Advertisement

নবান্ন অভিযান

প্রচারে অধীরকে ঘিরে বিক্ষোভ, স্লোগান তৃণমূলের! ধাক্কাধাক্কি দুই দলের সমর্থকদের, শনিবার সকালে বহরমপুরে চাঞ্চল্য

শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ঢুকতেই তাঁকে তৃণমূলের বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। অধীর বলেন, ‘‘পরিকল্পিত ভাবে তৃণমূল প্রচারে বাধার সৃষ্টি করছে।’’ অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৩৬
প্রচারে বেরিয়ে বিক্ষোভের মুখে বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। নিজস্ব চিত্র।

প্রচারে বেরিয়ে বিক্ষোভের মুখে বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। নিজস্ব চিত্র।

কংগ্রেসের ভোটপ্রচার ঘিরে বহরমপুরে শনিবার সকালে উত্তেজনা ছড়াল। ওই কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারে বেরিয়েছিলেন। শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ঢুকতেই তাঁকে তৃণমূলের বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। অধীর বলেন, ‘‘পরিকল্পিত ভাবে তৃণমূল প্রচারে বাধার সৃষ্টি করছে।’’ যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর ভীষ্মদেব কর্মকার। তিনি বলেন, ‘‘উনি অতীত। বাইরের লোক এনে গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় মানুষ তার প্রতিবাদ করেছেন।’’

অভিযোগ, অধীর তাঁর কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ঢুকতেই স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের নেতৃত্বে প্রচারে বাধা দেওয়া হয়। অধীরকে ঘিরে ‘গো ব্যাক’ এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ওঠে। উত্তেজনার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ধাক্কাধাক্কি হয় দু’দলের সমর্থকদের মধ্যেও। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। শনিবার সকালের ঘটনার প্রতিবাদে কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা শনিবার নবগ্রামের পাঁচগ্রাম এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। তার জেরে দীর্ঘক্ষণ ওই রাস্তায় যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। ফলে সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। বেশ কিছু ক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকার পর পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বাইরে থেকে দুষ্কৃতীদের নিয়ে এসে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা করছেন অধীর। তৃণমূল কাউন্সিলর ভীষ্মদেব বলেন, ‘‘আমাদের মিছিল যাচ্ছিল, সেই সময় কংগ্রেসের কর্মীরা হামলার চেষ্টা করেন। অধীর চৌধুরী যদি ভাবেন বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে নিজের হারানো মাটি ফেরানোর চেষ্টা করবেন, সেটা ভুল। এলাকার লোকজনই ওঁকে চান না।’’ এই ঘটনায় কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছেন অধীর চৌধুরী।

Advertisement

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাতেও বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন অধীর। তাঁকে দেখে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দেন তৃণমূলের একদল নেতা-কর্মী। বহরমপুরের আব্দুস সামাদ রোডে ওই ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি নার্সিংহোমে জেলা কংগ্রেসের এক নেতা অসুস্থ হয়ে ভর্তি রয়েছেন। অধীর তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন। ফেরার সময় তাঁকে দেখে তৃণমূলের কর্মীরা ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দেন বলে অভিযোগ। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর আবুল কাউসার জানান, অধীর ওই ওয়ার্ডে এলেই ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দেবেন তাঁরা। জেলা কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন, “তৃণমূল ভোটে তিন নম্বর স্থান পাবে। তা বুঝেই ওঁরা এমন করছেন।”

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
Berhampore
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy