ত্বকের যত্ন নেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে সাধারণত নানা ধরনের প্রসাধনী, ফেসপ্যাক বা সৌন্দর্যচর্চার কথাই বলা হয়। কিন্তু চর্মরোগ চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদেরা বার বার মনে করিয়ে দেন, ত্বকের সৌন্দর্য আসলে ভিতর থেকেই আসে। অর্থাৎ, আপনি কী খাচ্ছেন, তার প্রভাব ত্বকের উপর স্পষ্ট ভাবে পড়ে। বলিউড তারকা গোবিন্দ-কন্যা টিনা আহুজার রূপের নেপথ্যেও নাকি সেই তত্ত্বই কাজ করছে।
সম্প্রতি অভিনেত্রী জানিয়েছেন, উজ্জ্বল এবং সুস্থ ত্বকের জন্য তিনি বিশেষ কয়েকটি ফলের উপর ভরসা করেন। ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবারই থাকে তাঁর পাতে। টিনার কথায়, ‘‘আমি আমলকি খেতে ভালবাসি। শট হিসেবে খেয়ে নিই সেটা। আসলে বেরিজাতীয় ফল খুব ভালবাসি আমি। সকালে ইয়োগার্টের সঙ্গে ১০০ গ্রাম ব্লুবেরি খাই মাঝে মধ্যে। অথবা কিউয়ি মেশাই। এটাই আমার প্রাতরাশ। আর এ সবের গুণই প্রকাশ পায় বলে আমার মত।’’ প্রতি দিন টিনার যে কোনও একটি বেলার খাবারে ফল থাকতেই হবে।
গোবিন্দের কন্যার ত্বকচর্চা। ছবি: সংগৃহীত
আমলকি ত্বকের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
আমলকি দীর্ঘ দিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায়। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে, যা ত্বকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে এবং ত্বককে সতেজ রাখতে পারে। শরীরের পুষ্টিগত অবস্থাই ত্বকে প্রতিফলিত হয়। তা ছাড়া এর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ফ্রি র্যাডিকালের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকেও মুক্তি পাওয়া যায় এর ফলে। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতেও সাহায্য করে আমলকি। প্রদাহ কমানোর ক্ষেত্রেও ভূমিকা রয়েছে এর। এর ফলে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি, ত্বকে অকালবার্ধক্যের ছাপ পড়ার গতি শ্লথ হয়ে যায়।
ব্লুবেরি ত্বকের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
আমলকির মতো ব্লুবেরিও এক প্রকার বেরিজাতীয় ফল। ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ডায়েটরি ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর এই ফল। রোজ ১৫০ গ্রাম মতো ব্লুবেরি খেলে ত্বকের প্রদাহ কমে, বার্ধক্যের ছাপ দেরিতে পড়ে, ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে, ফ্রি র্যাডিকালের কারণে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, কোলাজেন উৎপাদন হতে পারে।
অর্থাৎ বেরিজাতীয় ফলেই নিজের সৌন্দর্যের চাবিকাঠি লুকিয়ে রেখেছেন গোবিন্দ ও সুনীতা আহুজার মেয়ে টিনা। তাঁর এই টোটকা অনুসরণ করতে পারেন আপনিও।