E-Paper

কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য আনা হচ্ছে ৭৫ হাজার লাঠি

কমিশন সূত্রের খবর, এই সিদ্ধান্তের পরে প্রায় ৭৫ হাজার লাঠির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সিআরপিএফ-এর কাছে এমনিতেই লাঠি থাকে।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২২
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

কাঁধে স্বয়ংক্রিয় আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র থাকলেও, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মূল ভরসা হাতের লাঠিতেই। তাই আগামী বিধানসভা ভোটের আগে হাজার হাজার লাঠির চাহিদা তৈরি হয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, ঠিক পাঁচ বছর আগে কোচবিহারের শীতলখুচিতে গুলি চালনার ঘটনার পরে ভোট নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠিতেই বাড়তি ভরসা করতে হচ্ছে। বাহিনীকে উস্কানিমূলক পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকতেও বলা হয়েছে।

দু’টি পদ্ধতিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করতে চাইছে কমিশন। এক, কেন্দ্রীয় বাহিনীর যে শাখাগুলি গোলমাল-অশান্তি ঠেকাতে পটু, তারা সামলাবে মূল দায়িত্ব। দুই, বিএসএফ, এসএসবি-র মতো সীমান্ত সুরক্ষার জন্য যে বাহিনীগুলি বিশেষজ্ঞ, তাদের হাতে লাঠি দেওয়া হবে এবং তা চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কারণ, এই বাহিনীর জওয়ানেরা লাঠি চালাতে তুলনায় ততটা পটু নন। বাদবাকি সব পদক্ষেপই থাকবে আইনের বাঁধনে মোড়া এবং ক্যামেরার নজরবন্দি।

কমিশন সূত্রের খবর, এই সিদ্ধান্তের পরে প্রায় ৭৫ হাজার লাঠির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সিআরপিএফ-এর কাছে এমনিতেই লাঠি থাকে। ফলে তাদের জন্য আলাদা করে লাঠি আনানোর প্রয়োজন নেই। বিএসএফ, এসএসবি-র মতো বাহিনীর জওয়ানদের জন্যই মূলত অত সংখ্যক লাঠি আনানো হচ্ছে। অর্থাৎ, ঘাড়ে বন্দুক থাকলেও, হাতে লাঠিই মূল হাতিয়ার জওয়ানদের। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে উত্তরবঙ্গের শীতলখুচিতে গুলি চালনার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল কয়েক জনের। তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ছড়ায় রাজনৈতিক মহলে। পরিস্থিতি খুবই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল সেই ভোটে। শাসক দল তৃণমূলের অভিযোগ ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পাল্টা উস্কানি-প্ররোচনার অভিযোগ ছিল বাহিনীর তরফেও।

উস্কানি-প্ররোচনা ঠেকাতে আরও কিছু পরিকল্পনা হচ্ছে বলে খবর। যেমন, আগের থেকে এ বার কুইক রেসপন্স টিমের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সব বুথের কাছে থাকবে কিউআরটি-র নম্বর। কোনও কিছু ঘটলে সর্বাধিক ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছবে কিউআরটি। এ ছাড়াও থাকবে আরও নানা ধরনের দল। এই ধরনের প্রতিটি গাড়িতে থাকবে সব দিক দেখার মতো ক্যামেরা। তা নিয়ন্ত্রণ এবং সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকবে কমিশনের কন্ট্রোলরুমে নির্দিষ্ট মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের হাতে। সেই কন্ট্রোলরুমে ২০০ জন করে মাইক্রো অবজ়ার্ভার দিন-রাত নজরদারি চালাবেন অন্তত সাড়ে সাতশো ক্যামেরার ‘লাইভ ফিডের’ উপর। জওয়ানদের দেহ-ক্যামেরার পরিকল্পনাও করা হয়েছে এই পর্বে। কোন পরিস্থিতিতে কী পদক্ষেপ করতে হয়েছে, তার রেকর্ড থাকবে।

অভিজ্ঞ কর্তাদের অনেকের মতে, এ বার রেকর্ড সংখ্যক, প্রায় ২৪০০ কোম্পানি করে বাহিনী মোতায়েন হবে এক একটি দফায়। প্রয়োজনে সেই সংখ্যা বাড়বে আরও। পাশাপাশি, অন্যান্য রাজ্য থেকে আনা হচ্ছে সশস্ত্র পুলিশও। ইতিমধ্যেই এই বাহিনী মোতায়েন করা নিয়ে রাজনৈতিক ভাবে সুর চড়াতে শুরু করেছে শাসক দল। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রায় নিয়মিত এ ব্যাপারে নানা মন্তব্য করছেন। ফলে বাহিনীর প্রতিটি পদক্ষেপ সব মহলের নজরে থাকবে। সেই কারণে ‘মেপে’ পা ফেলার কৌশল।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

central force

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy