তৃণমূল থেকে বহিষ্কারের পরে তিনিও তৃণমূল ত্যাগ করছেন বলে ঘোষণা করেছিলেন। ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক সেই আরাবুল ইসলামকে ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করল আব্বাস এবং নওশাদ সিদ্দিকির দল ‘অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট’ (আইএসএফ)। সোমবার ২৩টি বিধানসভা আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে তারা। এর মধ্যে চারটিতে আগেই প্রার্থী দিয়েছে বামফ্রন্ট। ফলত, এই প্রার্থীতালিকা নিয়ে ক্ষোভের বাতাবরণ তৈরির সমূহ সম্ভাবনা সিপিএমের অন্দরে। তা ছাড়া আরাবুলকে প্রার্থী করার বিষয় তো রয়েছেই।
ক্যানিং পূর্বের বিদায়ী বিধায়ক শওকত মোল্লাকে এ বার ভাঙড় থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তিনি ভাঙড়ে তৃণমূলের পর্যবেক্ষক থাকাকালীন বার বার আরাবুলের সঙ্গে বিতণ্ডা প্রকাশ্যে এসেছে। তৃণমূলে ‘তাজা নেতা’ বলে পরিচিত আরাবুলকে ক্যানিং পূর্ব থেকে টিকিট দেওয়া নওশাদের ‘তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত’ বলে মনে করা হচ্ছে। নওশাদ নিজে আবার ভাঙড় থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মধ্যমগ্রামে আইএসএফ টিকিট দিয়েছে প্রাক্তন এসএফআই নেত্রী প্রিয়াঙ্কা বর্মণকে। এ ছাড়া তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দিয়েই দেগঙ্গা বিধানসভার প্রার্থী হলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ মফিদুল হক সাহাজি।
সোমবার প্রথম পর্যায়ে যে ২৩ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে আইএসএফ, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পেশায় শিক্ষক রকারিমুল্লাহ হক (মালদহের সুজাপুর), শিক্ষক সামসুর আলি মল্লিক (নদিয়ার পলাশিপাড়া), জাকির মণ্ডল (নদিয়ার চাপড়া)। উত্তর ২৪ পরগনার সাতটি কেন্দ্রে লড়ার কথা জানিয়েছে আইএসএফ। বাদুড়িয়ায় জাকির মণ্ডল, অশোকনগরে তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, আমডাঙায় বিশ্বজিৎ মাইতি, মধ্যমগ্রামে প্রিয়াঙ্কা, দেগঙ্গায় মোহাম্মদ মফিদুল হক সাহাজি, হাওড়ায় পিয়ারুল ইসলাম, বসিরহাট উত্তরে মহম্মদ মুসা কারিমুল্লাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপিতে আব্দুল মালেক মোল্লা, ক্যানিং পশ্চিমে প্রবীর মণ্ডল, ক্যানিং পূর্বে আরাবুল, মগরাহাট পশ্চিমে আব্দুল আজিজ আল হাসান এবং ভাঙড়ে নওশাদ।
হুগলির হরিপালে আইএসএফ প্রার্থী করেছে শেখ মুজাফ্ফর আলি ওরফে মাজাকে। খানকুলে টিকিট পেয়েছেন শেখ সাদ্দাম হোসেন। পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে আফজল আলি শাহকে। নন্দীগ্রামে টিকিট দেওয়া হয়েছে মৌলানা মহম্মদ শবে মিরাজ খানকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে পীযূষ হাঁসদা, পশ্চিম বর্ধমানের বারাবনিতে বিশ্বজিৎ বাউড়ি, বীরভূমের বোলপুরে অধ্যাপক বাপি সরেন এবং মুরারইতে হজরত আলি (সওদাগর) আইএসএফের প্রার্থী।
আরও পড়ুন:
আইএসএফ চেয়ারম্যান তথা ভাঙড়ের বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ ফুরফুরা থেকে প্রার্থীদের নাম ঘোষণার সময় জানান, উত্তর ২৪ পরগনার করেকটি আসন নিয়ে এখনও জট কাটেনি। তাঁর কথায়, ‘‘সাত মাস ধরে আলোচনা হয়েছে। আর একটা দিন অপেক্ষা করব। আগামী বুধবার দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করব।’’ উল্লেখ্য, বামেরা মুরারই, পাঁশকুড়া পশ্চিম এবং নন্দীগ্রামে প্রার্থী দেওয়ার পরেও আইএসএফ সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। আলোচনা কি ফলপ্রসূ হয়নি? নওশাদের দাবি, যে ২৩ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে, তা বামেদের সহমতের ভিত্তিতেই হয়েছে।
কিন্তু গত বিধানসভা ভোটে জাঙ্গিপাড়ায় আইএসএফ শেখ মউনুদ্দিনকে প্রার্থী করায় সিপিএমের অন্দরে ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। তৃণমূলত্যাগী ওই আইএসএফ প্রার্থী সিপিএমের জাঙ্গিপাড়া জোনাল কমিটির দফতরে রাজ্য নেতা শ্রীদীপ ভট্টাচার্য এবং সুনীল সরকারকে (প্রয়াত) পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ছিল। তাই মইনুদ্দিনের প্রচারেই যাননি স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্ব। এ বার আরাবুলের ক্ষেত্রেও তা-ই হবে না তো? আরাবুলের যোগদান প্রসঙ্গে নওশাদ বলেন, ‘‘যাঁরা ভাল লোক, তাঁরা দলে এসেছেন। অনেক খারাপ লোককেও কাউন্সেলিং করে দলে নেওয়া হয়েছে। কেউ ভুল করে থাকলে সংশোধন করার সুযোগ তাঁকে দেশের সংবিধানই দিয়েছে। যাঁদের দিয়ে খারাপ কাজ করানো হয়েছে, তাদের ভাল করতে হবে। সে জন্য কাউন্সেলিং টিম রয়েছে আইএসএফের।’’ তা ছাড়া আরাবুল বা তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে আসা নেতাদের নিয়ে আইএসএফ কর্মীদের কোনও সমস্যা হবে না বলে দাবি নওশাদের। তিনি জানান, আইএসএফ অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা করে তবেই এঁদের দলে নিয়েছে। তৃণমূলের ‘তাজা নেতা’কে আইএসএফ প্রার্থী করা প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এই বিষয়ে যা বলবার আমাদের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানিয়ে দেবেন।’’
অন্য দিকে, উত্তর ২৪ পরগনা আমডাঙায় তৃণমূল প্রার্থী করেছে ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা কাসেম সিদ্দিকিকে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে পীরজাদার বিরুদ্ধেও আইএসএফ সম্পাদক বিশ্বজিৎ মাইতিকে প্রার্থী করেছে ‘ভাইজানের দল।’ নওশাদ দলের চেয়ারম্যান হিসাবে দলীয় প্রার্থীর হয়ে পীরজাদা কাশেমের বিরুদ্ধেও প্রচারে যাবেন বলে জানিয়েছেন।