একাই লড়লেন কুপার কোনোলি। সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদের বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা করলেন তিনি। কিন্তু আর কাউকে সঙ্গে পেলেন না। একার কাঁধে তো আর সবসময় জেতানো যায় না। বিশেষ করে ২৩৬ রান তাড়া করতে হলে আরও কয়েক জনের অবদান প্রয়োজন। সেটাই হল না। ফলে শতরান করেও হারের বোঝা বইতে হল কোনোলিকে।
হঠাৎ করেই যেন জিততে ভুলে গিয়েছে পঞ্জাব কিংস। যে দল আইপিএলে নিজেদের প্রথম সাত ম্যাচে একটিও হারেনি, সেই দলই পর পর তিন ম্যাচ হারল। প্রথমে রাজস্থান রয়্যালস, তার পর গুজরাত টাইটান্স ও বুধবার সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদের কাছে হারলেন শ্রেয়স আয়ারেরা। হারের হ্যাটট্রিক হল তাঁদের। পঞ্জাবকে হারিয়ে আইপিএলের পয়েন্ট তালিকায় সকলের উপরে জায়গা করে নিল প্যাট কামিন্সের হায়দরাবাদ।
প্রথমে ব্যাট করে ২৩৫ রান করে হায়দরাবাদ। অর্ধশতরান করেন ঈশান কিশন ও হাইনরিখ ক্লাসেন। ঝোড়ো ইনিংস খেলেন ট্যাভিস হেড, অভিষেক শর্মা ও নীতীশ কুমার রেড্ডি। ২৩৬ রান তাড়া করতে নেমে ভেঙে পড়ে পঞ্জাবের ব্যাটিং। কুপার কোনোলি একাই লড়াই করেন। মার্কাস স্টোইনিস ও সূর্যাংশ শেরগে তাঁকে একটু সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাতে লাভের লাভ কিছু হয়নি। ৩৩ রানে হারে পঞ্জাব। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং— তিন বিভাগেই হায়দরাবাদ টেক্কা দিয়েছে তাদের।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ঝোড়ো ব্যাটিং শুরু করে ‘ট্যাভিষেক’ জুটি। নিজেদের পরিচিত ছন্দে ব্যাট করতে থাকেন হেড ও অভিষেক। পাওয়ার প্লে কাজে লাগিয়ে দ্রুত রান করতে থাকেন তাঁরা। দুই ব্যাটার মিলিয়ে ৩২ বল খেলেন। করেন ৭৩ রান। সেখানেই পিছিয়ে পড়ে পঞ্জাব। নতুন বল হাতে অর্শদীপ, জানসেন উইকেট তুলতে পারেননি।
পঞ্জাবকে প্রথম ধাক্কা দেন লকি ফার্গুসন। ১৩ বলে ৩৫ রান করে আউট হন অভিষেক। হেড করেন ১৯ বলে ৩৮ রান। তাঁকে ফেরান যুজবেন্দ্র চহল। উইকেট পড়লেও হায়দরাবাদের রান তোলার গতি কমেনি। নেপথ্যে ঈশান ও ক্লাসেন।
তবে দুই ব্যাটারকে অনেক সুবিধা করে দেন পঞ্জাবের ফিল্ডারেরা। ৯ ও ১৮ রানের মাথায় ঈশান ও ৯ রানের মাথায় ক্লাসেনের সহজ ক্যাচ পড়ল। ঈশানের স্টাম্প আউটের সুযোগ ফস্কান প্রভসিমরন সিংহ। সেই সুযোগ কাজে লাগান দুই ব্যাটার। দু’জনেই অর্ধশতরান করেন।
৩২ বলে ৫৫ রান করে অর্শদীপের বলে আউট হন ঈশান। তার পর নীতীশের সঙ্গে জুটি বাঁধেন ক্লাসেন। এই জুটি দলের রান ২৩৫ পর্যন্ত নিয়ে যায়। ইনিংসের শেষ বলে আউট হন ক্লাসেন। তিনি করেন ৪৩ বলে ৬৯ রান। নীতীশ ১৩ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন। ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৩৫ রান করে হায়দরাবাদ।
পঞ্জাবের চার পেসারই রান দিয়েছেন। অর্শদীপ ৪৩, ফার্গুসন ৪১, বিজয়কুমার বৈশাখ ৫৪ ও জানসেন ৬১ রান দিয়েছেন। একমাত্র ভাল দেখিয়েছে চহলকে। চার ওভারে ৩২ রান দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
এর আগে আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ২৬৫ রান তাড়া করে জিতেছে পঞ্জাব। ফলে অনেকে ভেবেছিলেন, টান টান ম্যাচ হবে। কিন্তু পাওয়ার প্লে-তেই খেলা শেষ করে দিলেন হায়দরাবাদের বোলারেরা। যে তিন ব্যাটার ফর্মে ছিলেন, সেই তিন জনই রান পেলেন না। ১ রান করে কামিন্সের বলে আউট প্রিয়াংশ আর্য। ৩ রান করে নীতীশের বলে আউট হয়ে ফেরেন প্রভসিমরন। অধিনায়ক শ্রেয়স করেন ৫ রান। তাঁকে ফেরান ঈশান মালিঙ্গা। মাত্র ৩.২ ওভারে পঞ্জাবের তিন ব্যাটার আউট হয়ে যান। সেখানেই খেলার ফয়সালা হয়ে যায়।
কোনোলি ভাল খেলছিলেন। তাঁকে সঙ্গ দেন স্টোইনিস। দু’জনে দলের রান তোলার গতি বাড়ান। কিন্তু এত রান তাড়া করতে গেলে ঝুঁকি নিতে হবে। আর তাতে উইকেট পড়ার সম্ভাবনা থাকে। সেটাই হল। ১৪ বলে ২৮ রান করে আউট হলেন স্টোইনিস। তাঁকে ফেরালেন শিবাঙ্গ কুমার। কামিন্সের বলে ২৫ রানের মাথায় আউট হন সূর্যাংশ। রান পাননি শশাঙ্ক সিংহ। তাঁকে ৪ রানের মাথায় আউট করেন সাকিব হুসেন।
পর পর উইকেট পড়ছিল পঞ্জাবের। একা লড়ছিলেন কোনোলি। কিন্তু তাঁর পক্ষে এই ম্যাচ জেতানো সম্ভব ছিল না। প্রয়োজনীয় রান রেট ক্রমশ বাড়ছিল। বড় হারের দিকে এগোচ্ছিল পঞ্জাব। কোনোলি কিন্তু বড় শট মারা থামাননি। শেষ পর্যন্ত হাত খুলে খেললেন তিনি। শতরানও করলেন। তিনি ছিলেন বলেই মাত্র ৩৩ রানে হারল পঞ্জাব।
দুর্দান্ত ইনিংস খেললেন কোনোলি। এ বারই প্রথম আইপিএল খেলছেন তিনি। দেখিয়ে দিচ্ছেন, তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া। যে পিচে বাকিরা রান পেলেন না, সেখানে অবলীলায় চার-ছক্কা মারলেন অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি ব্যাটার। তিনি না থাকলে লজ্জার হার হত পঞ্জাবের। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২০২ রান করে পঞ্জাব। কোনোলি ৫৯ বলে ১০৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। গত বছর প্রয়াত ১১ সমর্থকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বার হয়নি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
- এখনও পর্যন্ত আইপিএলের গ্রুপ পর্বের ৭০টি ম্যাচের সূচি ঘোষণা হয়েছে। প্রথমে ২০টি ম্যাচের সূচি জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পরে বাকি ৫০টি ম্যাচেরও সূচি ঘোষণা করেছে তারা। তবে প্লে-অফের সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
- আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি, পাঁচ বার করে ট্রফি জিতেছে চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতা নাইট রাইডার্স জিতেছে তিন বার। গত বছর প্রথম বার ট্রফি জিতেছিল বেঙ্গালুরু।
-
১২:৪৪
বেঙ্গালুরু থেকে সরানো হল আইপিএলের ফাইনাল! কবে, কোথায় ট্রফির লড়াই, জানিয়ে দিল বোর্ড, জানানো হল প্লে-অফের সূচিও -
১২:০৮
আইপিএলে প্লে-অফে ওঠার দৌড়ে সহজ অঙ্ক তিন দলের সামনে, কলকাতাকে কী করতে হবে? দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছে কারা? -
সঞ্জুর ব্যাটে জয় চেন্নাইয়ের, অক্ষরের দিল্লিকে হারিয়ে আইপিএলে প্লেঅফের আশা উজ্জ্বল করল পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়নেরা
-
কর্নাটকের বিধায়কদের আবদারে ক্ষুব্ধ বোর্ড, আইপিএলের ফাইনালে উঠলেও ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ হারাতে পারেন কোহলিরা
-
আইপিএলে প্রথম উইকেট নিয়েই পকেট থেকে কাগজ বার করে দেখালেন ‘জয় শ্রীরাম’! চর্চায় মুম্বইয়ের নতুন বোলার