Advertisement
E-Paper

চন্দ্রনাথের খুনিদের সঙ্গে ভিন্‌ রাজ্যের যোগ? গতিবিধির নিখুঁত তথ্যই বা কে দিল তাদের? সূত্র জুড়ছে পুলিশ, তদন্ত কোন পথে

যাতায়াতের কোনও নির্দিষ্ট সময় ছিল না চন্দ্রনাথের। বিভিন্ন সময় বাড়ি থেকে বেরোতেন বা বাড়ি ফিরতেন। বুধবার রাতে ওই সময়ে তিনি যে ওই জায়গাতেই থাকবেন, সেই নিখুঁত তথ্য দুষ্কৃতীদের কাছে ছিল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ ২১:৩২
Investigation is on for Chandranath Rath’s death case

শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনের তদন্ত চলছে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনিরা এখনও অধরা। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ভিন্ রাজ্যের সঙ্গে এই দুষ্কৃতীদের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তারা অন্য রাজ্যে পালিয়ে গিয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চন্দ্রনাথকে মধ্যমগ্রামে তাঁর আবাসনের কাছেই গুলি করে খুন করা হয় বুধবার রাতে। অভিযোগ, দু’টি বাইক এবং একটি চারচাকার গাড়িতে দুষ্কৃতীরা ছিল। সেই গাড়ি এবং একটি বাইক পুলিশ উদ্ধার করেছে। দু’টিতেই ভুয়ো নম্বরপ্লেট ছিল। চন্দ্রনাথের গতিবিধির খবরাখবর দুষ্কৃতীদের কে দিলেন, কেনই বা দিলেন, খোঁজ চলছে।

চন্দ্রনাথের হত্যা পূর্বপরিকল্পিত বলেই মনে করছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে দাবি, বাড়িতে যাতায়াতের কোনও নির্দিষ্ট সময় ছিল না চন্দ্রনাথের। প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন সময় বাড়়ি থেকে বেরোতেন বা বাড়ি ফিরতেন। বুধবার রাতে ওই সময়ে তিনি যে ওই জায়গাতেই থাকবেন, সেই সংক্রান্ত নিখুঁত তথ্য দুষ্কৃতীদের কাছে ছিল। ছ’ঘণ্টা ধরে চারচাকার গাড়ি নিয়ে এলাকায় রেকিও করা হয়েছিল। কে এই তথ্য দুষ্কৃতীদের দিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই অঞ্চলে কোথা থেকে, কার ফোন গিয়েছিল, মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তা-ও দেখছেন তদন্তকারীরা। গাড়িতে ভুয়ো নম্বরপ্লেটের ব্যবহার আসলে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। চন্দ্রনাথের গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরাও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি বাইপাসের ধারের হাসপাতালে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত তদন্তে বৈদ্যনাথের বয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া, কী ধরনের অস্ত্র খুনে ব্যবহার করা হয়েছিল, তা জানতে ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ। মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকা এখনও থমথমে। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা সেখানে মোতায়েন রয়েছেন। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা রাতেই নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন। চন্দ্রনাথের গাড়ির সামনের দিকে চালকের আসনে এবং পাশের আসনে রক্তের দাগ ছিল।

বাইক-রহস্য

চন্দ্রনাথকে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত চারচাকার গাড়়িটি দুষ্কৃতীরা ঘটনাস্থলেই ফেলে গিয়েছিল। সেটি রাতেই বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুষ্কৃতীদের একটি বাইক উদ্ধার করা হয়েছে। আরও একটি বাইক ব্যবহৃত হয়েছিল। সেটির খোঁজ চলছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চারচাকার গাড়িটি দিয়ে চন্দ্রনাথের গাড়ির পথ আটকানো হয়েছিল। শুভেন্দু জানান, উদ্ধার হওয়া বাইকটি ঘটনাস্থল থেকে চার কিলোমিটার দূরে একটি জায়গা থেকে পাওয়া গিয়েছে। তার রেজিস্ট্রেশন হয়েছে আসানসোলের বার্নপুরের জনৈক বিভাস ভট্টাচার্যের নামে। ঠিকানা রয়েছে বার্নপুরে এক কারখানার কোয়ার্টারে। ২০১২ সালে বাইকটির রেজিস্ট্রেশন হয়েছিল। কিন্তু ওই ঠিকানায় এখন বিভাস নামে কেউ থাকেন না। ২০১৪ সাল থেকে ওই ঠিকানায় রয়েছেন ধরমবীর কুমার নামে কারখানার এক কর্মী। ধরমবীর জানান, ওই নামে তিনি কাউকে চেনেন না। তিনি নিজেও এই ঠিকানায় কোনও বাইক কেনেননি। সূত্রের খবর, বিভাসের একটি ছবি ইতিমধ্যে পুলিশের হাতে এসেছে। ওই ছবিটি দেখিয়ে এলাকাবাসীদের কাছে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন পুলিশকর্মীরা। তবে কেউই তাঁকে চিনতে পারছেন না বলে খবর।

পুলিশকে এড়ানোর ছক

চন্দ্রনাথকে খুনের আগে এবং পরে মধ্যমগ্রামের ওই অঞ্চলে কোথা থেকে, কার ফোন গিয়েছিল, মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের পরিভাষায় এই ধরনের তদন্তকে ‘কল ডাম্প’ বা ‘টাওয়ার ডাম্প’ বলা হয়। এই ব্যবস্থায়, একটি নির্দিষ্ট সময়ে, কোনও নির্দিষ্ট এলাকার টাওয়ারে কোথা থেকে কার ফোন গিয়েছিল, তা ফোন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার কাছে জানতে চাইতে পারে পুলিশ। মনে করা হচ্ছে, পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য এবং তদন্তকে ভুল পথে চালিত করার জন্য ভুয়ো নম্বরপ্লেট ব্যবহার করা হয়েছিল। ছিল আরও পরিকল্পনা। পুলিশ জানতে পেরেছে, ব্যবহৃত গাড়ির নম্বরপ্লেট এবং ইঞ্জিন (শ্যাসি) নম্বর ভুয়ো। গাড়িটি শিলিগুড়ির আরটিও-তে নথিভুক্ত রয়েছে। শিলিগুড়িতে গাড়ির মালিক উইলিয়াম জোসেফকে মাটিগাড়া থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শিলিগুড়ির বাসিন্দা জোসেফ দাবি করেন যে, তাঁর গাড়িটি শিলিগুড়িতেই রয়েছে। এর পরেই স্পষ্ট হয়ে যায়, গাড়ির নম্বরপ্লেট নকল করে খুনে তা ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি, গাড়ি থেকে ঘষে তুলে দেওয়া হয়েছে শ্যাসি নম্বর। জোসেফ জানিয়েছেন, গাড়িটি বিক্রির জন্য তিনি ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। মাটিগাড়া থানার পুলিশ গাড়িটি পরীক্ষা করে দেখে।

সিট গঠন

চন্দ্রনাথ হত্যার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। এই তদন্তকারী দলে রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের পাশাপাশি এসটিএফ এবং গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি-র আধিকারিকেরাও রয়েছেন। তবে কত জন সদস্যকে নিয়ে এই সিট গঠিত হয়েছে, কোন আধিকারিকেরা এই তদন্তকারী দলে রয়েছেন, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়। চন্দ্রনাথ যে আবাসনে থাকতেন, সেখান থেকে যশোর রোড পর্যন্ত পুরো রাস্তায় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে। সেখানে লোকজনের যাতায়াতেও বিধিনিষেধ রয়েছে। এলাকার বেশ কিছু সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। তা বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে বলে সূত্রের খবর।

গুলিবিদ্ধ চালকের অস্ত্রোপচার

অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার সকালে চন্দ্রনাথের গাড়িচালক বুদ্ধদেবের শরীর থেকে গুলি বার করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর অবস্থা সঙ্কটজনক। আপাতত চিকিৎসকদের নজরদারিতে রয়েছেন। রাখা হয়েছে আইসিইউ-তে। হামলার সময়ে চন্দ্রনাথের গাড়ি চালাচ্ছিলেন বুদ্ধদেবই।

কী বললেন শুভেন্দু

তাঁর আপ্তসহায়ক হওয়ার কারণেই চন্দ্রনাথকে খুন করা হয়েছে বলে দাবি করেন শুভেন্দু। বারাসত হাসপাতাল চত্বর থেকে বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “একটি নিষ্পাপ, শিক্ষিত, তরুণকে খুন করা হল কেবলমাত্র বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক বলে আর শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছে বলে।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “চন্দ্রনাথের অপরাধের কোনও ইতিহাস নেই। সরাসরি রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিল না। আমার সহায়ক হওয়ার জন্যই ওকে খুন করা হয়েছে।” চন্দ্রনাথের মৃত্যুকে ‘ব্যক্তিগত ক্ষতি’ বলেছেন শুভেন্দু। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনি উপায়ে ফাঁসিতে ঝোলানোর আর্জি জানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “ঠান্ডা মাথায় রেকি করে খুন করা হল। তদন্তকারীদের কাছে আমার প্রার্থনা, এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকটা লোককে খুঁজে বার করে আইনি পথে ফাঁসিতে ঝোলানো হোক।” বুধবার রাতে হাসপাতাল থেকেই তিনি জানিয়েছিলেন মৃতের পরিবারের ও আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে দল।

মমতা-অভিষেককে নিশানা

চন্দ্রনাথের হত্যাকাণ্ডে তৃণমূল যোগের অভিযোগ আগেই তুলেছিল বিজেপি। বৃহস্পতিবার সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করা হয়। দলের রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিংহ কারও নাম সরাসরি করেননি। বলেছেন, ‘‘তৃণমূলের উচ্চস্তর থেকে এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ এসেছিল। যে ধরনের ভাড়াটে খুনিদের লাগানো হয়েছে, তারা অত্যন্ত দক্ষ। অর্থাৎ, এদের জন্য প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যয় হয়েছে। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, এর সঙ্গে তৃণমূলের হাত রয়েছে বলে যে সন্দেহ মানুষ করছে, তা অমূলক নয়।” তবে পুলিশের তদন্তেই আস্থা রাখছেন তিনি। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সংযত থাকার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, আইন অনুযায়ী দোষীরা শাস্তি পাবে। আইন কারও নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

শমীকের হুঁশিয়ারি

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য চন্দ্রনাথের হত্যাকাণ্ডে সরাসরি তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘‘সিংহ স্থবির বলে যদি কেউ মনে করে তাকে পদাঘাত করবে, সে ভুল করছে। আমরা তৃণমূলের ভাষায় কথা বলতে পারি, কথা বলতে জানি। কিন্তু তা-ও বলছি না, বলব না। এটাই আমাদের অবস্থান।” চন্দ্রনাথের খুনকে ‘রাজনৈতিক হত্যা’ বলে মনে করছেন শমীক। দলীয় কর্মীদের শান্ত, সংযত থাকতে অনুরোধ করেছেন তিনিও। শমীকের বক্তব্য, চন্দ্রনাথ একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। রাজনীতির সঙ্গে তাঁর দূরদূরান্তেও কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি শুধু একজনের আপ্তসহায়ক। শনিবার নতুন সরকারের শপথগ্রহণ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যে আসছেন। তাঁকে বার্তা দেওয়ার জন্য এই হত্যা কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন শমীক। তাঁর কথায়, “দুষ্কৃতীরা মঙ্গলগ্রহ থেকে এসে মারেনি। এত বড় যখন পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে, তখন স্থানীয় দুষ্কৃতীরা বা স্থানীয় (তৃণমূল) নেতারা জানত না, এমন ঘটনা আগে ঘটেনি।”

কী আছে সিসিটিভি-তে

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পেরেছে, খুনের প্রায় ছ’ঘণ্টা আগে এলাকায় ঢুকেছিল চারচাকার গাড়িটি। বেশ কিছু জায়গায় ঘোরাঘুরি করে সেটি। রেকিও করা হয় চন্দ্রনাথের বাড়ির সামনে। পুলিশের অনুমান, অনেক দিন ধরেই চন্দ্রনাথকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সিসি ক্যামেরার বেশ কয়েকটি ফুটেজ হাতে পেয়েছে পুলিশ। একটি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, খুনের ঘটনার আগে চন্দ্রনাথের গাড়ি যাচ্ছে। কিছুটা তফাতে থেকে পিছনে বাইক নিয়ে যাচ্ছেন দুই যুবক। (তবে এই ফুটেজগুলির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)

ফাঁসি চান না মা

ছেলের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথ। তবে ছেলের খুনিদের ফাঁসি হোক, চান না তিনি। বৃহস্পতিবার হাসিরানি বলেন, “দোষীরা শাস্তি পাক। আমি মা, তাই চাইব না ফাঁসি হোক। আমি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাইছি।” চন্দ্রনাথের মৃত্যুর জন্য রাজ্যের বিদায়ী শাসকদল তৃণমূল নেতাদের ‘গরম-গরম বক্তব্য’কে দায়ী করেছেন তিনি। বলেছেন, “তখন শাসকদলের নেতারা গরম-গরম বক্তৃতা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, চার তারিখের পর দিল্লির কোনও বাবা রক্ষা করতে পারবে না। সেটাই তাঁরা দেখিয়ে দিলেন।” রাজ্যের নতুন সরকারের কাছে ছেলের মৃত্যুর বিচার চেয়েছেন চন্দ্রনাথের মা। বৃহস্পতিবার বিকেলে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে গ্রামের বাড়িতে চন্দ্রনাথের দেহ নিয়ে যাওয়া হয়। তা‌ঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জনতার ঢল নেমেছিল। জাতীয় পতাকায় তাঁর দেহ মুড়ে সম্মান জানান এলাকার বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। জেলা নেতৃত্বও চন্দ্রনাথের বাড়িতে গিয়েছিলেন।

Chandranath Rath personal assistant Suvendu Adhikari BJP Leader Murder Case Shot Dead madhyamgram
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy