রাস্তাঘাটে পড়ে থাকা জঞ্জাল আর দু’ফোঁটা বৃষ্টি হলেই নালা উপচে রাস্তা ভেসে যাওয়া— বালির নানা জায়গায় এটাই চেনা ছবি। জমা জঞ্জাল, নিকাশি সমস্যা নিয়ে বারবার প্রতিবাদ করেছেন বালির বাসিন্দারা। এমনকি, ক্ষোভের মুখে পড়েছেন বিধায়কও। তৃণমূলের সেই বিধায়ক এ বার শিবপুরের প্রার্থী। আর বালির তৃণমূল প্রার্থী হয়ে প্রচারের আগে বাসিন্দাদের সমস্যার সমাধানে নামলেন কৈলাস মিশ্র। তিনি জানান, আগে মানুষের দৈনন্দিন সঙ্কট কাটলে তবেই সুস্থ ভাবে তাঁদের কাছে ভোট চাইতে যাবেন। কৈলাসের কথায়, ‘‘আগে কাজ করব। তার পর ভোট চাইতে যাব।’’
দীর্ঘ দিন ধরে বালি পুরসভার ভোট হয়নি। পুর পরিষেবা নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। বিশেষ করে নিকাশি নালা এবং জমা জঞ্জাল নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়েরা। এর আগে ওই নিয়ে বালির বিধায়ক রানা চট্টোপাধ্যায় বিক্ষোভের মুখেও পড়েছিলেন। জলনিকাশি ব্যবস্থা ভাল করা এবং জঞ্জাল পরিষ্কারের দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন বাসিন্দারা। বিধানসভা ভোটে এটা যে বিরোধীদের কাছে ইস্যু হতে পারে, তা ভাল ভাবেই টের পেয়েছেন হাওড়া সদরের তৃণমূল যুব সভাপতি তথা বালির প্রার্থী কৈলাশ। মঙ্গলবার যখন হাওড়ার অন্যান্য কেন্দ্রে শাসক-বিরোধী দুই তরফ প্রচারে নেমেছে, তখন কৈলাশ যোগাযোগ করেন পুর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। বালিকে জঞ্জাল মুক্ত করতে এবং নিকাশি ব্যবস্থার সমস্যার সমাধানে সকাল থেকে এলাকায় ঘুরে দেখেন তিনি। লিলুয়া এলাকায় গিয়ে বালি পুরসভার আধিকারিক এবং সেচ দফতরের কর্মীদের ফোনে কার্যত ধমক দিয়ে বলেন, ‘‘অবিলম্বে সমস্যার সমাধান করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ রয়েছে, বালির মানুষকে যেন দুর্ভোগ পোয়াতে না-হয়।’’
তার পর পুরসভা থেকে তড়িঘড়ি জঞ্জাল সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। তৃণমূল প্রার্থী আশ্বাস দিয়েছেন, এই সমস্যার একেবারে সমাধান করবেন তিনি।
সব দেখে এবং শুনে হাওড়া সদরের বিজেপি সম্পাদক ওমপ্রকাশ সিংহ বলেন, ‘‘রানাবাবু যদি আবার বালির প্রার্থী হতেন, ওঁর জামানত জব্দ হত। তাই উনি পালিয়ে বেঁচেছেন। এখন কৈলাসবাবু এসেছেন। উনি লিলুয়ার মানুষ। বালিতে কাজ করতে এসেছেন।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘একদিনের কাজ হলে এত দিন ওঁরা কোথায় ছিলেন? মানুষ সব বোঝেন। আর এ সব করে লাভ হবে না।’’
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, মধ্য হাওড়ার প্রার্থী অরূপ রায় সকাল থেকে জোরকদমে প্রচার শুরু করেছেন। নিজের হাতে দেওয়াল লিখেছেন। তাঁর বক্তব্য, এসআইআর ইস্যু হবে আমাদের প্রচারের মূল হাতিয়ার। ২০১১ সাল থেকে তিন বারের বিধায়ক প্রতিবারই রাজ্যের মন্ত্রী হয়েছেন। প্রচারে বেরিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘‘কাজ শেষ হয় না। কাজ করে যেতে হবে।’’