রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট রবিবারই ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যেই বিকেল পৌনে ৪টে নাগাদ নিউ টাউনের একটি হোটেলে বিজেপির তিন শীর্ষনেতার সঙ্গে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের বৈঠক হয়। বৈঠকে ছিলেন, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, ভূপেন্দ্র যাদব, অমিত মালব্য এবং বিপ্লব দেব। অন্তত ঘণ্টা চারেক এই বৈঠক হয় বলে খবর। বৈঠক শুরু হওয়ার মিনিট ১৫-র মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক শুরু করেন। বিজেপি সূত্রে খবর, বৈঠকে বসে নির্বাচনের নির্ঘণ্টের উপর নজর রাখছিলেন তাঁরা। ঘোষণা শেষ হওয়া মাত্রই বিজেপির বৈঠকে ভোট পর্বের চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হয়ে যায়।
এত দিন বিজেপি জনসংযোগ এবং প্রচারে ব্যস্ত ছিল। তারা ১ মে থেকে বিশেষ কর্মসূচি ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করে। শেষ হয় ১০ মে। ১৪ মে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপির ব্রিগেডে ওই কর্মসূচি সমাপ্ত হয়। বিজেপির এই ব্রিগেড সমাবেশের ভিড়কে নেতৃত্ব সংগঠনের সফল্য হিসাবে দেখছেন। এই সাফল্যর রেশ ধরে রেখেই জোরকদমে ভোট প্রস্তুতি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। সেই সংক্রান্ত পরিকল্পনার প্রাথমিক আলোচনা হয়ে গিয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে অবশিষ্ট প্রার্থী তালিকা নিয়েও।
গত ১২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে ভাগ্য নির্ধারণ হয় পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি বিধায়কদের। রাজ্যে এই মুহূর্তে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৬৫। তাঁদের মধ্যে কত জন আবার টিকিট পাচ্ছেন, ক’জন বাদ পড়ছেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রথম সারির নেতাদের নিয়ে মোদীর বাসভবনে বৈঠকে বসে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। সূত্রের খবর, ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৫৫টি আসনে প্রার্থীর নাম মোটের উপর চূড়ান্ত হয়ে যায় ওই বৈঠকে। বাকি ১৩৯টি আসন নিয়েও যত দ্রুত সম্ভব চূড়ান্ত করতে চাইছে বিজেপি। দু’এক দিনের মধ্যেই দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আবার পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন বলে খবর। সেই বৈঠকের আগে রাজ্যস্তরে যে আলোচনা দরকার ছিল, তা রবিবার বৈঠকে সেরে নেওয়া হল। সব মিলিয়ে সামান্য কিছু আসন ছাড়া সিংহ ভাগ আসনের জন্য রাজ্যস্তরে আলোচনা হয়ে গিয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে চূড়ান্ত আসন নিয়ে টুকিটাকি আলোচনা বাকি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
রবিবারের বৈঠক সেরে রাতেই সুকান্ত দিল্লি চলে গিয়েছেন। আগামীকাল সকালে দিল্লি যাচ্ছেন শমীকও। সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে প্রাতরাশের আমন্ত্রণ রয়েছে সমস্ত সাংসদদের। প্রথমে সেখানে যাবেন বিজেপি সাংসদেরা। সেখান থেকে অধিবেশনে যোগ দেবেন। এর পর বিকেলে বা মঙ্গলবার ফের পশ্চিমবঙ্গে দলের শীর্ষনেতাদের নিয়ে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বৈঠকে বসতে পারেন। তবে ১৫৫টি আসনের জন্য তালিকা যেহেতু প্রায় তৈরি আছে, সেহেতু আসন নিয়ে দিল্লিতে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের আগেই প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
রবিবার বিকেলে বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে দু’দফায় ভোটগ্রহণ হবে বলে জানিয়েছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হবে রাজ্যের ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি আসনে। দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হবে দক্ষিণবঙ্গের সাতটি জেলার মোট ১৪২টি আসনে। ভোটের ফলঘোষণা আগামী ৪ মে, সোমবার।