ভোটারদের প্রভাবিত করতে সোমবার রাতে হুগলির তিন জায়গায় বিজেপির বিরুদ্ধে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। তবে কোনও জায়গাতেই অভিযোগের সত্যতা মেলেনি বলে পুলিশ জানানোয়, তৃণমূলের উদ্দেশ্য নিয়ে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস।
সোমবার রাত রাত ৮টা নাগাদ চুঁচুড়ার বিজেপি প্রার্থী সুবীর নাগের ব্যান্ডেলের নির্বাচনী কার্যালয় থেকে টাকা বিলির অভিযোগ ওঠে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যায়। পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। সুবীর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।
রাত ১১টা নাগাদ বলাগড়ের সোমরা ২ পঞ্চায়েতের বালিগোড়িতে টাকা বিলির অভিযোগে বিজেপির দু’টি গাড়ি আটকে পুলিশে খবর দেন তৃণমূলের লোকেরা। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িতে আপত্তিজনক কিছু মেলেনি। তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন ধারার দাবি, ‘‘পরিস্থিতি বুঝে ওরা টাকা সরিয়ে ফেলে।’’ বিজেপি প্রার্থী সুমনা সরকারের মন্তব্য, ‘‘হারার ভয়ে তৃণমূল এ সব করছে। পুলিশের তল্লাশির পরেও কোলড়া মোড়ের কাছে একটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’’ অভিযোগ মানেনি তৃণমূল।
ওই রাতেই শ্রীরামপুরের রাজ্যধরপুরে একটি মন্দিরের সামনে বিজেপি প্রার্থী ভাস্কর ভট্টাচার্যের গাড়ি আটকে টাকা বিলির অভিযোগে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মীরা। পুলিশ ও আধা-সেনা গিয়ে পরিস্থিতি সামলায়। তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষের দাবি, ‘‘টাকা বিলির প্রমাণ আছে। নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে।’’ অভিযোগ উড়িয়ে ভাস্কর বলেন, ‘‘হার বুঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তৃণমূল। আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধরের চেষ্টা করে ওরা।’’ তাঁর দাবি, তিনিই পুলিশকে বলে গাড়িতল্লাশি করান। টাকা ছিল না। তৃণমূলের মিথ্যাচার প্রমাণিতহয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষ পুলিশকে লিখিত ভাবে জানিয়েছেন, ভাস্কর পুজো দিতে গিয়েছিলেন। কোনও টাকা দেননি।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা শ্রীরামপুরের প্রার্থী শুভঙ্কর সরকারের কটাক্ষ, ‘‘ভোটের মুখে অনুন্নয়ন নিয়ে যাতে চর্চা না হয়, সে জন্য মানুষকে বিভ্রান্ত করতে তৃণমূল-বিজেপির বোঝাপড়াতেই এমন ঘটনা।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)