নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত কলকাতা পুলিশের নতুন কমিশনার (সিপি) অজয় নন্দের কাজে খুশি নন তিনি। মঙ্গলবার সিইও দফতরের সামনে গন্ডগোলের পরে এমনটাই জানিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, সিপি অন্য এক পুলিশ অফিসারের কথায় চলছেন, যিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গোলাম’। এই নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, কমিশনকে বলবেন। অন্য দিকে, সিইও দফতরের ঘটনায় অজয়কে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন মনোজও। তিনি জানান, ওই জায়গায় গন্ডগোল হলে তা সামলানোর দায়িত্ব কলকাতার পুলিশ কমিশনারেরই।
মঙ্গলবার সিইও দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা। তাঁদের সঙ্গে সংঘাত শুরু হয় বিজেপি কর্মীদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমসিম খেতে হয় পুলিশকে। সেই ঘটনার পরে শুভেন্দু বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পেটাতে হবে। গ্যাস ফাটাতে হবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা কার্যকর করতে হবে। ভাল করে মারলে সোজা হবে। লাঠি আছে তো হাতে! বন্দুক ব্যবহারের দরকার নেই।’’ এখানেই থামেননি শুভেন্দু। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজ করতে না-পারা নিয়ে কলকাতার কমিশনারের দিকে তিনি আঙুল তোলেন। তাঁর কথায়, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনী কাশ্মীর সোজা করেছে। এখানে সোজা করতে দিতে হবে তো! কমিশন যে এখানকার সিপি দিয়েছে, সেই সিপি ঠিক নেই। এখনও বুঝতে পারছেন না কী হচ্ছে!’’ এর পরে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘‘রূপেশ কুমার নামে এক জন অফিসারের কথায় চলছেন কমিশনার। তিনি মমতার জ্যাক (গোলাম)।’’
আরও পড়ুন:
রাজ্যে আদর্শ নির্বাচনী আচরণ বিধি জারি হওয়ার পর পরই মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে বদলে দিয়েছিল কমিশন। তার কয়েক ঘণ্টা পরে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সুপ্রতিম সরকারকে সরিয়ে অজয়কে বসায় কমিশন। শুধু কলকাতা পুলিশ নয়, রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ শীর্ষ স্তরে রদবদল করে তারা। কমিশন সূত্রে জানা যায়, রাজ্যে অবাধ নির্বাচন করতেই এই পদক্ষেপ করা হয়। মঙ্গলবার শুভেন্দু বলেন, ‘‘কলকাতা পুলিশ সোজা হয়নি। কমিশনকে করতে হবে। পুলিশ অবজ়ার্ভারকে বলেছি। সিইও-কে বলেছি। কমিশনকে বলতে হবে। অজয় নন্দ ঠিক নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন না। বা ঢুকতে চাইছেন না (বিষয়ে)।’’ প্রসঙ্গত, এই বদলি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছিল তৃণমূল। সেই মামলা মঙ্গলবারই খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট।
অন্য দিকে, সিইও দফতরের সামনে গন্ডগোলের ঘটনায় পুলিশ কাজ না-করলে নির্বাচন কমিশন পদক্ষেপ করবে বলে জানান সিইও মনোজ। তাঁর কথায়, ‘‘এই জায়গায় ১৬৩ ধারা জারি করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। তাই এই জায়গায় কোনও গন্ডগোল হলে, তাঁর দায়িত্ব পরিস্থিতি সামলানো। তাই পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে। তারা যদি না পারে কমিশন পদক্ষেপ করবে।’’ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জরুরি পরিস্থিতিতে জমায়েত নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা দেয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত