Advertisement
E-Paper

কোথাও ক্ষৌরকারের ভূমিকায় প্রার্থী, কোথাও চাষি কিংবা রাঁধুনি, পুলিশকে দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও রইল ভাষণে

খড়্গপুরে প্রচারে গিয়ে সভা থেকে পুলিশকে একহাত নিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় পুলিশ আধিকারিক বিজেপি কর্মীদের উপর জোর খাটাচ্ছেন। তৃণমূলের হয়ে কাজ করতে বলছেন। না হলে গুলি করে মেরে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ১৬:৫৫
Vote Campaign

(বাঁ দিকে) ক্ষৌরকারের ভূমিকায় নারায়ণগড়ের বিজেপি প্রার্থী রমাপ্রসাদ গিরি। ফের সভা থেকে পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিলীপ ঘোষের (ডান দিকে)। —নিজস্ব ছবি।

ভোটারের মন জিততেই হবে। বোঝাতে হবে, ‘আমি তোমাদেরই লোক।’ সে জন্য হেঁশেলে ঢুকে রুটি বেলে মহিলা ভোটারকে সাহায্য যেমন আছে, রাস্তার উপরে পুরুষ ভোটারের দাড়ি কেটে তাঁর সময় বাঁচানোও রয়েছে। ভোটারের মন পেতে চেষ্টার অন্ত নেই প্রার্থীদের। দাড়ি কেটে দেওয়ার ‘ট্রেন্ডে’ ঢুকে পড়লেন বিজেপির আর এক প্রার্থী রমাপ্রসাদ গিরি। এ সবের সঙ্গে বিপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে গরমাগরম ভাষণ তো থাকবেই। সোমবার সেই কাজ ‘দিলীপোচিত’ ভাবে করলেন খড়্গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী। পুলিশকে তোপ দেগে আবার বিতর্কে দিলীপ ঘোষ। সোনারপুর দক্ষিণে একে অপরকে নিশানা করলেন তৃণমূলের লাভলী মৈত্র এবং বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। সোমবার ভোটপ্রচারের নানা ছবি দেখা গেল জেলায় জেলায়।

অভিনব প্রচার

তাঁকে প্রার্থী হিসাবে পছন্দ নয় বলে দলেরই একাংশ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ের বিজেপি প্রার্থী রমাপ্রসাদ গিরি আশাবাদী, শীর্ষ নেতৃত্ব ওই ক্ষোভ সামলে নেবেন। সকালে কালী এবং বিষ্ণুমন্দিরে পুজো দিয়ে রমাপ্রসাদ চলে গিয়েছিলেন খুরশি এলাকায়। সেখানকার একটি সেলুনে ঢুকে পড়েন বিজেপি প্রার্থী। দাড়ি কামানোর জন্য চেয়ারে বসেছিলেন এক ব্যক্তি। ক্ষৌরকারের হাত থেকে ক্ষুর নিয়ে ওই ব্যক্তির দাড়ি কেটে দেন রমাপ্রসাদ।

এ বার হুগলির গোঘাট কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী নির্মল মাজি। ভোটপ্রচারে বেরিয়ে ভোটারের বাড়িতে গিয়ে রান্না করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। বড় কড়াইয়ে খুন্তি নাড়েন। আবার ভোটারের বাড়িতে ঘরের লোকের মতো নিজেই চেয়ে খাবার খেলেন তৃণমূল প্রার্থী। জনসংযোগে বেরিয়ে এক বধূকে ‘মা দুর্গা’, ‘মা অন্নপূর্ণা’ বলেও সম্বোধন করে নির্মল-আর্জি, ‘‘একটু ভাত দাও। ছোট প্লেটে দু’চামচ দিলেই হবে।’’ ভোটারের বাড়িতে চেয়েচিন্তে খেয়ে বলেন, ‘‘চারদিন পর মাছ খাচ্ছি।’’

জলকাদায় নেমে চাষিদের সঙ্গে আলু তুলেছেন মালদহ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী গোপালচন্দ্র সাহা। এ বার চাষে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে সেখানে।

গলায় ফুলের মালা, কপালে সবুজ আবির। আরামবাগ বাজারে ভোটপ্রচারে বেরিয়ে সোজা ঢুকে গিয়েছিলেন চপের দোকানে। সেখানে নিজের হাতে চপ ভাজেন আরামবাগের তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগ।

বোলচাল

খড়্গপুরে প্রচারে গিয়ে সভা থেকে পুলিশকে একহাত নিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দিলীপ। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় পুলিশ আধিকারিক বিজেপি কর্মীদের উপর জোর খাটাচ্ছেন। তৃণমূলের হয়ে কাজ করতে বলছেন। না হলে গুলি করে মেরে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। পুলিশের বাপবাপান্ত করে দিলীপ বলেছেন তিনি বড় বড় গুন্ডাদের শায়েস্তা করেছেন। গুলি-বন্দুকে ভয় পান না।

তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত আরাবুল ইসলামকে প্রার্থী করেছে আইএসএফ। ক্যানিং পূর্ব থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক। সোমবার ২৩ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, ‘‘আইএসএফ এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে নিজেকে শোধরানো যায়। আমরা ‘ব্যাড এলিমেন্ট’-দের নিয়ে সংশোধন করব। এদের সমাজে ছেড়ে দিলে ক্ষতি হবে। বিজেপি-তৃণমূল এদের খারাপ কাজে ব্যবহার করছে।’’ আরাবুল, মফিদুল হক সাহাজিদের ভোটের আগে যোগদান ও তারপরেই বিধানসভার প্রার্থী করা নিয়ে ভাঙড়ের বিধায়ক আরও বলেন, ‘‘ভারতে সমস্ত জায়গায় সংশোধনাগার আছে। আর জেল বলা হয় না। আরাবুল ইসলামের মতো ব্যক্তিদের আগে অনেক খারাপ জায়গায় ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁদের ‘ব্যাড এলিমেন্ট’ করে তোলা হয়েছে। কেউ যদি কৃতকর্মকে ভুল বুঝে ভাল পথে চলতে চান, তা হলে ধর্মীয় ভাবে এবং দেশের আইন তাকে সংশোধনের জায়গা দেয়।’’

মারের পাল্টা মার। প্রচারে বেরিয়ে এমনই নিদান দিয়েছেন সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি কর্মীরা আর মার খাবে না, এ বার পাল্টা মারও দেবে।’’ অতীতে তাঁর উপর প্রচুর হামলার অভিযোগ করে রূপা জানান তিনি সব মনে পুষে রেখেছেন। প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল প্রার্থী লাভলী মৈত্রের মন্তব্য, ‘‘বিজেপির সংস্কৃতি গুন্ডামি আর মস্তানি। বাইরে থেকে লোক এনে অশান্তি করা ওদের কাজ। আমরা উন্নয়নকে সামনে রেখেই ভোট চাইব।’’

প্রতিশ্রুতি

পশ্চিম বর্ধমানের বারাবনি বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী বিধান উপাধ্যায় সালানপুর ব্লকের খুদিকা গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন গ্রামবাসীরা। বহু বাড়ির জীর্ণ অবস্থা ঘুরিয়ে দেখানো হয় প্রার্থীকে। গ্রামবাসীদের বক্তব্য শোনার পর তৃণমূল প্রার্থী স্বীকার করেন, গ্রামের বহু বাড়ির অবস্থা সত্যিই খারাপ। তবে পানীয় জলের পরিস্থিতি অতটাও সঙ্কটজনক নয়। তবে নির্বাচনে জয়ী হলে এলাকার বাড়ির সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি প্রতিটি ঘরে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

BJP TMC vote campaign West Bengal
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy