Advertisement

বিধানসভা ভোটের কারণে বাস সঙ্কট, ভোগান্তিতে নিত্যযাত্রীরা, মে-র প্রথম সপ্তাহের আগে স্বস্তির আশা ক্ষীণ

দ্বিতীয় দফার ভোট আগামী বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। তার পরেও রয়েছে ৪ মে ভোট গণনা। ফলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাসের স্বাভাবিক পরিষেবা ফেরানো সম্ভব নয় বলেই জানাচ্ছেন পরিবহণ দফতরের সংশ্লিষ্ট সূত্র।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:২৪
Bus Shortage Due to Elections Leaves Commuters in Distress, little hope for Relief Before the First Week of May

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গে চলতি বিধানসভা নির্বাচনের প্রয়োজনে ব্যাপক সংখ্যায় সরকারি ও বেসরকারি বাস অধিগ্রহণ করেছে পরিবহণ দফতর। তার জেরে রাস্তায় বাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গিয়েছে, ফলে চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রী— প্রায় সকলকেই বাড়তি সময় নিয়ে বেরোতে হচ্ছে, তবুও গন্তব্যে পৌঁছোতে দেরি হচ্ছে নিত্যদিন।

২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলেও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। কারণ, সামনে রয়েছে দ্বিতীয় দফার ভোট, যা আগামী বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। তার পরেও রয়েছে ভোটগণনা, যা নির্ধারিত ৪ মে। ফলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাসের স্বাভাবিক পরিষেবা ফেরানো সম্ভব নয় বলেই জানাচ্ছেন পরিবহণ দফতরের সংশ্লিষ্ট সূত্র।

বাসমালিক সংগঠনগুলির বক্তব্য, নির্বাচনী কাজে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে বহু বাস তুলে দিতে হয়েছে। এই বাসগুলি বিভিন্ন জেলায় ভোটকর্মী ও নিরাপত্তার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে শহর ও শহরতলির রুটে বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। বাসমালিকদের একাংশ স্পষ্ট জানিয়েছেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহের আগে এই পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই। বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বেসরকারি গাড়ি, অটো ও অ্যাপ-ভিত্তিক পরিষেবার উপর চাপ বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠছে। ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবায়ও যাত্রীসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, প্রায় আড়াই হাজার বেসরকারি বাস ভোটের কাজের জন্য নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় এ ধরনের পরিস্থিতি প্রায় প্রতি বারই তৈরি হয়, কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থার অভাব থেকেই যায়। অনেকেই দাবি করছেন, অন্তত গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলিতে কিছু বাস চালু রাখার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। পরিবহণ দফতরের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, নির্বাচন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং তা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সর্বাগ্রে জরুরি। তবে যাত্রীদের সমস্যার বিষয়টিও নজরে রাখা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ভোটপর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থায় স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে আগামী কয়েক দিন নিত্যযাত্রীদের এই দুর্ভোগ সহ্য করেই চলতে হবে।

সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসের নেতা টিটু সাহা বলেন, ‘‘আমরাও চাইছি, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক। কিন্তু ভোট প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বাস ছাড়বে না। তবে আমরা জেনেছি, ২৯ তারিখ দ্বিতীয় দফার ভোট মিটে গেলে কিছু মালিককে বাস ফেরত দেওয়া হবে। তাতে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।’’

Bus Services
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy