তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার বিদায়ী বিধায়ক কাজি আব্দুর রহিম (দিলু)। রবিবারই সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে তৃণমূল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন আব্দুর। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লিতে গিয়ে যোগ দিলেন কংগ্রেসে। সোমবার পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গোলাম আহমেদ মীরের উপস্থিতিতে কংগ্রেসে ফেরেন তিনি।
এ বারের বিধানসভা ভোটে ৭৪ জন বিদায়ী বিধায়ককে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। সেই তালিকায় রয়েছেন বাদুড়িয়ার বিদায়ী বিধায়ক আব্দুরও। ঘটনাচক্রে, রবিবারই কংগ্রেস রাজ্যের বিধানসভা ভোটের প্রথম প্রার্থিতালিকা প্রকাশ করেছে। প্রথম তালিকায় ২৮৪ আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এখনও বাকি রয়েছে ১০টি আসন, তার মধ্যে অন্যতম বাদুড়িয়া। এই আসনে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রার্থী ঘোষণা করেনি কংগ্রেস। সূত্রের খবর, বাদুড়িয়া থেকে কংগ্রেসের টিকিটে প্রার্থী হতে পারেন আব্দুর।
আব্দুরের জায়গায় এ বার বাদুড়িয়া থেকে তৃণমূল প্রার্থী করেছে বসিরহাট তৃণমূল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বুরহানউল মুকাদ্দিন (লিটন)-কে। সূত্রের খবর, টিকিট না পাওয়ার পর তৃণমূলের সঙ্গে প্রায় দূরত্ব তৈরি করে নিয়েছিলেন আব্দুল। দল ছাড়ার কথা রবিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণাও করে দেন বিদায়ী বিধায়ক।
আরও পড়ুন:
ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করে তৃণমূল ছাড়ার কারণও উল্লেখ করেন বাদুড়িয়ার বিদায়ী বিধায়ক। তিনি লেখেন, ‘বারবার অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ না হওয়ায় আমি মানসিক ভাবে অত্যন্ত ব্যথিত। আমি কখনও আপসের রাজনীতি করিনি, আর ভবিষ্যতেও করব না।’ তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির কাছে পাঠানো ইস্তফাপত্রও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন তিনি। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লিতে গিয়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন তিনি।
২০১৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটেই বাদুড়িয়ার বিধায়ক হয়েছিলেন আব্দুর। তাঁর বাবা কাজি আব্দুল গফ্ফরও ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রাজনীতিতে এক অন্যতম বড় নাম। দীর্ঘ দিন বাদুড়িয়ায় কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন তিনিও। পরবর্তী সময়ে তাঁর পুত্র আব্দুর কংগ্রেসের বিধায়ক হন। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যান আব্দুর। তৃণমূলের টিকিটে লড়ে ২০২১ সালে ফের বাদুড়িয়ার বিধায়ক হন তিনি। তবে এ বারে আর টিকিট পাননি। সোমবার কংগ্রেসে এই যোগদানকে ‘ঘরে ফেরা’ বলেই ব্যাখ্যা করছেন আব্দুর।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত