রূপকথার গল্পের জগতের আদলে তৈরি ‘ফেয়ারি গার্ডেন’-এর। এটি এমন এক ক্ষুদ্রাকৃতি বাগান যেখানে ছোট গাছপালার পাশাপাশি থাকে ছোট আকারের ঘর-বাড়ি-দুর্গ। থাকে নদী, ঝর্না ও এমন নানা জিনিস, যা দেখেই মনে হয়, এই সেই স্বপ্নের দেশ যেখানে বাস রূপকথার চরিত্রদের!

বিশ্ব জুড়ে ভীষণই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ফেয়ারি গার্ডেনের বিষয়টি। নানা সূত্র বলে, ১৯২০ সাল নাগাদ ইউরোপীয় দেশগুলিতে জনপ্রিয় হতে শুরু করে এই ধরনের বাগানচর্চা। উদ্ভিদপ্রেমীরা সে সময়ে গাছের পরিচর্যার পাশাপাশি শখের বাগানটিকেও নিজের মতো করে সাজিয়ে তোলার চেষ্টায় নানা জিনিসের ব্যবহার করতে থাকেন। কখনও তা হয় ছোট কোনও গাছ, কখনও আবার তা হয় খেলনা বাড়ি, ফোয়ারা, ঝর্না, পাথর। এগুলি সাজিয়ে ফেলা হয় এমন ভাবে যেন তার মাধ্যমেইকোনও প্রচলিত রূপকথার গল্প ফুটিয়ে তোলা যায়।

বর্তমানে সমাজমাধ্যমেরপোস্ট-রিল-স্টোরির জেরে যেন বাগানপ্রেমীদের মধ্যে ফেয়ারি গার্ডেন নিয়ে নতুন করে আগ্রহের সঞ্চার হয়েছে। ‘অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’, ‘সিনড্রেলা’, ‘স্নোহোয়াইট’, ‘লিটল রেড রাইডিংহুড’ বা ‘টিঙ্কারবেল’-এর মতো রূপকথার গল্পের কোনও দৃশ্য ফুটিয়ে তোলার জন্য নানা ভাবে বাগানকে সাজিয়ে তুলছেন বাগানপ্রেমীরা। জাপানি লোককথায় প্রচলিত ‘জ়েন’ বাগানও বেশ নজরকাড়া।

যে গাছ মানায়

  • সাধারণত এই ধরনের বাগান করতে বেশি জায়গা লাগে না। মাঝারি আকৃতির টবের মধ্যে মনের মতো গাছ লাগিয়ে নেওয়া যায়।
  • খুব বড় গাছের পরিবর্তে ছোট ছোট গাছ লাগানোই শ্রেয় এই ধরনের বাগানের ক্ষেত্রে। আদর্শ হল সাকুলেন্টস। এগুলির পরিচর্যায় জল কম লাগে এবং এগুলি খুব দ্রুত বেড়েও ওঠে না। জ়েড প্লান্টস, একেভেরিয়া বা লতানে সেডাম, টেবিল কামিনী জাতীয় গাছ এমন ছোট বাগানের জন্য বেশ মানানসই।
  • এ ছাড়াও ব্যবহার করা যায় মনের মতো বনসাই। বট, চিনা এলমের মতো বনসাই ভীষণই আকর্ষক করে তোলে এই বাগানকে। তবে বনসাই রাখলে তা যাতে পর্যাপ্ত রোদ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। না হলে গাছের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
  • ফেয়ারি গার্ডেনটিকে আরও গাছ দিয়ে যদি কেউ সাজাতে চান তা হলে বেবিজ় টিয়ার্স কিংবা খুব ছোট বাহারি পাতার গাছও মূল গাছটির আশপাশে রাখা যায়। গাছের ফাঁকে বসিয়ে দেওয়া যায়কিছু শ্যাওলা জাতীয় গাছ। এতে বাগানটি আরও আকর্ষক দেখায়। সবুজের ছোঁয়াও থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে।

শুধু কি গাছ?

পরিদের বসবাসের উপযুক্ত জায়গা বললেই যেমন ছবি ফুটে ওঠে মনের কোণে, ফেয়ারি গার্ডেনকেও ঠিক সে ভাবেই সাজিয়ে ফেলা যায়। ফলে সাকুলেন্টস হোক বা হোক পছন্দের বনসাই, গাছটির চারপাশ সাজিয়ে তোলাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফেয়ারি গার্ডেনকে আরও আকর্ষক করে তুলতে মাঝারি মাপের টবে গাছটির আশপাশে ছোট কোনও দুর্গের মতো দেখতে খেলনাবাড়ি রাখা যায়। তার চারপাশে ছোট আকৃতির কাঠের বেড়া দিলে সুন্দর দেখাবে। বাড়িটির চারপাশে কৃত্রিম পুকুর, রঙিন পাথর কিংবা ছোট রাস্তাও অল্প অল্প করে সাজিয়ে ফেলা যায়। বালি, নুড়িপাথর এমন ভাবে সাজানো যায়, যাতে তার বিন্যাস নদীপথের মতো হয়। আর লাগবে ছোট্ট পুতুল। পরির মতো বা কোনও নভেল-নির্ভর ফিগারাইন বেছে নেওয়া যায়।

এ সকল সামগ্রী যে সব সময়ে কিনেই করতে হবে, এমনও নয়। বাড়ির খুদেটির সঙ্গে বসে ‘ডিআইওয়াই ক্রাফ্টের’ অংশ হিসেবে আইসক্রিম স্টিক দিয়ে বেড়া বানানো যায়। যে পাথরগুলি টবে থাকা গাছটির চারপাশে ছড়ানোর কথা, সেগুলিকেও রং করে নেওয়া যায় পছন্দমতো নকশায়। বাড়ির কোনও কোণে পড়ে থাকা ভাঙা কাপ বা কাচ-সেরামিকের বাটিও কাজে লাগতে পারে এমন বাগান সাজানোয়।

মনে রাখা জরুরি, এই বাগানের সাজ একান্তই নিজের ইচ্ছা এবং রুচির উপরে নির্ভর করে। কিছুটা রূপকথার গল্পের থেকে আন্দাজ নিয়ে তাই সহজেই সাজিয়ে ফেলা যায় এই বাগান। এই ধরনের বাগানচর্চায় প্রাত্যহিক জীবনের ক্লান্তিও কিছুটা কেটে যায়। কারণ, ফ্ল্যাট বাড়ির বারান্দা থেকে বাগান বাড়ির কোনওবড় অংশ, সর্বত্রইএমন বাগান বানানো সম্ভব।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Home Decor

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy