Advertisement

বামকে অস্বস্তিতে ফেলে নালিশ খারিজ কমিশনে

শেষ দফার ভোটের আগে পূর্ব মেদিনীপুরের এক তৃণমূল সাংসদ ও ৭টি থানার ওসি-র গোপন বৈঠকের অভিযোগ খারিজ করে দিল নির্বাচন কমিশন। জেলা সিপিএমের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে মঙ্গলবার আলিমুদ্দিনে রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে দলের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র অভিযোগ করেছিলেন, গত ১ মে মধ্যরাতে জেলার ৭ জন ওসি-কে নিয়ে পাঁশকুড়ার বনমালী কলেজে বৈঠক করেছেন এক সাংসদ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০১৬ ০৪:৪৬

শেষ দফার ভোটের আগে পূর্ব মেদিনীপুরের এক তৃণমূল সাংসদ ও ৭টি থানার ওসি-র গোপন বৈঠকের অভিযোগ খারিজ করে দিল নির্বাচন কমিশন। জেলা সিপিএমের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে মঙ্গলবার আলিমুদ্দিনে রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে দলের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র অভিযোগ করেছিলেন, গত ১ মে মধ্যরাতে জেলার ৭ জন ওসি-কে নিয়ে পাঁশকুড়ার বনমালী কলেজে বৈঠক করেছেন এক সাংসদ। যিনি এ বার প্রার্থীও বটে। তাঁর ইঙ্গিত ছিল নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর দিকে। দলের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে কমিশনের কাছে লিখিত ভাবেও ওই অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে রিপোর্ট নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, সূর্যবাবুদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাই ৭ ওসি-কে সরিয়ে দেওয়ার কোনও প্রশ্ন ওঠে না।

লম্বা নির্বাচন-পর্বের মধ্যে শেষ দফার ভোটের আগে সিপিএম এমন ‘ভিত্তিহীন’ অভিযোগ করে কেন নিজেদের মুখ পোড়াল, তা নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে। সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের মতে, অভিযোগটি গুরুতর সন্দেহ নেই। কিন্তু এমন একটি অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খোলা ও কমিশনে অভিযোগ জানানোর আগে আরও নিশ্চিত হওয়া দরকার ছিল। বিশেষত, জেলার পাঠানো এমন একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ রাজ্য নেতৃত্বের ভাল করে খতিয়ে দেখে প্রমাণযোগ্য কিছু তথ্য হাতে রাখা উচিত ছিল। তা হলে শেষ লগ্নে এসে এ ভাবে বিড়ম্বনায় পড়তে হতো না!

সূর্যবাবুর অভিযোগ শুনেই মঙ্গলবার শুভেন্দু বলেছিলেন, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের মাথার ডাক্তার দেখানো উচিত! কমিশন অভিযোগ খারিজ করে দেওয়ার পরে তিনি এ বার ইঙ্গিত দিয়েছেন, সূর্যবাবুর বিরুদ্ধে আইনি নোটিস পাঠানো হবে। আদালতে লড়াইয়ের প্রস্তুতির জন্য সূর্যবাবুও আইনজীবীদের পরামর্শ নিচ্ছেন। তার আগে এ দিন তিনি কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে সূর্যবাবুর ঘনিষ্ঠ রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের কথায়, ‘‘বৈঠকের খবর নিয়ে কোনও সংশয় নেই। তবে পরে বোঝা গিয়েছে, তথ্যে কিছু গরমিল থেকে যেতে পারে। শেষ দফার ভোট চলাকালীন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার প্রশ্ন তুলতে চাইছি না।’’

সিপিএমের একটি সূত্রের খবর, ওসি-দের সঙ্গে তৃণমূল সাংসদের বৈঠকের যে জায়গার কথা আলিমুদ্দিনকে জানানো হয়েছিল, তাতেই সম্ভবত ভুল ছিল। কমিশন জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে রিপোর্ট চাইতেই তারা ওই দিন ওই জায়গায় কোনও বৈঠক হয়নি বলে জানিয়ে দিয়েছে। দলের মধ্যে তাই প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্য সম্পাদকের হাতে তুলে দিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে পাঠানোর আগে রাজ্য নেতৃত্বের তরফে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ভারপ্রাপ্ত নেতারাই বা তথ্য খতিয়ে দেখেননি কেন? এমনকী, যে সব ওসি-র নাম জড়ানো হয়েছে, তাঁদের কয়েক জনের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় সিপিএম নেতাদেরও অভিযোগ নেই! তাঁদের কারও কারও নাম এ ভাবে সামনে চলে আসায় স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশও বিস্মিত ও বিব্রত! পূর্ব মেদিনীপুরের ভারপ্রাপ্ত সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রবীন দেব অবশ্য বুধবার বলেছেন, ‘‘খবর আমাদের কাছে এসেছিল। খবরের সূত্র তো প্রকাশ করা যায় না! তবে কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংঘাতে যেতে চাই না। পূর্ব মেদিনীপুরের ভোটে পুলিশের
ভূমিকা আগের দুই দফার মতো থাকে কি না, দেখলেই সব বোঝা যাবে।’’

প্রসঙ্গত, দিল্লিতে এ দিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নসীম জৈদীর সঙ্গে দেখা করে কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য, দীপা দাশমুন্সি, অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় ও আবু হাসেম খান চৌধুরী পূর্ব মেদিনীপুরের ওই সাংসদ ও একাধিক ওসি-কে নিয়ে একই অভিযোগ জানিয়েছেন। কোচবিহারে ভোটের আগে চালসায় উপস্থিত থেকে শাসক দলের এক বড় মাপের নেতা পুলিশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলেও তাঁদের অভিযোগ। কংগ্রেস সূত্রের দাবি, যে থানার ওসি-দের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, ভোটের দিন তাঁদের গতিবিধি নজরে রাখবেন কমিশনের প্রতিনিধিরা।

সূর্যবাবুদের অভিযোগ শুনে মঙ্গলবার রাতেই প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়েছিল। পুলিশের বক্তব্য ছিল, বনমালী কলেজে ১ মে বিকেলেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘাঁটি গাড়ে। তাদের নাকের ডগায় ওসি-দের নিয়ে সেখানে সাংসদ বৈঠক করেছেন— এটা বিশ্বাসযোগ্য তথ্য নয়। এই প্রেক্ষিতেই তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘আষাঢ়ে গল্প ফেঁদে পুলিশের মধ্যে প্রভাব খাটানোর অপচেষ্টা করছেন সূর্যবাবুরা!’’ তবু কমিশন জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট তলব করে। রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী অফিসার দিব্যেন্দু সরকার এ দিন বলেন, ‘‘আমাদের নির্বাচনী অফিসার (এ ক্ষেত্রে জেলাশাসক) যে রিপোর্ট দিয়েছেন, তাতেই অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলা হয়েছে।’’ কমিশন সূত্রের খবর, জেলা প্রশাসন খোঁজখবর করে দেখেছে, ১ মে রাতে ওই ওসি-রা বাড়িতে বা নিজের এলাকায় ছিলেন। শুভেন্দুও সেই সময় বাড়িতে ছিলেন বলে জেলা প্রশাসনের খবর।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy