দিল্লিগামী বিমানে তৃণমূল সাংসদ মহুয়ার উদ্দেশে ‘চোর চোর’ স্লোগান যাত্রীদের একাংশের। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে ঘটনার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমানমন্ত্রী রামমোহন নাইডু ও বিমানসংস্থার কাছে।
এক্স পোস্টে মহুয়া লিখেছেন, ‘‘আমি আজ সরকারি কাজে দিল্লি গিয়েছিলাম প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে। আমি ৬ই ৭১৯-এর (ফ্লাইট নম্বর) ১এফ আসনে ছিলাম। ৪-৬ জন পুরুষের একটি দল উঠে আমাকে কুনজরে দেখল এবং বিমানের পিছনের দিকে চলে গেল। ফ্লাইট অবতরণ করার পর এবং দরজা খোলার আগেও তারা ওই কাজটি করল এবং সেটির ভিডিয়ো-ও করল। এটি কোনও ‘নাগরিক উষ্মা’ নয়, এটি হয়রানি এবং একটি বিমানের মধ্যে আমার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা। কোনও ভাবেই এই অসভ্য লোকগুলিকে বিমানের ভিতরে এই হয়রানি করে পার পেয়ে যেতে দেওয়া যায় না।’’
সংশ্লিষ্ট বিমান পরিচালনাকারী সংস্থা ‘ইন্ডিগো’ কর্তৃপক্ষকে ওই পোস্টে ট্যাগ করে মহুয়ার আবেদন, ‘‘আপনাদের ক্রুদের রিপোর্ট খুঁজে বার করুন, এঁদের (অভিযুক্ত সহযাত্রী) পরিচয় প্রকাশ করুন এবং নো-ফ্লাই তালিকায় রাখুন।’’ বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহনের পাশাপাশি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব এবং আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরীবাল, ডিএমকে নেতা এমকে স্ট্যালিনকেও পোস্টে ট্যাগ করেছেন মহুয়া।
পরের পোস্টে মহুয়া লিখেছেন, ‘‘এটাই বিজেপির সংস্কৃতি। এতে কেউ অবাক হচ্ছেন কেন? আমি এটি উপেক্ষা করে বিমানবন্দর থেকে বৈঠকে যোগ দিতে চলে গিয়েছিলাম। তার পর লোকজন আমাকে সেই ভিডিয়োটা ফরওয়ার্ড করল যেটা সঙ্ঘীরা (আরএসএস) ভাইরাল করছিল। তখনই আমি বিষয়টা প্রকাশ্যে তুললাম। ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ আমাকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে বলেছেন। এখন সেটাই করছি।’’ মহুয়ায় পোস্ট করা ‘বিমানের অন্দরের ভিডিয়ো’তে (আনন্দবাজার ডট কম যার সত্যতা যাচাই করেনি) ‘চোর-চোর’, ‘টিএমসি চোর’, ‘পিসি চোর’, ‘ভাইপো চোর’, ‘তৃণমূলের সব চোর’, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানও শোনা গিয়েছে!