পাঁচ বছর আগে লড়েছিলেন নন্দীগ্রামে। সেটাই ছিল নির্বাচনী ময়দানে তাঁর প্রথম লড়াই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর দ্বৈরথের মাঝে পড়তে হয়েছিল প্রথম বারেই। জামানত জব্দ হয়েছিল সেই বার। বামেদের তরুণ প্রজন্মের ‘ক্যাপ্টেন’ মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এ বার লড়ছেন উত্তরপাড়ায়। নন্দীগ্রাম এবং উত্তরপাড়ার লড়াইয়ের মাঝে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি চার গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও।
শনিবারই শ্রীরামপুর মহকুমাশাসকের দফতরে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মিনাক্ষী। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, মিনাক্ষীর নিজের নামে কোনও জমিজমা নেই। নেই বাড়িও। দামি গয়নাও নেই। তবে একটি স্কুটার রয়েছে তাঁর নিজের। সেটিও ১২ বছরের পুরনো। উত্তরপাড়ার বাম প্রার্থীর সম্পত্তির হিসাবনিকাশ থেকে শুরু করে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা-সহ এমন বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে তাঁর জমা দেওয়া হলফনামায়।
উত্তরপাড়ার সিপিএম প্রার্থী মিনাক্ষী দলের সর্ব ক্ষণের কর্মী। দলের থেকে মাসিক ভাতা পান তিনি। হলফনামা অনুযায়ী, সেটিই তাঁর আয়ের একমাত্র উৎস। সমাজকর্মী বলেই নিজের পেশাগত পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তবে সর্ব ক্ষণের কর্মী হিসাবে এখন তিনি দলের থেকে মাসিক ভাতা কত পান, তা উল্লেখ নেই। ২০২১ সালের হলফনামায় মিনাক্ষী জানিয়েছিলেন, সর্ব ক্ষণের কর্মী হিসাবে দল থেকে মাসে ৫০০০ টাকা করে পান তিনি।
মিনাক্ষীর সম্পত্তি
২০২১ সালের নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, মিনাক্ষীর মোট ১,৩২,১৯৮.৭২ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি ছিল। পাঁচ বছর পেরিয়ে ২০২৬ সালের হলফনামা বলছে, তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ চার গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ৪ এপ্রিলের হিসাব অনুযায়ী, মিনাক্ষীর মোট ৫,৭৮,৪৫৬ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে তাঁর হাতে নগদ ২,০০০ টাকা রয়েছে। চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে তাঁর। তিনটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং একটি পিপিএফ অ্যাকাউন্ট। সেভিংস অ্যাকাউন্টগুলিতে রয়েছে যথাক্রমে ১৫,০০০ টাকা, ৮,৮৪৬ টাকা এবং ১,৭৩,৮৯৫ টাকা। পিপিএফ অ্যাকাউন্টটিতে রয়েছে ৬০,৯৪০ টাকা।
পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামের লড়াইয়ের সময়ে মিনাক্ষীর নামে দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল। এখন তাঁর নামে রয়েছে চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। ২০২১ সালের ভোটের সময়ে মিউচুয়াল ফান্ডে কোনও বিনিয়োগ ছিল না মিনাক্ষীর। এখন হয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ রয়েছে। যাঁর বর্তমান মূল্য ৯৬,৮৯৫ টাকা। এলআইসি-তে দু’লক্ষ টাকার একটি বিমা রয়েছে তাঁর। সেটির জন্য ষান্মাসিক প্রিমিয়াম দেন ৪,৮৪৭ টাকা।
২০২১ সালের হলফনামায় ৪৩৫ বর্গফুটের বাড়ির কথা উল্লেখ করেছিলেন মিনাক্ষী। জানিয়েছিলেন, সেটি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন তিনি। তবে ২০২৬ সালের হলফনামায় সে বিষয়ে কোনও উল্লেখ নেই। নতুন হলফনামা অনুযায়ী, মিনাক্ষীর নিজের নামে কোনও জমিজমা, বাড়ি নেই। বাজারে তাঁর কোনও দেনাও নেই। তবে একটি স্কুটার রয়েছে বাম নেত্রীর। সেটি ২০১৪ সালে কেনা। হলফনামায় মিনাক্ষী জানিয়েছেন, এখন সেটির দাম ২০,৮৮০ টাকা।
কত মামলায় অভিযুক্ত
নন্দীগ্রামের ভোটে লড়াইয়ের আগে মিনাক্ষীর বিরুদ্ধে মাত্র দু’টি এফআইআর ছিল। গত পাঁচ বছরে সেই এফআইআর-এর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৯। কলকাতা, বিধাননগর-সহ রাজ্যের বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এই এফআইআরগুলি রয়েছে। এ বছরেও মালদহের ইংরেজবাজার থানায় এবং কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু হয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, সম্পত্তি নষ্ট, বেআইনি জমায়েত, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া, মারপিট-সহ অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বেআইনি ভাবে জড়ো হয়ে খুনের চেষ্টার মতো অভিযোগও রয়েছে। যদিও এই ১৯টি মামলার মধ্যে কোনওটিতেই এখনও চার্জগঠন হয়নি।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
২০০৭ সালে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করেন মিনাক্ষী। এর পরে বিএড-ও করেন। ২০১০ সালে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বিএড পাশ করেন তিনি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
২০:২৯
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল টিএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার? -
১৯:১৭
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা -
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত