আর ধর্না নয়, রামনবমীর পরের দিন, শনিবার থেকে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে শিলিগুড়িতে নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরবেন। বৃহস্পতিবার এ কথাই জানালেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। আরও জানালেন প্রয়োজনে এক এক ওয়ার্ডে এক এক দিন রাত কাটিয়ে বিক্ষোভ অবস্থান করবেন তিনি।
শিলিগুড়িতে নাবালিকা মৃত্যুতে মূল অভিযুক্ত গৃহশিক্ষকের দ্রুত গ্রেফতারির দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন শিলিগুড়ির বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক তথা বর্তমান প্রার্থী শঙ্কর। সেখান থেকে কার্যত হুঁশিয়ারি দেন, মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার না-হওয়া পর্যন্ত তিনি ধর্নামঞ্চ থেকে উঠবেন না। ঘটনার পরে তিন দিন কেটে গেলেও অধরা মূল অভিযুক্ত। ওই ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন এক জন। তিনি মূল অভিযুক্তের মা।
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ধর্নামঞ্চ থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেন শঙ্কর। তিনি বলেন, ‘‘প্রায় ৫০ ঘন্টা ধরে ধর্নায় বসে রয়েছি। পরিবারটি গরিব। নাবালিকা প্রান্তিক অঞ্চল থেকে উঠে এসেছে বলেই পুলিশ-প্রশাসন এটাকে গুরুত্ব দিতে চায়নি হয়তো৷ তৃণমূলের কথায় চলা পুলিশ আজ যাদের বাঁচাচ্ছে, ২০২৬ সালের ৪ মে তৃণমূল সরকারের বিসর্জনের পর প্রত্যেকের ভূমিকা নিয়েই আলোচনা হবে৷’’ তার পরেই তিনি আরও বলেন, ‘‘শুক্রবারও আমি এই ধর্না মঞ্চেই থাকব৷ শনিবার এই মঞ্চ থেকে আমি বার হব। আমার মূল কথা বিচার। এই ঘটনাকে সামনে রেখেই (শিলিগুড়ি) বিধানসভার অন্তর্গত ৩৩টি ওয়ার্ডেই যাব। প্রয়োজনে সব ক’টি ওয়ার্ডে অবস্থান বিক্ষোভে বসব।’’
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, ডিসিপি (সদর) তন্ময় সরকার বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তল্লাশিতে পুলিশের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।’’
দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের (সমতল) চেয়ারম্যান সঞ্জয় টিবরেওয়াল বলেন, ‘‘এ নিয়ে আমরা কোনও রাজনীতি করতে চাই না। আজও আমরা পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। পরিবারের পাশে রয়েছি। আমাদের একটাই দাবি, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’’
শিলিগুড়ির ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এক নাবালিকার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় সোমবার। পরিবারের অভিযোগ, ছাত্রীকে বার বার প্রেমের প্রস্তাব দিতেন গৃহশিক্ষক। ওই গৃহশিক্ষক বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। তাঁর প্রস্তাবে রাজি না-হওয়ায় ছাত্রীকে তিনি মানসিক অত্যাচার করেছেন। তার পরেই মেয়েটি আত্মঘাতী হয়। ছাত্রীর মৃত্যুর খবর ছড়াতেই ওই গৃহশিক্ষকের খোঁজ মিলছে না। এই নিয়ে মঙ্গলবার দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত